পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট শেষ হল অমীমাংসিত ভাবে। মঙ্গলবার ম্যাচের পঞ্চম তথা শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৪৫৯ রানে। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান করল ২৫২ রান। দুই ওপেনার আবদুল্লা শফিক এবং ইমাম উল হক শতরান করে অপরাজিত থাকেন।
রাওয়ালপিণ্ডির উইকেটে গোটা ম্যাচেই তেমন সাহায্য পাননি বোলাররা। দু’দলের ব্যাটাররাই বড় রান পেয়েছেন। তার মধ্যেও ইমাম উভয় ইনিংসেই শতরান করলেন। পাকিস্তানের দশম ব্যাটার হিসেবে একই টেস্টের দু’ইনিংসে শতরান করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। তাঁকেই ম্যাচের সেরা বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রথম ইনিংসে ইমামের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৫৭ রানের ধ্রুপদী ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত থাকলেন ১১১ রানে। এই ইমামকেই এক সময় দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নানা কথা শুনতে হয়েছিল। সেই সমালোচকদের ব্যাট হাতেই জবাব দিলেন সম্পর্কে পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ইনজামাম উল হকের ভাইপো। উল্লেখ্য, জীবনের প্রথম ১১টি টেস্ট ম্যাচে কোনও শতরান ছিল না ইমামের। তিনটি অর্ধ শতরান ছিল তাঁর ঝুলিতে। টেস্টে তাঁর সর্বোচ্চ রান ছিল ৭৬। দ্বাদশ টেস্টে জোড়া শতরান করে যেন সেই আক্ষেপও মিটিয়ে নিলেন বাঁ হাতি ব্যাটার। পাকিস্তানের অন্য ওপেনার শফিক অপরাজিত থাকেন ১৩৬ রানে।
পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৭ ওভার বল করে একটাও উইকেট পাননি অস্ট্রেলীয় বোলাররা। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নয় জন বোলারকে আক্রমণে এনেছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। তাতেও কোনও লাভ হয়নি। ম্যাচে মাত্র চার উইকেটের বিনিময় ৭২৮ রান করেছে আয়োজকরা।
সোমবার ম্যাচের চতুর্থ দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ৭ উইকেটে ৪৪৯। কামিন্সের (৪) সঙ্গে বাইশ গজে ছিলেন মিচেল স্টার্ক (১২)। এ দিন মাত্র ১০ রান যোগ করতে সমর্থ হয় সফরকারীরা। কামিন্স আট রানে এবং স্টার্ক ১৩ রানে আউট হন। নাথান লায়নও করেন ৩। গোটা ম্যাচে দু’দলের বোলাররা তেমন প্রভাব ফেলতে না পারলেও ছয় উইকেট নিয়ে নজর কাড়লেন বাঁহাতি স্পিনার নৌমান আলি। তিনি ১০৭ রান খরচ করে ৬ উইকেট পেয়েছেন। ৮৮ রানে দু’টি উইকেট শাহিন শাহ আফ্রিদির।
ম্যাচের পর ইমাম বলেছেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুই ইনিংসেই শতরান দারুণ তৃপ্তির। ওদের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট বেশ ভাল। সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে রান করা মানে নিজের ক্রিকেট জীবনকে আরও উন্নত করা। স্বাভাবিক খেলার চেষ্টা করেছি। খারাপ বলের জন্য অপেক্ষা করেছি।’’
করাচিতে হবে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। ১২ মার্চ থেকে ফের বাইশ গজে মুখোমুখি হবে দু’দল। কামিন্সদের নিরাপত্তার জন্য করাচি-সহ গোটা সিরিজেই থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।