শুক্রবার সচিন তেন্ডুলকরের জন্মদিন। প্রিয় বন্ধু হওয়ার সুবাদে তিনিই বা দূরে থাকেন কী করে। অসুস্থ শরীরেই সচিনের জন্মদিন পালন করলেন বিনোদ কাম্বলি। ফিরে গেলেন শিবাজী পার্কে, যেখান থেকে তাঁদের ক্রিকেট এবং বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। খুদেদের আইসক্রিম খাইয়েছেন কাম্বলি।
একটি আইসক্রিম সংস্থার বিজ্ঞাপনে কাম্বলিকে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। সেখানেই সচিনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গিয়েছে কাম্বলিকে। তিনি বলেছেন, “ওহে বন্ধু, আজ তো উৎসব করতেই হবে। শুভ জন্মদিন বন্ধু।” এর পরেই ছোটদের সঙ্গে আইসক্রিম খেতে দেখা যায় তাঁকে।
শিবাজী পার্কে কোচ রমাকান্ত আচরেকরের কাছে ক্রিকেট শিক্ষা শুরু কাম্বলি এবং সচিনের। দু’জনেই প্রতিভাবান ছিলেন। তবে একটা সময় কাম্বলিকে ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে যান সচিন। বিশৃঙ্খল জীবনযাপনের কারণে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান কাম্বলি।
ওই ভিডিয়োয় কাম্বলি আরও বলেছেন, “এই দিনটা আমার কাছে আলাদা। প্রতি ২৪ এপ্রিল আমার সচিনের কথা মনে পড়ে। অতীতে কখনও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত কাটিয়েছি দু’জনে। একসঙ্গে জন্মদিন পালন করেছি। ময়দানে দাপট দেখিয়েছি। ওই বন্ধন ভাঙা যাবে না।”
উল্লেখ্য, কাম্বলির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল কিছু দিন আগেই। ২০২৪ সালে ৫৪ বছরের প্রাক্তন ক্রিকেটারের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধে। সে সময় ঠাণের হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বুধবার কাম্বলির বন্ধু মার্কাস কুটো জানান, তিনি সেরে উঠছেন, কিন্তু এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। কাম্বলির মস্তিষ্কে এখনও রক্ত জমাট বেঁধে আছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে।
মার্কাস বলেন, “আমি কাম্বলির বন্ধুদের যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ক্রিকেটার, তাঁদের নিয়ে একটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছি। তাঁরা আর্থিক ভাবে প্রচুর সাহায্য করছেন। কাম্বলির স্মৃতিশক্তি ক্রমশ কমে যাচ্ছে, তবে গত ছ’মাসে খুব একটা অবনতি হয়েনি। তিনি অনেক কিছুই মনে রাখতে পারছেন না। কিন্তু কোনও বিষয় যদি তাঁর মাথায় থেকে যায়, সেটা তখন মনে করতে পারেন। না হলে পরিস্থিতি তাঁর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।”
আরও পড়ুন:
তাঁর সংযোজন, “কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। এখন অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয় কারণ, তিনি আগের থেকে কোনও সতর্কতা অবলম্বন করেননি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওঁর ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরে কাম্বলি যতটা সম্ভব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।”