বায়ুসেনার প্রশিক্ষণে ভরসা ইসলামাবাদ! অতীত ভুলে ‘বিষাক্ত সাপ’ গলায় জড়াচ্ছে বাংলাদেশ? কতটা চিন্তায় ভারত?
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশ সফর করেছে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পদস্থ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল। আগামী দিনে ঢাকার বায়ুসেনাকে প্রশিক্ষণ দেবে ইসলামাবাদ? তাঁদের সফরে সেই জল্পনা তীব্র হতেই নয়াদিল্লির কপালে ফুটে উঠছে চিন্তার রেখা।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে এ বার প্রশিক্ষণ দেবে পাকিস্তান? ইসলামাবাদ বায়ুসেনার প্রতিনিধি দল ঢাকাসফরে যেতেই বাড়ছে সেই জল্পনা। শুধু তা-ই নয়, চিনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রাওয়ালপিন্ডির তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ লড়াকু জেট আমদানিতে সবুজ সঙ্কেত দিতে পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক জ়িয়ার প্রশাসন। পদ্মাপারের সরকারের এ-হেন আচরণে ভারতের অস্বস্তি যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখলেও কোনও বিবৃতি দেয়নি নয়াদিল্লি।
চলতি বছরের ১১ মে, সোমবার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশে পা রাখে পাক বিমানবাহিনীর সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামাবাদ বায়ুসেনার স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল ঔরঙ্গজ়েব অহমদ। ঢাকা বিমানবাহিনীর পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে প্রথম বার বৈঠক করেন তাঁরা। বৈঠক শেষ হতেই একাধিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে দু’তরফের আলোচনার বিষয়বস্তুকে প্রকাশ্যে আনে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদসংস্থা ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উন্নত যুদ্ধবিমান চালানোর প্রশিক্ষণের জন্য আগামী দিনে বিমানবাহিনীর পাইলট এবং কারিগরি কর্মকর্তাদের (টেকনিক্যাল স্টাফ) পাকিস্তানে পাঠাবে ঢাকা। সেখানে অত্যাধুনিক লড়াকু জেট ওড়ানো, মাঝ-আকাশের কসরত ও লড়াই এবং সামরিক বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের পাঠ নেবেন তাঁরা। এর পুরোটাই সারগোদার মুসাফ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সূত্রের খবর, বিমানবাহিনীর পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত চুক্তিটি খুব দ্রুত পাকিস্তানের সঙ্গে সেরে ফেলতে চাইছে বাংলাদেশ। সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছরের মে মাসের মধ্যেই তাতে সিলমোহর দিতে পারে দুই পক্ষ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ঢাকায় নোবলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার থাকাকালীনই বায়ুসেনার প্রশিক্ষণের ব্যাপারে ইসলামাবাদের দ্বারস্থ হয় ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী। এর জেরে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা।
বাংলাদেশের আর একটি গণমাধ্যম ‘কালের দিগন্ত’ আবার জানিয়েছে, গত বছরের (২০২৫ সাল) নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে পাক বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিঁধুর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন বাংলাদেশ বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেন তাঁরা। পরে এ ব্যাপারে নীতিগত সম্মতির বিষয়টি সরকারকে জানিয়ে দেন হাসান মাহমুদ।
আরও পড়ুন:
এ বছরের জানুয়ারিতে ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ লড়াকু জেট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে পাক প্রশাসন। ইসলামাবাদ জানায়, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিমানটি কেনার ব্যাপারে আগ্রহী বাংলাদেশ। দুবাইয়ে জাহির-হাসান বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে একপ্রস্ত আলোচনায় চালায় ঢাকা। তা অস্বীকার করেনি পদ্মাপারের কোনও গণমাধ্যম। তবে আগামী দিনে ওই লড়াকু জেটের কতগুলি বাংলাদেশ বায়ুসেনার বহরে শামিল হবে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।
