টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ভারত জিতলেও ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। একমাত্র সূর্যকুমার যাদব ছাড়া আর কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যান ওয়াংখেড়ের বাইশ গজে সামলাতে পারেননি আমেরিকার বোলারদের।
ম্যাচের পরে সূর্য বলে যান, ‘‘ওয়াংখেড়ের এই পিচটা একটু অন্য রকম ছিল। কিন্তু সেটা যে হতে পারে, সেটা বোঝা গিয়েছিল। সকালে দেখছিলাম, রোদ খুব কম।’’ সূর্য স্বীকার করেছেন, ‘‘৭৭ রানের মধ্যে যখন ছ’উইকেট পড়ে যায়, তখন যা চাপে ছিলাম, তা আমার চেয়ে বেশি কে জানবে? পিচের কথা মাথায় রেখেও বলব, আমাদের আরও ভাল ব্যাটিং করা উচিত ছিল।’’
খাদের কিনারায় থাকা দলকে বাঁচান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তাঁর ৮৪ রানের ইনিংস টেনে তোলে ভারতকে। অধিনায়ক জানিয়েছেন, পিচ দেখার পরে কোচ গৌতম গম্ভীর তাঁকে একটা পরামর্শ দিয়েছিলেন। যেটা মাথায় রেখে ব্যাট করে যান সূর্য। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, এক জন ব্যাটসম্যানকে শেষ পর্যন্ত খেলতে হয়। পিচ দেখে আমার মনে হয়েছিল, এটা ১৮০-১৯০ রানের পিচ নয়। ১৪০ রানের পিচ।’’ সূর্য আরও বলেন, ‘‘১৪ ওভারের পরে বিরতিতে আমার সঙ্গে গৌতি ভাইয়ের কথা হয়। কোচ বলেছিল, ‘শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে যাও তুমি। পরের দিকে ঠিক দ্রুত রান তুলে দিতে পারবে।’ আমিও সেই মতো ব্যাট করে যাই।’’
এই ম্যাচে প্রত্যাবর্তন ঘটে পেসার মহম্মদ সিরাজের। যাঁকে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। হর্ষিত রানা চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়ায় সিরাজকে সুযোগ দেওয়া হয় বিশ্বকাপ দলে। এই ভাবে যে তিনি সুযোগ পাবেন, তা ভাবেননি সিরাজ। ভারতীয় পেসার ঠিক করে নিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি কী করবেন। রঞ্জি ট্রফি থেকে হায়দরাবাদ বিদায় নেওয়ায় আইপিএলের আগে আর মাঠে নামার ব্যাপার ছিল না সিরাজের। তিনি ঠিক করেছিলেন এই সময়টা বিশ্রাম করবেন আর ছুটি কাটাবেন। সিরাজ ঠিক করে রেখেছিলেন, স্পেনে গিয়ে লা লিগায় তাঁর প্রিয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখবেন। কিন্তু বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার খবরটা সব পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে এসে সিরাজ বলে যান, ‘‘আমি ঠিক করে রেখেছিলাম, ১৫ তারিখ রিয়াল মাদ্রিদের যে ম্যাচটা আছে, সেটা দেখতে যাব। তারপরে হয়তো কয়েকটা দিন ছুটি কাটাতাম। কিন্তু পুরো ছবিটা বদলে গেল।’’ প্রায় ২০ মাস পরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরলেন সিরাজ। আর ফিরেই সোজা মাঠে। যশপ্রীত বুমরা অসুস্থ থাকায় মাঠে নামতে পারেননি। তাঁর জায়গায় নামেন সিরাজ। আর নেমে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের ভাগ্যে প্রভাব ফেলে যান।
সিরাজ আরও বলেছেন, ‘‘ব্যাপারটা সোজা ছিল না। প্লেনে আসতে আসতে মনে হচ্ছিল, স্বপ্ন দেখছি। কখনও ভাবিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলব। গত এক বছরে ভাবনাটা ছিল, যারা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলছে, তাদের মধ্যে থেকেই বিশ্বকাপের দল বেছে নেওয়া হবে।’’ যোগ করেন, ‘‘কিন্তু ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলছিলাম না আমি। তাই বিশ্বকাপ খেলার আশা করিনি। কিন্তু ভাগ্যে ছিল বিশ্বকাপ খেলব।’’
ম্যাচের পরে সাংবাদিকদের ভারতীয় অলরাউন্ডার অক্ষর পটেল বলেছেন, ‘‘ওয়াংখেড়ের পিচ সাধারণত ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করে। প্রথম দু’-তিন ওভারের পরেই আমরা বুঝে যাই, রান কত উঠতে পারে। পিচের চরিত্র দেখে আমরা একটু অবাকই হয়েছিলাম। তবে এটা জানতাম, আমাদের এক জন ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়ে গেলেই ১৪০ রানের উপরে স্কোর নিয়েযেতে পারবে।’’
আমেরিকার বিরুদ্ধে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরে ভারতীয় দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন সুনীল গাওস্কর। প্রাক্তন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান স্টার স্পোর্টসে বলেছেন, “প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ারপ্লে-তে আগ্রাসী ভাবে রান করার অনেক সুযোগ থাকে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তুমি চার উইকেট হারাবে। মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক দলই মরিয়া হয়ে খেলতে নামে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)