Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

ব্রিউস্টার বনাম রুইজ দ্বৈরথই সেরা আকর্ষণ

শুভজিৎ মজুমদার
কলকাতা ২৮ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:১১
প্রতিদ্বন্দ্বী: আবেল রুইজ এবং  রিয়ান ব্রিউস্টার। —নিজস্ব চিত্র।

প্রতিদ্বন্দ্বী: আবেল রুইজ এবং  রিয়ান ব্রিউস্টার। —নিজস্ব চিত্র।

ক্রোয়েশিয়ার ভারাসদিনে মাসছয়েক আগের এক রাত।

ইউরোপ সেরা হয়ে ট্রফি নিচ্ছে স্পেন অধিনায়ক আবেল রুইজ। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়েছিল ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। রিয়ান ব্রিউস্টার সেখানে নেই! কোথায় গেল সে? শেষ পর্যন্ত টিমের কিট ম্যানেজার আবিষ্কার করলেন ব্রিউস্টারকে। ড্রেসিংরুমের মেঝেতে দু’হাঁটুর ফাঁকে মুখ গুজে কাঁদছিল ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার।

টাইব্রেকারে ব্রিউস্টারের শট পোস্টে ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই খেতাব নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল স্পেনের। সতীর্থরা কেউ তাকে কাঠগড়ায় তোলেনি। কিন্তু হারের জন্য নিজেকেই দায়ী করেছিল ব্রিউস্টার। আর তাই ড্রেসিংরুমে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।

Advertisement

ব্রিউস্টারের জীবনকাহিনির মতোই ছ’মাসের মধ্যে নাটকীয় ভাবে বদলে গিয়েছে পরিস্থিতি।

চেলসি থেকে উপেক্ষিত ইংল্যান্ডের নতুন তারকা প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিল লিভারপুলে যোগ দিয়ে। তবুও ইংল্যান্ড দলে তারকার আসন ছিল জেডন স্যাঞ্চোর দখলেই। ব্রিউস্টার ছিল দ্বিতীয় সারিতে। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বদলাতে শুরু করে ছবি। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ডাকে গ্রুপ লিগের ম্যাচের পরেই দল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় স্যাঞ্চো। কিন্তু ব্রিউস্টারের জন্য দলের এক নম্বর স্ট্রাইকারের অভাব বুঝতেই পারেননি ইংল্যান্ড কোচ স্টিভেন কুপার। কোয়ার্টার ফাইনালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেমিফাইনালে ব্রাজিল। পর পর দু’ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে একেবারে রূপকথার উত্থান ব্রিউস্টারের।

ভারতীয় দলের প্রাক্তন স্ট্রাইকার দীপেন্দু বিশ্বাস ব্রিউস্টারের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। বলছিলেন, ‘‘২০০৫ সালে আমার ফুটবল জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিল মহীন্দ্রা ইউনাইটেডের কর্তারা। ফুসফুসে ছিদ্র নিয়েই জন্মেছিলাম আমি। কিন্তু তার জন্য খেলতে কখনওই সমস্যা হয়নি। অথচ মহীন্দ্রা ইউনাইটেড কর্তারা বলে দিল, আমার পক্ষে নাকি আর কোনও দিনই ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে একা বসে কাদঁতাম।’’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘তার পরেও বারো বছর ধরে আমি খেলে চলেছি। মহীন্দ্রা কর্তাদের উপেক্ষাই আমাকে তাতিয়ে দিয়েছিল। ব্রিউস্টারের সফল হওয়ার নেপথ্যেও কিন্তু চেলসির উপেক্ষা থেকে তৈরি হওয়া জেদ।’’

উপেক্ষার যন্ত্রণাই সেরা প্রেরণা, মনে করেন আই এম বিজয়নের মতো তারকাও। বলছিলেন, ‘‘আমি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছি। শৈশবে বারবার উপেক্ষিত ও লাঞ্ছিত হয়েছি। সমস্ত অপমানের জবাব দিতাম মাঠে নেমে।’’ ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের মতে ইংল্যান্ড ফুটবলের উন্নতির নেপথ্যে যুব ফুটবলের প্রসার। পার‌্থ থেকে ফোনে তিনি বললেন, ‘‘ইংল্যান্ডের প্রত্যেকটা ক্লাবই ফুটবলার গড় তোলার ব্যাপারে প্রচণ্ড গুরুত্ব দেয়। সব ক্লাবেরই নিজস্ব অ্যাকাডেমি আছে। এই কারণেই স্যাঞ্চো, ব্রিউস্টারের মতো প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলার উঠে আসছে। জার্মানির ক্লাবগুলোও এখন ইংল্যান্ডের অ্যাকাডেমি থেকে ফুটবলার নেওয়ার জন্য ঝাঁপাচ্ছে।’’

ইংল্যান্ড স্ট্রাইকারের মতো যন্ত্রণা কখনও পেতে হয়নি আবেল-কে। উল্টে পাঁচ বছর আগে ভ্যালেন্সিয়া অ্যাকাডেমি থেকে তাকে বার্সেলোনায় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন লা মাসিয়ার স্পটাররা। দু’বছর আগে স্পেন জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই নায়ক আবেল। অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরো কাপ জয়ের ক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা নিয়েছিল এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। চলতি টুর্নামেন্টেও দুরন্ত ফর্মে আলভারো মোরাতার ভক্ত। আজ, শনিবার যুবভারতীত অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে আকর্ষণের কেন্দ্রে ব্রিউস্টার বনাম আবেল। নয় বনাম নয়ের দ্বৈরথ। কে জিতবে? দীপেন্দুর মতে ইংল্যান্ড তারকারই নায়ক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘ব্রিউস্টার অনেকটা ডোয়াইট ইয়র্কের মতো খেলে। বক্সের মধ্যে বিধ্বংসী। দু’পায়ে গোলার মতো শট রয়েছে। সামান্য সুযোগও কাজে লাগানোর জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায়।’’ বিজয়নের কথায়, ‘‘ব্রিউস্টার আক্ষরিক অর্থেই স্ট্রাইকার। ছয় ম্যাচে সাত গোল করেছে। সর্বক্ষণ বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের অস্বস্তিতে রাখে।’’ আর আবেল? ভারতীয় দলের দুই প্রাক্তন তারকার ব্যাখ্যা, ‘‘দাভিদ ভিয়ার সঙ্গে ছয় ম্যাচে ছয় গোল করা আবেলের খেলার মিল রয়েছে। গোল করার পাশাপাশি মাঝমাঠে নেমে আক্রমণেও নেতৃত্ব দেয়।’’

তবে মহারণের চব্বিশ ঘণ্টা আগে আবেল-ই উদ্বেগ বাড়াল স্পেন শিবিরে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুশীলন করেনি স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। যদিও স্পেন শিবিরে দাবি, আবেলের অসুস্থতা গুরুতর নয়। ঝুঁকি না নেওয়ার জন্যই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।

যুবভারতীতে শনিবার নায়ক কে হবে, সেটা সময়ই বলবে।

আরও পড়ুন

Advertisement