Advertisement
E-Paper

বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় ট্রাম্পের দেশ, ১০ জনের আমেরিকার কাছে হেরে বিদায় বসনিয়ার, লাল কার্ড দেখে লজ্জার নজির গোলদাতা বালোগুনের

মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল আমেরিকাও। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও তাদের হারাতে পারল না বসনিয়া ও হারজেগোভিনা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩৭
football

উল্লাস আমেরিকার ফুটবলারদের। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকা - ২ (বালোগুন, টিলমান)
বসনিয়া ও হারজেগোভিনা - ০

লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকা। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা বসনিয়া যে রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করবে তা ভাল ভাবে জানতেন আমেরিকার কোচ মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনো। ক্লাব ফুটবলে পোড়খাওয়া কোচ সেই কারণে শুরু থেকেই আক্রমণের পথে গেলেন। আমেরিকার খেলা দেখে বোঝা গেল, শুরুতে গোল তুলে বসনিয়াকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে তারা।

গোল হয়েও গিয়েছিল প্রায়। মালিক টিলমানের ক্রস ধরে বল জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন ফোলারিন বালোগুন। কিন্তু অল্পের জন্য অফসাইডে বাতিল হয় সেই গোল। প্রথম গোল বাতিল হলেও আমেরিকার খেলা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, যে কোনও মুহূর্তে গোল করবে তারা। অবশ্য মরিয়া রক্ষণ করছিল বসনিয়া। কিন্তু শুধু রক্ষণ করে কত ক্ষণ টিকে থাকা যায়। সেটাই হল।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেলেন বালোগুন। ঘাড়ের কাছে ডিফেন্ডারকে নিয়ে গোল করলেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকেরা মধ্যে ৬০ হাজারই আমেরিকার সমর্থক ছিলেন। তাঁদের চিৎকারে তখন কান পাতা দায়।

যদিও দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪ মিনিটের মাথায় সেই বালোগুনই দলকে প্রায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পায়ে বাজে ট্যাক্‌ল করেন তিনি। ভার রিপ্লে দেখে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপের নকআউটে গোল ও লাল কার্ড, এই কীর্তি এর আগে শুধু এক জনের ছিল। জিনেদিন জ়িদান। ২০০৬ সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে মার্কো মাতারাজ্জিকে ঢুঁসো মেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচ ফ্রান্স হেরেছিল। তবে বালোগুনের ভাগ্য ভাল। তাঁর দল জিতল। আমেরিকা হারলে সব আঙুল বালোগুনের দিকেই উঠত।

১০ জনের আমেরিকাকে কিছু ক্ষণ চেপে ধরেছিল বসনিয়া। একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে তারা। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। সেই সময় মাঝমাঠে লোক বাড়ান পোচেত্তিনো। তিনি জানতেন, বেশি ক্ষণ এই চাপ সামলানো যাবে না। পাল্টা আক্রমণ করতে হবে। তার জন্য মাঝমাঠে লোক দরকার। কোচের এই পরিকল্পনা কাজে লাগে। আমেরিকার আরও একটি গোল অফসাইডে বাতিল হয়। কিন্তু ৮২ মিনিটের মাথায় ফ্রি কিক থেকে গোল করেন টিলমান।

০-২ পিছিয়ে পড়ার পর বসনিয়ার ফুটবলারদের শরীরী ভাষা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, হার মেনে নিয়েছেন তাঁরা। বাকি সময়ে যে টুকু আক্রমণ বসনিয়া করল, তা আমেরিকার গোলরক্ষককে সমস্যায় ফেলতে পারেনি। ২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে এগোল আমেরিকা।

শেষ ষোলোয় তাদের সামনে বেলজিয়াম। ভাল লড়াই হতে পারে। কিন্তু সেই ম্যাচে দলের সেরা অস্ত্র বালোগুনকে পাবেন না পোচেত্তিনো। তাঁকে বাদ দিয়েই রোমেলু লুকাকু, কেভিন দ্য ব্রুইনদের হারানোর ছক কষতে হবে তাঁকে।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
USA

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy