বৈভব সূর্যবংশীকে যে বলে আউট করেছিলেন, তা যে কোনও পেসারের স্বপ্নের ডেলিভারি। খাটো লেংথে ব্যাটসম্যানের শরীরের দিকে ধেয়ে আসা বল। অস্ট্রেলিয়ার পিচে টেস্ট ম্যাচে প্যাট কামিন্সের হাত থেকে এই ধরনের ডেলিভারি আশা করা যায়। আইপিএলের অভিষেক ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে চর্চায় উঠে আসা প্রফুল্ল হিঙ্গে ব্রিসবেন থেকে এই শর্ট বলের পাঠ নিয়ে আসেন। আর তারই প্রতিফল দেখা গেল সোমবার আইপিএলে বৈভবের বিরুদ্ধে।
কিংবদন্তি গ্লেন ম্যাকগ্রার ইচ্ছায় চেন্নাইয়ের এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশন থেকে ব্রিসবেনে নিয়ে যাওয়া হয় প্রফুল্লকে। ২০২৪-এ প্রায় ২৫ দিন ব্রিসবেনের হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারে অনুশীলন করেন প্রফুল্ল। অস্ট্রেলিয়ার পিচের বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য শর্ট বল করা শেখানো হয় তাঁকে। কোমরে চোটের জন্য ২০২২-’২৩ মরসুমে জোরে বল করতে পারতেন না প্রফুল্ল। তাঁর বাবা ভেবেছিলেন, হয়তো ক্রিকেটই ছেড়ে দিতে হবে। পড়াশোনায় খুব একটা ভাল ছিলেন না। চাকরি পাবেন কী করে? দিদির মতো মেধাবিও তো নন। প্রফুল্লের উপরে তবুও চাপ দেননি বাবা। বলেছিলেন, ‘‘ক্রিকেট ছাড়িস না। চোট ঠিক সেরে যাবে। দাঁতে দাঁত চেপে লেগে থাক।’’
বিদর্ভ ক্রিকেট সংস্থা তাঁর চোট সারানোর দায়িত্ব নিতে চেয়েছিল। কিন্তু এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশন থেকে বলা হয়, তাঁরাই যা করার করবেন। চেন্নাইয়ে থেকেই চোট সারানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় প্রফুল্লের। ম্যাকগ্রা ও এমআরএফের কোচ এম.সেনথিলনাথন তাঁকে জানিয়ে দেন, শক্তি বাড়াতে হবে। নিয়মিত ওজন নিয়ে ট্রেনিং না করলে বোলিংয়ে জোর বাড়বে না। আনন্দবাজারকে সেনথিলনাথন বলছিলেন, ‘‘গ্লেন ম্যাকগ্রা ওকে বলে দিয়েছিল, কী ভাবে বলে গতি বাড়াতে হয়। বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং করার কথা বলেছিল। যা নিয়মিত করত প্রফুল্ল। ম্যাকগ্রা বারবার বলত, শর্ট বলে উন্নতি করো। ব্যাটসম্যানকে ভয় পাওয়াতেও হবে। তার জন্য শিখতে হবে বাউন্সার। ব্যাটসম্যানের শরীর লক্ষ্য করে বল করতে হবে।’’
ব্রিসবেনের গতিময় পিচে অস্ট্রেলীয় ঘরানার ট্রেনিং অনেক পরিণত করে তোলে প্রফুল্লকে। সেনথিলনাথন বলছিলেন, ‘‘অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ে খুব ভাল বল করছিল প্রফুল্ল। কিন্তু শুধুমাত্র সুইংয়ের সাহায্যে একটা পর্যায়ের পরে বেশি দূর ওঠা যায় না। উমেশ যাদবও ওকে গতি বাড়াতে প্রচুর সাহায্য করেছে। নাগপুরে ওকে বেশ কয়েক মাস ট্রেনিং করিয়েছে। লাল বলের ক্রিকেটেও কিন্তু ও সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখে।’’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়েছেন প্রফুল্ল। তাঁর বাবার স্বপ্ন, ভারতের হয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলবে ছেলে। নাগপুর থেকে ফোনে প্রকাশ হিঙ্গে বলছিলেন, ‘‘আইপিএল আমার ছেলেকে সকলের নজরে নিয়ে এল। কিন্তু এখানে থামলে চলবে না। ভারতের হয়ে টেস্ট খেলতে হবে। এক-দু’টো ম্যাচ নয়। দেশকে টেস্টে জেতাতে হবে। তবেই ছেলের, আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবে।’’
প্রফুল্লের সাফল্যের দিনে তাঁর বাবার মনে পড়ছে পুরনো এক কাহিনি। বলছিলেন, ‘‘এক বার টেনিস বল খেলে ওয়াশিং মেশিন জিতেছিল। আমি বলেছিলাম, এই পুরস্কারের কোনও মূল্য নেই। ডিউজ় বলে ম্যাচ জেতালে বুঝব। আইপিএলের প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে ও কিন্তু এক প্রকার আমাকেই জবাব দিল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)