সাড়ে চার প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’-এর মূল নকশা তৈরি করেছে চিন। হালকা ওজনের জেটটির নির্মাণকারী সংস্থা হল বেজিঙের ‘চেংডু এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশন’ বা সিএসি। ড্রাগনভূমির সঙ্গে হাত মিলিয়ে আকাশযুদ্ধের এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’টির উৎপাদন শুরু করেছে ‘পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেস’ (পিএসি)। বর্তমানে জেটটির ৫৮ শতাংশ নির্মাণকাজ হচ্ছে ইসলামাবাদে। বাকি ৪২ শতাংশের ঠিকানা মান্দারিনভাষীদের কারখানা।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠিত হওয়ার পরও ইসলামাবাদের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিল ঢাকা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের জেরে পদ্মাপারে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ভারতের পূর্বের প্রতিবেশী দেশটিতে তৈরি হয় রাজনৈতিক অস্থিরতা। ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়ে হাল ধরেন নোবেলজয়ী ইউনূস। তাঁর হাত ধরে পাকিস্তান-বাংলাদেশ নতুন করে কাছাকাছি এসেছে বললে অত্যুক্তি হবে না।
অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইউনূস। সূত্রের খবর, তাঁর আমলে ঢাকায় বৃদ্ধি পায় ইসলামাবাদের সেনাকর্তা এবং গুপ্তচরবাহিনী আইএসআইয়ের (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) আনাগোনা। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে পদ্মাপারের কুর্সি দখল করেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপির প্রধান তারেক জ়িয়া। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নয়াদিল্লির সঙ্গে কিছুটা উন্নত হয় পূর্বের প্রতিবেশীর সম্পর্ক।
আরও পড়ুন:
তারেক ক্ষমতা দখলের পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পাশাপাশি, ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত করে বাঙালি সংস্কৃতিমনস্ক দীনেশ ত্রিবেদীকে পাঠান তিনি। কিন্তু, গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জিততেই তাল কাটে সেই মধুচন্দ্রিমার। কারণ, ভোটে জিতে সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতারের বেড়া দিতে ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঢাকা যে খুব ভাল চোখে দেখেছে, এমনটা নয়। ভোটের ফল ঘোষণার দিনই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মুখ খোলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বলেন, ‘‘ও পার বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের জেরে পুশ ইন-এর ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেবে ঢাকা।’’ সঙ্গে সঙ্গে এ ব্যাপারে পাল্টা বিবৃতি দেয় নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়ে দেন, অনুপ্রবেশ এবং ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।
ঢাকা-বাংলাদেশ সম্পর্কে সবচেয়ে বড় কাঁটা হল অনুপ্রবেশ। এর নেপথ্যে রয়েছে দেশভাগের যন্ত্রণা, স্বাধীনতার সময় যাকে কেন্দ্র করে লাগাতার হিংসার ঘটনা ঘটে অধুনা বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। ফলে পশ্চিমবাংলা, অসম ও ত্রিপুরায় আশ্রয় নেন লাখ লাখ শরণার্থী। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে কোনও সুনির্দিষ্ট সীমান্ত না থাকায় প্রাণভয়ে এ পারে আসতে থাকেন বহু মানুষ। তাঁদের সিংহভাগই ছিল হিন্দু।
১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষায় জন্ম হয় ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স’ বা বিএসএফ নামের একটি আধা সামরিক বাহিনীর। কিন্তু তাতেও পূর্ব সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানে দানা বাঁধে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, যা বুটের নীচে পিষে দিতে ১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকা-সহ আজকের বাংলাদেশে সেনা নামায় ইসলামাবাদ। শুরু হয় ভয়ঙ্কর এক দমনমূলক অভিযান, নাম ‘অপারেশন সার্চলাইট’।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের কুর্সিতে তখন সেনাশাসক ইয়াহিয়া খান। তাঁর নির্দেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে আজকের বাংলাদেশে গণহত্যা চালান লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান। ফলে ১৯৪৭ সালের মতো ফের এক বার সীমান্ত পেরিয়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণভয়ে আশ্রয় নেন ভারতের এই তিন রাজ্যে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কেউ কেউ আবার ছড়িয়ে যান দেশের অন্যান্য প্রান্তে। ফলে আরও জটিল হয় পরিস্থিতি।
পূর্ব পাকিস্তান থেকে এ ভাবে বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং ত্রিপুরায় ঢুকে পড়ায় আতান্তরে পড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পরিস্থিতির মোকাবিলায় বার বার পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। যদিও তাতে কোনও ফল হয়নি। ফলে বিরক্ত নয়াদিল্লি ধীরে ধীরে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ইসলামাবাদের বিমানবাহিনী আক্রমণ চালালে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বেধে যায় সংঘর্ষ। মাত্র ১৩ দিনের ওই লড়াইয়ে এ দেশের বাহিনীর হাতে পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয় ইয়াহিয়ার সেনা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের সামনে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের ৯৩ হাজার সৈনিককে যুদ্ধবন্দি করে এ দেশের ফৌজ। শুধু তা-ই নয়, লড়াই শেষে ইয়াহিয়ার দেশকে দু’টুকরো করে দেন নয়াদিল্লির তৎকালীন সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল স্যাম মানেক্শ। পূর্ব দিকের অংশটি স্বাধীন বাংলাদেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও সংঘর্ষ বন্ধ হওয়ার পর এখানে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ঢাকায় ফেরানোর ব্যবস্থা করেননি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। ফলে তাঁদের সিংহভাগই রয়ে যান ভারতে।
বাংলাদেশের জন্মের পর বেআইনি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে বলে আশা করেছিল নয়াদিল্লি। যদিও বাস্তবে তা হয়নি। উল্টে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বেলাগাম হয়ে ওঠে গরু পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজকর্ম। যুদ্ধ-পরবর্তী বছরগুলিতে কিছু কিছু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেয় বিএসএফ। তাতে প্রাথমিক ভাবে কিছুটা অনুপ্রবেশ হ্রাস পেলেও পরে ফের ঊর্ধ্বমুখী হয় এর সূচক। এর জেরে ভারতীয় অর্থনীতিতে উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে চাপ। জাতি ও ধর্মীয় জনবিন্যাসে দেখা দেয় বড় বদল।
২০১৪ সালে এই বাংলার বর্ধমান শহরের অদূরে খাগড়াগড়ে ঘাঁটি গাড়ে ‘জামাতুল মুজ়াহিদিন বাংলাদেশ’ বা জেএমবি নামের কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠীর বেশ কয়েক জন। ভারতে নাশকতার উদ্দেশ্যে আইইডি তৈরি করছিল তারা। কিন্তু অসাবধানতাবশত বিস্ফোরণ হওয়ায় উড়ে যায় ওই বাড়ি। মৃত্যু হয় দুই সন্ত্রাসীর। এই ঘটনার তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠে নয়াদিল্লির। তখন থেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ করার উপর জোর দিয়ে আসছে কেন্দ্রের মোদী সরকার।
পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর ফের এক বার সেই কথাই বলেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জয়সওয়াল। তাঁর কথায়, ‘‘বেআইনি ভাবে এ দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অবশ্যই ফেরত পাঠানো হবে। এর জন্য ঢাকার সহযোগিতা চাই। ২,৮৬০টির বেশি নাগরিকত্ব যাচাই করার মামলা ও পার বাংলার সরকার ফেলে রেখেছে। তার মধ্যে অনেকগুলি পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোনও নিষ্পত্তি হয়নি।’’
এখানেই না থেমে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘‘আমাদের নীতি হল যদি কোনও বিদেশি নাগরিক বেআইনি ভাবে ভারতে থাকেন, তা হলে তাঁকে অতি অবশ্যই দেশে ফেরত পাঠানো। সে ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা অনুসরণ করবে নয়াদিল্লি।’’ সেই কারণেই নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজে ঢাকা গতি আসুক, চাইছে কেন্দ্র। তাতে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানোর কাজ অনেক বেশি সহজ এবং মসৃণ হবে বলে স্পষ্ট করেছেন জয়সওয়াল।
অনুপ্রবেশ বাদ দিলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্বিতীয় সমস্যা হল চোরাচালান ও গরু পাচার। আর তাই ওই এলাকায় নজরদারির জন্য কুমির ও সাপের মতো ‘প্রাকৃতিক বর্ম’ মোতায়েন করার চিন্তাভাবনা করছে নয়াদিল্লি। বিএসএফের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রকে উদ্ধৃত করে তেমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে।
ওই সূত্র জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারির জন্য কুমির এবং সাপের মতো সরীসৃপ ‘মোতায়েনের’ একটি প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। তবে এই নিয়ে সরকারি ভাবে এখনও কিছু জানায়নি নয়াদিল্লি।
সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে ঢাকা-ইসলামাবাদের সখ্য ভারতের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। সম্প্রতি মাদক পাচার রোধে পাকিস্তানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদান এবং যৌথ অভিযানে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে কটাক্ষ করছেন অনেকেই। কারণ, আফিমের চাষ এবং বেআইনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির গুপ্তচরবাহিনী আইএসআইয়ের জড়িত থাকার ভূরি ভূরি প্রমাণ বহু বার প্রকাশ্যে এসেছে।