Advertisement
E-Paper

দোলাচলের ধূসরতা নয়, স্থায়ী সম্পর্কের নির্ভরতা পেতে চাইছে নতুন প্রজন্ম, দাবি সমীক্ষায়

আধুনিক যুগের প্রেম মানে নাকি নিশ্চিত ভাবে সম্পর্কে থাকা অথবা একেবারেই না থাকা। দোলাচলের প্রতি আসক্তি কাটছে ধীরে ধীরে। এবং তা লিঙ্গ নির্বিশেষে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৯
প্রেম করার ধারায় পরিবর্তন।

প্রেম করার ধারায় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত।

এক সময়ে ধূসরতাই ছিল প্রেমে আধুনিকতার সংজ্ঞা। অধরা, অনিশ্চয়তাই রোমাঞ্চকর ছিল অনেকের কাছে। কিন্তু ‘আধুনিক’ শব্দের সংজ্ঞাই যে দ্রুত বদলাতে থাকে। এই সংজ্ঞা বুঝি ফের বদলেছে। ধূসরতা কাটিয়ে সূর্যের মুখ দেখতে পাওয়াই নাকি আধুনিক প্রেম! ভারতের এক ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া কিছু তথ্য থেকে এমনই ধারণা করা যেতে পারে। সমীক্ষায় দাবি, আপাতত আধুনিক যুগের প্রেম মানে নাকি নিশ্চিত ভাবে সম্পর্কে থাকা অথবা একেবারেই না থাকা। দোলাচলের প্রতি আসক্তি কাটছে ধীরে ধীরে। এবং তা লিঙ্গ নির্বিশেষে।

এক দিকে যখন অনিশ্চয়তা, অগভীরতার নতুন নতুন ইংরেজি নামকরণ হচ্ছে (ন্যানোশিপ, বেঞ্চিং, সিচুয়েশনশিপ, রোচিং), তখন এই সমস্ত কিছুকে অস্বীকার করে প্রেমের নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে।

স্থায়িত্বের দিকে ঝুঁকছেন যুগলেরা।

স্থায়িত্বের দিকে ঝুঁকছেন যুগলেরা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন শহরের তরুণ-তরুণীরা এখন আবার সম্পর্ককে গভীর এবং স্থায়ী বোঝাপড়ার জায়গা থেকে দেখছেন। এক সময়ে যা শুধু ‘ফ্লিং’ বা হালকা চালে প্রেম হিসেবে দেখা হত, আজ আর তা নেই। মানসিক নিরাপত্তার ভিত্তিতে সম্পর্ককে দেখা হচ্ছে এখন। যদি সেটির অস্তিত্ব না থাকে, তা হলে সেই সম্পর্কেরও অস্তিত্ব থাকছে না। জেনারেশন জ়েড অন্তত তেমন ভাবেই ভাবছে। সম্পর্কে মানসিক শান্তি না পেলে ৬৭ শতাংশ জেন জ়ি মহিলা সম্পর্ক ভেঙে দিতে রাজি।

অন্য দিকে মিলেনিয়ালদের (জেনারেশন জ়েড-এর ঠিক আগের প্রজন্ম) মধ্যে বিবাহচিন্তার লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। গড়ে তাঁদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জন হালকা চালের ডেটিংয়ের চেয়ে গভীর সম্পর্কে জড়িত হতে চাইছেন। আবার গড়ে তিন জনের মধ্যে এক জন প্রেমের এক বছরের মধ্যে বিয়েও করতে চাইছেন। সামগ্রিক ভাবে দেখলে, ৯৭ শতাংশ মহিলা গভীর সম্পর্কের পক্ষপাতী। ৮০ শতাংশ পুরুষও এমন সম্পর্কে জড়াতে চাইছেন। তবে পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যাটি ৮৮ শতাংশে পৌঁছে যাচ্ছে। কারণ বয়স বাড়লেই ধূসরতা, রোমাঞ্চের নেশা বুঝি কেটে যাচ্ছে।

সম্পর্ককে আরও স্থায়ী করে তোলার দিকে ঝোঁক বেড়ে চলেছে। ফ্যাশন দুনিয়ায় যে ভাবে পুরনো প্রথা ফিরে আসে মাঝেমধ্যে, তার সঙ্গে কিন্তু এই বিষয়টি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। আজকের সম্পর্কগুলি স্থায়িত্বের কথা ভাবলেও তা ‘ওল্ড ফ্যাশন’ নয় মোটেই। এ অনেকটা নতুন রকমের বোঝাপড়া। অপরের অনুভূতিকে গুরুত্ব এবং নিজের মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্যই সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। শুধু এক সঙ্গে থাকা নয়। একই সঙ্গে বন্ধুত্ব, কথোপকথন, সহানুভূতি, সহমর্মিতার ভারসাম্য খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এখন। আগেকার স্থায়ী সম্পর্কের থেকে খানিক যেন আলাদা।

তবে এই পরিবর্তন ঠিক কোনও বিদেশি ধারার অনুকরণ নয়। বরং ভারতীয় তরুণ-তরুণীরা নিজেরাই নিজেদের জীবনের লক্ষ্য, পেশা এবং সম্পর্কের মানসিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে সচেতন। আর সেখান থেকেই স্থায়ী বন্ধন খোঁজার পথে এগোচ্ছেন তাঁরা। এই ধারায় ফের বদল আসতে পারে, আবার না-ও পারে। কিন্তু আপাতত তাঁরা সম্পর্কে স্থায়িত্ব চাইছেন।

Relationship Trends dating
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy