চিন্নাস্বামীতে শেষ বেলায় টিম ডেভিডের ঝড়। সঙ্গে দেবদত্ত পাড়িক্কল, রজত পাটীদার এবং ফিল সল্টের আগ্রাসন। চেন্নাইয়ের বোলিং এ বার কতটা খারাপ, তা আরও এক বার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলি বড় রান পেলেন না ঠিকই। কিন্তু যিনিই ক্রিজ়ে নামলেন তিনিই রান করলেন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২৫০/৩ তুলল বেঙ্গালুরু।
টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চেন্নাই অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। বেঙ্গালুরুর শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি। প্রথম তিন ওভারে ওঠে মাত্র ১৭ রান। একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি ফিল সল্ট এবং বিরাট কোহলি। পাওয়ার প্লে-র অর্ধেক পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তা কাজে লাগাতে না পেরে কিছুটা দমে গিয়েছিলেন দুই ওপেনার।
পরিস্থিতি বদলায় চতুর্থ ওভারে। ম্যাট হেনরির দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে শুরু করেন কোহলি। সেই ওভারে একটি চারও মারেন। মোট ১৬ রান আসে সেই ওভার থেকে। পঞ্চম ওভারেই অবশ্য চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামকে চুপ করিয়ে দেন অংশুল কম্বোজ। একটু বাউন্স রেখে বল করেছিলেন। কোহলি পুল করতে চেয়েও ব্যাটের ঠিকঠাক জায়গায় বল লাগাতে পারেননি। লং অনে ক্যাচ ধরেন শিবম।
কোহলি ফিরে গেলেও রানের গতি কমতে দেননি সল্ট। যোগ্য সঙ্গত দেন পাড়িক্কল। বেঙ্গালুরুতে আসার পর থেকেই বদলে গিয়েছে পাড়িক্কলের খেলা। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে অর্ধশতরান করলেন কর্নাটকের ব্যাটার। শুধু তাই নয়, তাঁর খেলার মধ্যে বাড়তি আত্মবিশ্বাসও লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিটি শটের মধ্যে রয়েছে প্রতিভার ছাপ।
সল্টের অবশ্য নতুন করে কিছু চেনানোর নেই। চিন্নাস্বামী এখন চেনেন হাতের তালুর মতোই। ছোট মাঠ হওয়ায় সল্টের পক্ষে বড় শট খেলতেও সুবিধা হচ্ছিল। ভুল করলেন এক বারই। তাতেই আউট হলেন। শিবমের উঁচু হয়ে আসা বল পুল করতে গিয়েছিলেন। নূর আহমেদ ক্যাচ ধরেন ডিপ ফাইন লেগে। আউট হওয়ার পরেই সল্টের মুখভঙ্গি দেখে বোঝা যায় তিনি নিজের উপরেই রেগে গিয়েছেন। তিনটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ৩০ বলে ৪৬ করেন সল্ট।
পাড়িক্কলের মতো চলতি মরসুমে ফর্মে রয়েছেন রজত পাটীদারও। এ দিন তাঁর খেলাতেও পাওয়া গেল আগ্রাসন। অবলীলায় বল উড়িয়ে দিচ্ছিলেন মাঠের বাইরে। চেন্নাইয়ের কোনও বোলারকে দাঁড়াতে দেননি। হায়দরাবাদ ম্যাচের পর আবার অর্ধশতরান করেন পাড়িক্কল। তার পরেই আউট হন। তাঁর ২৯ বলে ৫০ রানের ইনিংসে রয়েছে পাঁচটি চার এবং দু’টি ছক্কা।
বেঙ্গালুরু হয়তো সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছে টিম ডেভিডের খেলায়। দীর্ঘদেহী ডেভিড যে দিন ফর্মে থাকবেন সে দিন বিপক্ষকে সুযোগ দেবেন না বিশেষ। রবিবার মনে হল, এটাই সেই দিন। ১৭তম ওভারে নূরকে তিনটি ছক্কা হাঁকালেন। তাঁর মধ্যে একটি ৮২ মিটার গেল। পরের ওভারেই কম্বোজের বলে ছিটকে গিয়েছিল ডেভিডের স্টাম্প। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাড়া করল চেন্নাইকে। লাইনের বাইরে পা থাকায় সেটি ‘নো বল’ ডাকেন আম্পায়ার। ‘ফ্রি হিট’ আবার দর্শকাসনে পাঠিয়ে দেন ডেভিড।
আরও পড়ুন:
সবচেয়ে নির্মম ছিলেন জেমি ওভার্টনের উপরে। ১৯তম ওভারে বল করতে এসেছিলেন ওভার্টন। তাঁর ওভারে চারটি ছয় ও একটি চার মারেন ডেভিড। একটি ছয় স্টেডিয়ামের বাইরে বেরিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি ২৫ করে ৭০ করে থামলেন। মেরেছেন তিনটি চার এবং আটটি ছয়। পাটীদারের ১৯ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে রয়েছে একটি চার এবং ছ’টি ছয়।