দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলতে আর দেখা যাবে না তাঁকে। এমনই একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল কিছু দিন আগে। যদিও পাকিস্তানের ক্রিকেটার ফখর জ়মান স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। দেশের হয়ে দু’বছর পরের বিশ্বকাপ খেলতে চান। পাকিস্তান ছেড়ে পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকার সিদ্ধান্তও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে ফখর বলেছেন, “বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে এখন অবসর নেওয়ার কোনও ইচ্ছাই নেই। আমি মাথা উঁচু করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটজীবন শেষ করতে চাই।”
তার আগের দিনই ফখরের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র বলেছিলেন, “ফখর মোটেই অবসর নিচ্ছে না। পাকিস্তান বোর্ডকে সে কথা জানিয়েও দিয়েছে। পাকিস্তান ছেড়েও কোথাও যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেছিলেন, “২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার জন্য ফখর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নিজের ফিটনেস নিয়েও পরিশ্রম করছে। তার আগে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলতেও মরিয়া ফখর।”
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সুপার লিগের ম্যাচে বল বিকৃত করে সম্প্রতি দু’ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছেন ফখর। আবেদন করলেও তাঁর শাস্তি কমেনি।
নানা বিতর্কে জর্জরিত পিসিবি কর্তারা এ ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব নিয়ে চলতে চাইছেন। সেই মতো পিএসএলের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যেরা পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামার শাস্তির সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন। ফলে লাহৌর কলন্দর্সের হয়ে পিএসএলের দু’টি ম্যাচ খেলতে পারবেন না ফখর।
পিসিবি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘সমস্ত প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। সব কিছুর পর টেকনিক্যাল কমিটি ফখর জ়মানের শাস্তি বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আচরণবিধি অনুসারে পিএসএল টেকনিক্যাল কমিটির যে কোনও সিদ্ধান্তই এই বিষয়ে চূড়ান্ত এবং সঠিক বলে গণ্য করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকলে সিদ্ধান্ত মেনে চলতে বাধ্য।’’
পিএসএলের লাহৌর কলন্দর্স বনাম করাচি কিংস ম্যাচে বল বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে করাচির দরকার ছিল ১৪ রান। সেই ওভার শুরুর আগে লাহৌরের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি, হ্যারিস রউফ এবং ফখর একসঙ্গে আলোচনা করছিলেন। তাঁদের কাছেই ছিল বল। বলটি নিয়ে তাঁরা একে অপরকে দিচ্ছিলেন। সকলেই হাতের তালুতে লুকিয়ে রাখছিলেন বল।
বিষয়টি দেখে সন্দেহ হয় ম্যাচের অন্যতম আম্পায়ার ফয়জ়ল আফ্রিদির। তিনি বল চেয়ে নেন। অন্য আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার সঙ্গে আলোচনা করেন। বল দেখে তাঁদের মনে হয়, সেটি বিকৃত করা হয়েছে। দুই আম্পায়ার বল পরিবর্তন করেন এবং করাচিকে ৫ রান দেন পেনাল্টি হিসাবে। এই ঘটনার রিপোর্ট ম্যাচ রেফারি মহানামাকে দেন দুই আম্পায়ার।
রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার ফুটেজ দেখে মহানামা শুনানিতে ডেকে পাঠান ফখরকে। সেখানে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন পাক ব্যাটার। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
আরও পড়ুন:
তা-ও মহানামা তাঁকে পিএসএলের আচরণবিধির ২.১৪ ধারা অনুযায়ী ‘লেভেল থ্রি’ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁকে দু’টি ম্যাচের জন্য নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেন মহানামা। পিএসএল টেকনিক্যাল কমিটির কাছে এই শাস্তি মকুবের আর্জি জানিয়ে ছিলেন ফখর।