ম্যান অফ দ্য ম্যাচের ট্রফি কতগুলো হল?
সঞ্চালক হর্ষ ভোগলের প্রশ্ন শুনে হেসে ফেললেন বিরাট কোহলি। বললেন, ‘‘বলতে পারব না। আমি গুনিনি।’’ তাঁর কথার মাঝেই সংখ্যাটা বলে দিলেন ভোগলে। ‘‘এটা নিয়ে ৪৫।’’
কোহলি আবার বলতে শুরু করলেন, ‘‘আমার সব ট্রফি মা যত্ন করে সাজিয়ে রাখেন নয়ডার বাড়িতে। মা বলতে পারবেন, কটা ট্রফি হল। এই ট্রফিটাও মায়ের কাছেই পাঠিয়ে দেব। মা আমার ট্রফিগুলো নিয়ে খুব গর্বিত।’’
কোহলি চান না তাঁর আগের ব্যাটারেরা আউট হয়ে গেলে দর্শকেরা চিৎকার করুন বা হাততালি দিন তাঁকে দেখার জন্য। ব্যক্তি স্বার্থের থেকে দলীয় স্বার্থকে সব সময় এগিয়ে রাখা কোহলি বুঝিয়ে দিলেন মানুষ হিসাবেও তিনি আলাদা। কোহলি বললেন, ‘‘আমার আগে ব্যাটার আউট হলে সকলে খুব উৎসাহিত হয়ে পড়েন। এটা আমার ভাল লাগে না। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ক্ষেত্রেও এ রকম হত। আমার ক্ষেত্রেও হচ্ছে। জানি সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তবু, এটা ভাল দেখায় না। আমি খেলায় মন দেওয়ার চেষ্টা করি। এটাও ঠিক মানুষের এই ভালবাসা আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। ভাল লাগে। তাঁরা আমাকে দেখতে চান। ম্যাচ শেষে সমর্থরদের মুখে হাসি দেখতে পেলে সবচেয়ে ভাল লাগে।’’
কয়েক মিনিট আগেই ভারত ৪ উইকেটে হারিয়েছে নিউ জ়িল্যান্ডকে। কোহলির ৯৩ রানের ইনিংস পরিস্থিতি সহজ করে দিলেও শুভমন গিলের দলকে জিততে লড়াই করতে হয়েছে। কোহলি আউট হওয়ার পর রবীন্দ্র জাডেজা, শ্রেয়স আয়ার পর পর আউট হয়ে যাওয়ায় চাপে পড়ে যায় ভারত। শেষ পর্যন্ত চোট নিয়ে ব্যাট করতে নামতে হয় ওয়াশিংটন সুন্দরকে। এ দিনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট রানের সংখ্যায় কুমার সাঙ্গাকারাকে টপকে দু’নম্বরে উঠে এসেছেন কোহলি। সামনে শুধু সচিন তেন্ডুলকর। ভোগলে সে কথা মনে করিয়ে দিতে কোহলি বললেন, ‘‘এখন আমি মাইলফলক, রেকর্ড এ সবের কথা ভেবে খেলি না। যে পর্যায় চলে এসেছি, তাতে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করি। দলের জন্য খেলার চেষ্টা করি। লক্ষ্য থাকে দলকে যতটা সম্ভব সাহায্য করার। সব সময় চাই আমার ইনিংস দলকে সুবিধাজনক জায়গায় দিক। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে দিতে চাই দলকে।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘আমার গোটা ক্রিকেটজীবনের দিকে তাকালে, এটা স্বপ্নপূরণের চেয়ে কম কিছু নয়। নিজের ক্ষমতা জানি। সব সময় কঠোর পরিশ্রম করেছি, নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য। ঈশ্বর আমায় অনেক কিছু দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ। সত্যি বলছি যে ভাবে খেলছি, মাইলফলক নিয়ে ভাবি না আর। প্রথমে ব্যাট করলে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হত। এখন অভিজ্ঞতা অনেক কাজে লাগে। মূল কথা হল দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তিন নম্বরে ব্যাট করি। পরিস্থিতি কঠিন হলে আগ্রাসী শট না খেলেও পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করি। আজ যেমন মনে হয়েছে, দ্রুত রান তোলা যেতে পারে।’’
নিজে রান পেলেও জয়ের মূল কৃতিত্ব কোহলিকে দিলেন অধিনায়ক শুভমন গিলও। খুশি নিজে রান পাওয়ায়। ম্যাচের পর তিনি বললেন, ‘‘রান তাড়া করা আমরা সব সময় উপভোগ করি। বাস্তব পরিস্থিতি মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের জন্য। আণি সেটাই করার চেষ্টা করি। আমাদের কাজটা সহজ করে দিয়েছে কোহলিই। এই পিচে ব্যাটিং শুরু করাটা সহজ নয়। অথচ কোহলি ভাই কী ভাবে শুরু করল! ও যেটা করতে পারে, সেটা অন্যদের পক্ষে করা কঠিন। আশা করব, কোহলি ভাই আমাদের জন্য এ ভাবেই রান করে যাবে।’’
শুভমন জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের আগে বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে চাইছেন তাঁরা। সকলকে ম্যাচের মধ্যে রাখাই লক্ষ্য। তিনি বলেছেন, ‘‘আগের সিরিজ়ে আর্শদীপ সিংহ খুব ভাল বল করেছে। মহম্মদ সিরাজ তখন দলে ছিল না। এখন সিরাজ আছে। তাই আমরা হর্ষিত রানাকে খেলালাম। আমরা আপাতত বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়েই খেলাতে চাইছি।’’
শুভমন মেনে নিলেন ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়ে শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে। বল করার সময় পিঠে চোট পেয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার। ম্যাচের পরই ওয়াশিংটনকে স্ক্যান করানোর জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে চোট কতটা গুরুতর। অথচ অবার করে লোকেশ রাহুল জানালেন, তিনি নাকি জানতেনই না, ওয়াশিংটন দৌড়নোর মতো অবস্থায় নেই।
আরও পড়ুন:
ম্যাচের পর রাহুল বললেন, ‘‘হর্ষিত আমার চাপ কমিয়ে দিয়েছিল। ওর ইনিংসটা রান তাড়া করার কাজ সহজ করে দিয়েছে শেষ দিকে। আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করেছি। ঝুঁকি নিতে চাইনি। খুব বড় লক্ষ্য ছিল না। ১০টা ম্যাচের ন’টাতেই ওভারে ছয় বা সাড়ে ছয় রান করে করতে হয়। জানতাম না ওয়াশিংটন দৌড়তে পারবে না। তবু ও ভাল খেলল। শুরুতে রোহিত, শুভমন, কোহলি আমাদের ইনিংসের ছন্দ তৈরি করে দেয়। পিচ গোটা ম্যাচে একই রকম আচরণ করেছে। নিউ জ়িল্যান্ড কিন্তু ভাল লড়াই করল।’’