Advertisement
E-Paper

৯০ মিনিটে ১৫ সেভ! নিজের দেশকে ছেড়ে বেছে নেন কুরাসাওকে, বিশ্বকাপে নজির গড়া গোলরক্ষক রুম নিজেই এখন ‘বেঘর’

বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে জামাইকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি এলয় রুম। রেফারিকে বলেছিলেন, ‘‘এটা পেনাল্টি হয় না। তবে আপনি দিলেও আমার কিছু যায় আসে না। আটকে দেব।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১১:৩৪
picture of football

এলয় রুম। ছবি: রয়টার্স।

কাবো ভার্দের গোলরক্ষক ভোজ়িনহার পর আলোচনার কেন্দ্রে কুরাসাওয়ের এলয় রুম। একাই আটকে দিলেন ইকুয়েডরকে। ৯০ মিনিটের ম্যাচে ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপ থেকে কুরাসাওকে প্রথম পয়েন্ট এনে দিলেন।

প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোল খাওয়া কুরাসাওকে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই গুরুত্ব দিতে চাননি। রবিবার রুম শুধু বিশ্বকাপের ইতিহাসে দেশকে প্রথম পয়েন্টই এনে দিলেন না, ফিরিয়ে আনলেন সম্মানও। সারাক্ষণ চাপে রেখেও তাঁকে পরাস্ত করতে পারলেন না ইকুয়েডরের ফুটবলারেরা। ৩৭ বছরের রুমের অনবদ্য পারফরম্যান্সের কাছেই মূল্যবান ২ পয়েন্ট হারাতে হল।

একপেশে ম্যাচে ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছিলেন ইকুয়েডরের ফুটবলারেরা। গোল লক্ষ্য করে ২৭-২৮টি শট মারেন তাঁরা। ১৫টি ছিল পোস্টের মধ্যে। প্রতিটি শট আটকে দিয়েছেন ৩৭ বছরের রুম। যার শুরু ম্যাচের ৩ মিনিটে এনন ভ্যালেন্সিয়ার একক প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে। তার পর থেকে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেছেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ম্যাচে কোনও গোলরক্ষকের সবচেয়ে বেশি সেভ করার নজিরও গড়লেন কুরাসাওয়ের রুম। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ১৫টি সেভ করেছিলেন আমেরিকার গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড। তবে সেই ম্যাচ অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলা হয়েছিল। ৯০ মিনিটের মধ্যে রুমের ১৫টি সেভই সর্বোচ্চ। ৯০ মিনিট ধরলে আগে রেকর্ডটি ছিল পেরুর র‌্যামোন কুইরোগার দখলে। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ১৩টি সেভ করেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপে দেড় লাখ দেশবাসীর প্রতিনিধিত্ব করছেন কুরাসাওয়ের ফুটবলারেরা। দেশের মান বাঁচিয়ে উচ্ছ্বসিত রুম বলেছেন, ‘‘এটা এমন একটা স্মৃতি, যা সারাজীবন মনে রাখব। গোলরক্ষক হিসাবে প্রায় নিঁখুত একটা ম্যাচ খেলতে পেরেছি। তবে একার কৃতিত্ব নয় এটা। গোটা দলের অর্জন এই সাফল্য।’’ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও এই আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল রুমের মধ্যে। জামাইকা ম্যাচে শেষ মুহূর্তে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি রুম। রেফারিকে বলেছিলেন, ‘‘এটা পেনাল্টি হয় না। তবে আপনি পেনাল্টি দিলেও আমার কিছু যায় আসে না। আমি আটকে দেব।’’ পরে ‘ভার’ –এর সিদ্ধান্তে জামাইকাকে দেওয়া পেনাল্টি বাতিল করেছিলেন রেফারি। বলা ভাল, রুমের আত্মবিশ্বাসই রেফারিকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই ম্যাচের ১ পয়েন্টই কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে।

রুমের পরিবার ফুটবলের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বাবা রেমকো বাইসেন্টিনি কুরাসাওয়ের ফুটবলের অন্যতম রূপকার হিসাবে পরিচিত। নিজের ছোট্ট দেশকে নিয়ে অসম্ভব গর্বিত রুম। ২০১৫ সালে কুরাসাওয়ের তৎকালীন কোচ প্যাট্রিক কুইভার্ট প্রথম তাঁকে জাতীয় দলে ডাকেন। তার পর থেকে তিনি কুরাসাও দলের নিয়মিত সদস্য। জন্মসূত্রে নেদারল্যান্ডসের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়েও খেলেছেন।

রুম বলেছেন, ‘‘আমিই প্রথম নাগরিকত্ব পরিবর্তন করে কুরাসাওয়ের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরে আরও অনেকে এসেছে।’’ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার রুম ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে প্রথম কুরাসাওয়ে এসেছিলেন। আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে দেখা করতে এবং ছুটি কাটাতে জন্মভূমিতে গিয়েছিলেন বাইসেন্টিনি। তখনই কুরাসাওকে ভালবেসে ফেলেছিলেন রুম। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে ছুটি কাটাতে এসে কুরাসাওকে ভাল লেগে গিয়েছিল। দুর্দান্ত সব স্মৃতি নিয়ে নেদারল্যান্ডস ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু অসম্ভব সুন্দর দেশটাকে ভুলকে পারিনি। আমার বাবা-মার বাড়ি কুরাসাওয়ে। পরিবারের সকলে ওখানেই থাকেন। প্রথম বার কুরাসাওয়ে গিয়েই বুঝতে পেরেছিলাম, এটাই আমার বাড়ি। নিজের দেশ। একটা আন্তরিক অনুভূতি তৈরি হয়। এখন তো গোটা বিশ্ব কুরাসাওয়ের কথা জানে।’’

গত মরসুমে আমেরিকার মেজর লিগ সকারের দল মায়ামি এফসির হয়ে খেলেছেন রুম। প্রথম দলে অবশ্য নিয়মিত সুযোগ পাননি। গত ডিসেম্বরে শেষ ম্যাচ খেলেন ক্লাবের হয়ে। বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া গোলরক্ষকের এই মুহূর্তে কোনও ক্লাব নেই। রুম নিজেই এখন ‘বেঘর’! রবিবারের পারফরম্যান্স হয়তো তাঁর পেশাদার ফুটবলজীবনকে নতুন করে আলোকিত করবে।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
সর্বশেষ
৩ ঘণ্টা আগে
record Goalkeeper
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy