Advertisement
E-Paper

হ‍্যারি কেনের আলোয় শেষ ১৬-য় ইংল্যান্ড, জোড়া গোলে কঙ্গোর লড়াই একাই থামিয়ে দিলেন ইংরেজ অধিনায়ক

ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ২৩:৩০
Picture of Football

হ্যারি কেন। ছবি: রয়টার্স।

ইংল্যান্ড - ২ (কেন)

ডিআর কঙ্গো - ১ (সিপেনগার)

ডিআর কঙ্গোর পেনাল্টি বক্সের মধ্যে মাইকেল ফেলপ্‌সের মতো ডাইভটা না মারলেও পারতেন হ্যারি কেন। বিশ্বকাপের আসরে ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইংলিশ ফুটবলের দৈন্যই প্রকাশ করে ফেললেন বোধহয়। যদিও কেনের জোড়া গোলেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড।

টানা তিন বার বিশ্বকাপ খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইটালি। জার্মানি, উরুগুয়ে নেজদারল্যান্ডসের মতো দল ছিটকে গিয়েছে। অন্য দিকে কাবো ভার্দে, প্যারাগুয়ে,ডিআর কঙ্গোর মত দেশ চমক দেখাচ্ছে। লাতিন আমেরিকার তুলনায় দুর্বল এবং আফ্রিকার দেশগুলির ঝকঝকে ফুটবল আর হার না মনোভাবের সামনে ম্লান এ যাবৎকাল বিশ্বফুটবলের শাসকেরা।

ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। এমপাসির দুরন্ত সেভ দেখে হতাশা জলের বোতল আছড়ে ফেললেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও। কঙ্গোর অন্য ডিফেন্ডারেরাও অন্তত দু’বার গোল লাইন সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাস র‌্যাশফোর্ডেরা। ইংল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চকে দেখে মনে হচ্ছিল সাজেশন দেখে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। কঙ্গো বিশ্বকাপের সিলেবাসের বাইরে না থাকলেও ইংরেজদের সাজেশনে ছিল না। ঠিক যেমন পানামার বিরুদ্ধেও ইংল্যান্ডের খেলা মন ভরাতে পারেনি।

ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৩০ মিনিটে বেলিংহ্যামের দুরন্ত হেড শরীর ছুড়ে আটকে দেন এমপাসি। ৩৫ মিনিটে র‌্যাশফোর্ডের শট গোললাইনে দাঁড়িয়ে ব্লক করেন কঙ্গোর এক ডিফেন্ডার। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে কঙ্গোর সাহসী ফুটবল বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে ইংল্যান্ডের বক্সে। ৪২ মিনিটে প্রায় দ্বিতীয় গোল করে ফেলেছিল আফ্রিকার দেশটি। এজ়রি কনসা এবং মার্ক গেহি নিজেদের জায়গায় ছিলেন না। সেই সুযোগে বক্সের ভেতর ইওয়ান উইসার উদ্দেশ্যে চমৎকার বল বাড়ান অ্যারন ওয়ান-বিসাকা। বল পেয়েই প্রথম ছোঁয়ায় শট নিয়েছিলেন উইসা। কিন্তু পোস্টে লেগে ফিরে আসে বল। এর পরই ৪৪ মিনিটে পেনাল্টি আদায়ের উদ্দেশে কেনের ওই ফেলপ্‌সসুলভ ডাইভ। কেনকে রুখতে অনেকটা এগিয়ে এসে ছিলেন এমপাসি। তাঁর সঙ্গে স্পর্শ হওয়ার আগেই সামনে ঝাঁপ দেন কেন। ইংল্যান্ড পেনাল্টির আবেদন করলেও নাকচ করে দেন রেফারি। ‘ভার’-ও মান্যতা দেয়নি ইংল্যান্ডের দাবিকে। প্রথমার্ধে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তেরও বেলিংব্যামকে হতাশ করেন এমপাসি।

৭৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে। সমতা ফেরানোর পর ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা চেপে ধরে ছিলেন কঙ্গোকে। আবার গোল খাওয়ার আগে পর্যন্ত আফ্রিকার দেশটি যে ফুটবল উপহার দিয়েছে, তা শেষ ১৫ মিনিট দেখা যায়নি। ৬০ মিনিটে র‌্যাশফোর্ড এবং ননি মাদুকে তুলে নিয়ে টুখেল বুকায়ো সাকা এবং গর্ডনকে নামানোর পর ইংল্যান্ডকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক মনে হয়েছে। ইংল্যান্ড কোচের এই পরিবর্তনই রং বদলে দেয় ম্যাচের। ৭০ মিনিটে জেড স্পেন্সকে তুলে নামান এবেরেচি এজ়েকে। দলকে অলআউট আক্রমণে তুলে দেন মরিয়া হয়ে। তাতেই চাপে পড়ে যায় কঙ্গোর রক্ষণ।

কেন দলকে জেতালেন। ১৩ গোল করে বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় টপকে গেলেন পেলেকেও। তিনিই নিঃসন্দেহে দিনের শেষে ইংরেজ শিবিরের নায়ক। তবু পেনাল্টির আশায় ওই ঝাঁপটা না দিলেই পারতেন। প্রযুক্তি, ক্যামেরায় মোড়া বিশ্বকাপে এ ‌ভাবে ফাঁকি দেওয়া যায়!

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
England

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy