Advertisement
E-Paper

৫ গোলকিপার: অবসর ভেঙে ফেরা ন্যুয়ের থেকে বিশ্বকাপ জেতানো মার্তিনেজ়, নজর থাকবে যাঁদের দিকে

বিশ্বকাপে গোলকিপারেরা চর্চার ব্যাপারে থাকেন সকলের শেষে। কোন দলের গোলকিপার কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে চর্চা হতে বিশেষ দেখা যায় না। আনন্দবাজার ডট কম আলোচনা করল পাঁচ গোলকিপারকে নিয়ে, বিশ্বকাপে যাঁদের দিকে নজর রাখতেই হবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৪:০৪
football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তাঁরা রক্ষণের শেষ স্তম্ভ। ট্রফি জিততে তাঁদের উপরেই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হয়। কিন্তু আলোচনা সবচেয়ে কম হয় তাঁদের নিয়েই। বিশ্বকাপে গোলকিপারেরা চর্চার ব্যাপারে থাকেন সকলের শেষে। কোন দলের কাছে কত বড় স্ট্রাইকার রয়েছে, তা নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। কিন্তু কোন দলের গোলকিপার কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে চর্চা হতে বিশেষ দেখা যায় না। আনন্দবাজার ডট কম আলোচনা করল পাঁচ গোলকিপারকে নিয়ে, বিশ্বকাপে যাঁদের দিকে নজর রাখতেই হবে।

১) এমিলিয়ানো মার্তিনেজ় (আর্জেন্টিনা)

গত বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর গোলকিপিংয়ের কথা কে ভুলবে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে রান্ডাল কোলো মুয়ানির শট বাঁচানো থেকে পেনাল্টি শুটআউটে কিংসলে কোমানের শট বাঁচানো। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের নেপথ্যে ভাল ভাবেই ছিল মার্তিনেজ়ের অবদান। এ বারের বিশ্বকাপে তিনি অন্যতম সেরা গোলকিপার হিসাবে খেলতে আসছেন। চাপের মুহূর্তে তিনি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বদানের ক্ষমতা এবং মানসিক শক্তি যে কোনও দলের কাছে বাড়তি সুবিধা। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে গোল বাঁচাতে তাঁর জুড়ি নেই। ম্যাচ বুঝতেও পারেন ভাল। অনবরত নির্দেশ দেন ডিফেন্ডারদের। একার হাতে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখেন ‘দিবু’। লিয়োনেল মেসির সঙ্গে তাঁর রসায়নও ভাল।

২) ম্যানুয়েল ন্যুয়ের (জার্মানি)

ইউরো কাপের পর অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন জাতীয় দল থেকে। ক্লাব পর্যায়েও ফর্ম ভাল যাচ্ছিল না। জার্মানির তরুণ কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অনুরোধে অবসর ভেঙে বিশ্বকাপে ফিরছেন ন্যুয়ের। ফুটবলে ‘সুইপার কিপার’ শব্দবন্ধ আমদানি হয়েছে তাঁর জন্যই। অর্থাৎ প্রয়োজনে এগিয়ে গিয়ে বিপক্ষের স্ট্রাইকারকে ট্যাকল করে বল বিপন্মুক্ত করতে পারেন। ৪০ বছর বয়সে বিশ্বের অভিজ্ঞতম ফুটবলার তিনি। ২০১৪-য় জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যনায়ক ছিলেন। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে গোলকিপার নয়, যেন ডিফেন্ডার হিসাবেই খেলেছিলেন। সাজঘরে তাঁর ব্যক্তিত্ব বাকিদের উদ্বুদ্ধ করে। একটা প্রজন্ম তাঁকে দেখেই গোলকিপিং করতে এসেছে। সাম্প্রতিক কালে একাধিক চোট সত্ত্বেও এই মুহূর্তে ন্যুয়েরের বিকল্প নেই জার্মান দলে।

৩) থিবো কুর্তোয়া (বেলজিয়াম)

শট বাঁচানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা নাম কুর্তোয়া। কাছ থেকে শট হোক বা দূর থেকে, কুর্তোয়ার শারীরিক নমনীয়তা সেই শট বাঁচিয়ে দেবে। চকিতে শরীর ছুড়ে এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্টে গিয়ে বল আটকাতে পারেন তিনি। উঁচু বলে দক্ষ। প্রতিক্রিয়া এবং নমনীয়তাতেও অনেক এগিয়ে। বেলজিয়াম এই একটি পজিশন নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। চতুর্থ বার বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন কুর্তোয়া। রিয়াল মাদ্রিদে এখনও তাঁর বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বেলজিয়াম দলেও তিনি সকলের আগে আসবেন।

৪) অ্যালিসন বেকার (ব্রাজ়িল)

ব্রাজ়িল বিশ্বকাপ জিতবে কি না জানা নেই। তবে নিঃসন্দেহে বেকারের দিকে নজর থাকবে। গত মরসুম চোট ভুগিয়েছে তাঁকে। মাত্র ২৬টি ম্যাচে শুরু করতে পেরেছেন। এপ্রিলে পুরোদস্তুর অনুশীলন শুরু করেন। বিশ্বকাপে তাঁকে কেমন ছন্দে পাওয়া যায় সে দিকে নজর থাকবে। গোলকিপার হিসাবে বেকার তীক্ষ্ণ, নমনীয় এবং একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে দুর্দান্ত। ব্রাজ়িলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি গোলকিপার হিসাবেও একজন প্লে-মেকারকে পছন্দ করেন। সেই জায়গায় দারুণ ভাবে মানিয়ে নিতে পারবেন বেকার। চাপের মুখে বল বিতরণের ক্ষমতাও দুর্দান্ত। অতি আগ্রাসী দলের বিরুদ্ধে বেকারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। এখনও পর্যন্ত ব্রাজ়িলের হয়ে কোনও ম্যাচে দু’গোলের বেশি হজম করেননি বেকার। বিশ্বকাপেও সেটি বজায় থাকে না, তা দেখার।

৫) ডেভিড রায়া (স্পেন)

ফুটবলজীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি। আর্সেনালের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন। দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলেছেন এবং পেনাল্টি শুটআউটে একটি সেভও করেছেন। উনাই সিমনকে সরিয়ে স্পেনের এক নম্বর গোলকিপারের জায়গাও দখল করেছেন। সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় বার সোনার গ্লাভস জিতেছেন। গত মরসুমের লিগে ১৯টি ম্যাচে গোল খাননি। ধারাবাহিকতাতেও বাকিদের থেকে এগিয়ে থাকবেন। প্রিমিয়ার লিগ তো বটেই, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতাতেও রায়াকে টপকে গোল করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছিল। ন্যুয়েরের মতো তিনিও ‘সুইপার কিপার’ হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি, চাপের মুখে বল বিতরণের ক্ষমতাও ভাল।

এই পাঁচজন ছাড়াও সেনেগালের এডুয়ার্ড মেন্ডি, মরক্কোর ইয়াসিন বুনু, মেক্সিকোর গিলেরমো ওচোয়ার দিকে নজর থাকবে।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
Emiliano Martínez Manuel Neuer Thibaut Courtois
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy