ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আগামী আইপিএলে মুস্তাফিজুর রহমানকে খেলাতে পারবেন না কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বাংলাদেশের পেসারের পরিবর্ত ক্রিকেটার নিতে পারবেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। শনিবার মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরি বিকল্প ক্রিকেটারের খোঁজ শুরু করে দিয়েছেন বেঙ্কি মাইসোরেরা।
মুস্তাফিজুরের পরিবর্ত হিসাবে কেকেআর কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছেন পাঁচ ক্রিকেটার। কেকেআর কর্তৃপক্ষ মূলত এক জন জোরে বোলার নিতে চাইছেন দলের ভারসাম্য অটুট রাখতে। সেই মতোই বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। অলরাউন্ডারদের দিকেও নজর রয়েছে।
ঝাই রিচার্ডসন
কলকাতার নজরে রয়েছেন ঝাই রিচার্ডসন। অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলারের আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে দু’টি দলের হয়ে। ২০২১ সালে পঞ্জাব কিংসের হয়ে তিনটি এবং ২০২৪ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছেন। ২৯ বছরের ক্রিকেটারের হাতে রয়েছে স্লোয়ার এবং ইয়র্কার। নতুন বলে বল করতে পারেন। আবার ডেথ ওভারেও কার্যকর। নিলামে নাম থাকলেও রিচার্ডসনকে দলে নেয়নি কোনও দল।
অভিনব মনোহর
বিদেশিদের পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটারেরাও রয়েছেন কেকেআরের নজরে। কর্নাটকের ব্যাটিং অলরাউন্ডার অভিনব মনোহরকে নিতে পারে কেকেআর। লেগ স্পিন করতে পারলেও তাঁকে মূলত ব্যাটার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। গত চার বছর ধরে আইপিএল খেলছেন। প্রথম তিন বছর গুজরাত টাইটান্স এবং গত বছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩১ বছরের মনোহরের স্ট্রাইক রেট ১৪৩.০৮। মিডল অর্ডারের শক্তি বৃদ্ধির জন্য তাঁকে নেওয়া হতে পারে।
মাইকেল ব্রেসওয়েল
নিউ জ়িল্যান্ডের অলরাউন্ডারও রয়েছেন কেকেআর কর্তৃপক্ষের নজরে। ২০২৩ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে আইপিএল খেলেছেন। পাঁচ ম্যাচে ৬ উইকেট নেন। এ বারের নিলামে তাঁকে কোনও দল নেয়নি। বাঁ হাতে ব্যাট করেন। ডান হাতে অফ স্পিন করেন। আবার প্রয়োজনে উইকেট রক্ষাও করেন। গত চার বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৪৫। ২৫.২০ গড়ে ৯৬টি উইকেট নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ২৯টি ম্যাচে ২৩টি উইকেট নিয়েছেন। ব্রেসওয়েলকে ২০ ওভারের ক্রিকেটে বেশ কার্যকরী হিসাবে বিবেচিত করা হয়।
জেরাল্ড কোয়েৎজ়ি
কেকেআর কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডারও। আইপিএলে ১৪টি ম্যাচে ১৫টি উইকেট রয়েছে তাঁর। বলের গতি যথেষ্ট ভাল। হাতে রয়েছে ইয়র্কার। ডেথ ওভারে খারাপ বল করেন না। ব্যাটের হাত খারাপ নয় ২৫ বছরের ক্রিকেটারের। ২০২৪ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং ২০২৫ সালে গুজরাতের হয়ে খেলেছেন। এ বারের নিলামে দল পাননি কোয়েৎজ়ি।
স্পেনসার জনসন
গত বছর কেকেআরের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জোরে বোলার। এ বার নিলামে দল পাননি। তাঁক দিকেও নজর রয়েছে অভিষেক নায়াকদের। জনসন কেকেআরের পরিবেশ জানেন। দলের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে সফল হলেও আইপিএলে অবশ্য নজরকাড়া কিছু করতে পারেননি। বলের গতি ভাল। চেনা জনসনকেও কেকেআর নিতে পারে মুস্তাফিজুরের পরিবর্ত হিসাবে।
আরও পড়ুন:
পরিবর্ত ক্রিকেটার নেওয়ার ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি কেকেআর কর্তৃপক্ষ। আরও কয়েক জন ক্রিকেটার রয়েছেন ভাবনায়। সামনেই রয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সে দিকে নজর থাকবে শাহরুখ খানের দলের। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশি জোরে বোলারের পরিবর্ত খুঁজে নিতে পারে কেকেআর।