Advertisement
E-Paper

বিশ্বকাপে কমলা ঝড়ের পর নীল ঝড়, বড় ব্যবধানে জয় নেদারল্যান্ডস-জাপানের, নকআউটে জার্মানি, ইকুয়েডরকে আটকে দিল কুরাসাও

সুইডেনকে ৫ গোল দিয়ে জাপানকে কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। টিউনিশিয়াকে ৪ গোল দিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে ফেললেন দাইচি কামাডারা। পিছিয়ে পড়েও আইভোরি কোস্টকে হারাল জার্মানি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল কুরাসাও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১২:৩৫
picture of football

জাপানের ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস। ছবি: রয়টার্স।

এশিয়ার ফুটবল কতটা এগিয়েছে, তা বিশ্বকাপে প্রমাণ করে দিচ্ছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ২-২ ড্র করার পর টিউনিশিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটের রাস্তা প্রশস্ত করল উদীয়মান সূর্যের দেশ। রবিবার অন্য ম্যাচে কুরাসাও আটকে দিল ইকুয়েডরকে। ৯০ মিনিটের ম্যাচে ১৫টি সেভ করে রেকর্ড গড়লেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম।

অপ্রতিরোধ্য জাপান

জাপান -৪ (কামাডা, উইডা ২, ইটো)

টিউনিশিয়া -০

টিউনিশিয়াকে প্রায় দাঁড়াতেই দিলেন না জাপানের ফুটবলারেরা। নিখুঁত পরিকল্পনা, পরিচ্ছন্ন ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিনিয়ে নিলেন। দুই অর্ধে ২টি করে গোল হল। টিউনিশিয়া খারাপ খেলেনি। তবে জাপানের আগ্রাসী ফুটবলের জবাব ছিল না তাদের কাছে।

সুইডেনকে ৫ গোল দিয়ে জাপানকে কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। টিউনিশিয়াকে ৪ গোল দিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে ফেললেন দাইচি কামাডারা। গোল পার্থক্যও মুছে ফেললেন তাঁরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১০০০তম ম্যাচের ৪ মিনিটে দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কামাডা। ওই গোলই যেন টিউনিশিয়ার আত্মবিশ্বাস অনেকটা শুষে নেয়। যা তলানিতে পৌঁছে দেয় ৩১ মিনিটে উইডার গোল। সমতা ফেরাতে মরিয়া টিউনিশিয়ার আগ্রাসী ফুটবলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত প্রতি আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল করে জাপান।

২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আগ্রাসী ফুটবল শুরু করে জাপান। ৬৯ মিনিটে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন ইটো। ৪৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে উইডা দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৪-০ ব্যবধানে জয় পেলেও কয়েকটি সহজ গোলের সুযোগও নষ্ট করেন জাপানের ফুটবলারেরা।

বিশ্বকাপে প্রথম পয়েন্ট কুরাসাওয়ের

জার্মানির কাছে ৭ গোল খাওয়া কুরাসাও আটকে দিল ইকুয়েডরকে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল তারা। দেড় লাখি মানুষের দেশের নায়ক রুম। একপেশে ম্যাচে ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছিলেন ইকুয়েডরের ফুটবলারেরা। গোল লক্ষ্য করে ২৭-২৮টি শট মারেন তাঁরা। ১৫টি ছিল পোস্টের মধ্যে। প্রতিটি শট আটকে দিয়েছেন ৩৭ বছরের রুম। যার শুরু ম্যাচের ৩ মিনিটে এনন ভ্যালেন্সিয়ার একক প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে। তার পর থেকে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেছেন। দেশের মান বাঁচিয়ে উচ্ছ্বসিত রুম বলেছেন, ‘‘এটা এমন একটা স্মৃতি, যা সারাজীবন মনে রাখব। গোলরক্ষক হিসাবে প্রায় নিঁখুত একটা ম্যাচ খেলতে পেরেছি। তবে একার কৃতিত্ব নয় এটা। গোটা দলের অর্জন এই সাফল্য।’’

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ম্যাচে কোনও গোলরক্ষকের সবচেয়ে বেশি সেভ করার নজিরও গড়লেন কুরাসাওয়ের রুম। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ১৫টি সেভ করেছিলেন আমেরিকার গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড। তবে সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলা হয়েছিল। ৯০ মিনিটের মধ্যে রুমের ১৫টি সেভই সর্বোচ্চ। ৯০ মিনিট ধরলে আগে রেকর্ডটি ছিল পেরুর র‌্যামোন কুইরোগার দখলে। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ১৩টি সেভ করেছিলেন তিনি।

১২ বছর পর নকআউটে জার্মানি

২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা পরের দু’বার গ্রুপ টপকাতে পারেননি। প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছিল চার বারের বিশ্বজয়ীদের সামনে। অবশেষে জবাব দিল জার্মানেরা। ফুটবলে একটা কথা প্রচলিত। জার্মানি শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে। সেই ছবি সত্যিই এই ম্যাচে দেখা গেল।

আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের সামনে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল জার্মানি। কিন্ত সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল আইভরি কোস্টকে। পিছিয়ে পড়েও জিতল জার্মানি। প্রথমার্ধে আইভরি কোস্টেক ফ্রাঙ্ক কেসির করা গোল প্রতিআক্রমণের ফসল।ম্যাচের প্রথম ৬০ মিনিটে দাপট ছিল আইভরি কোস্টের। কিন্তু ৬০ মিনিটের পর থেকে একের পর এক আক্রমণ জার্মানির।

৬৮ মিনিটে আমিরির ক্রসে সমতা ফেরান উন্ডাভ।সমতায় ফেরার পর খেলার রাশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় জার্মানি। শেষ তিন মিনিটে কিছুটা শ্লথ হয়ে গেল আইভরি কোস্ট। জার্মানির বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট ধরে গতিশীল ও শারীরিক ফুটবল কিছুটা হলেও ক্লান্ত করে দিয়েছিল তাদের। সেই সুযোগটাই নিলেন উন্ডাভ। বিশ্বকাপে নিজের তিন নম্বর গোল করে জার্মানিকে নকআউটে তুললেন।

নেদারল্যান্ডসের ৫ গোল

বিশ্বকাপের সবুজ মাঠে কমলা ঝড় উঠল। পাস, পাস আর পাস। গতিময় ফুটবলে সুইডেনকে ফালাফালা করে ফেললেন ডাচেরা। ৫ ও ১৭ মিনিটের মাথায় জোড়া গোল করে নেদারল্যান্ডসের কাজটা সহজ করে দেন ব্রবি। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই তিনি ঠিক সময় ঠিক জায়গায় ছিলেন। প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডে খেলা এই স্ট্রাইকার অভিষেকে হ্যাটট্রিকও করতে পারতেন। তাঁর খেলা মুগ্ধ করল।

সুইডেন যে খুব খারাপ খেলেছে তা বলা যাবে না। বরং প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিট ও দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত ২০ মিনিট আধিপত্য দেখিয়েছে তারা। আরও এক বার নজর কাড়লেন ইয়াসিম আয়ারি। টিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন।

প্রথমার্ধে ব্রবি যে কাজটা করেছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক সেটাই করলেন কডি গ্যাকপো। ৪৭ ও ৫৪ মিনিটে জোড়া গোল করলেন। ব্যস, খেলার ফয়সালা হয়ে গেল। গ্যাকপোর গোল দু’টির ক্ষেত্রেও সুইডেনের রক্ষণ ভেঙে পড়ল। ৮৯ মিনিটে পঞ্চম গোল সামারভিলের। সুইডেনের হয়ে ৫৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি অ্যান্থনি এলেঙ্গার। তবে নেদারল্যান্ডসের জয়ের নেপথ্য নায়ক ভারব্রুগেন। আটটি শট বাঁচিয়েছেন তিনি।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
৫ ঘণ্টা আগে
Netherlands Japan Germany
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy