আধুনিক ফুটবলে যত দিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে মাঝমাঠের গুরুত্ব। যে দলের পায়ে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ম্যাচ জেতে তারাই। ফলে ক্রমশ বাড়ছে মিডফিল্ডারদের দূরত্ব। কোচেরা আগে মাঝমাঠের ফুটবলারদের নির্বাচন করেন, তার পর অন্য দিকে তাকান। ফুটবল বিশ্বকাপেও তেমনই প্রতিভাবান কিছু মিডফিল্ডারকে দেখা যাবে। ৪৮টি দেশের মধ্যে থেকে সেরা পাঁচ মিডফিল্ডারকে বেছে নিল আনন্দবাজার ডট কম।
জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড)
কোচ টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসাবে আমেরিকায় পা রেখেছেন বেলিংহ্যাম। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সম্পূর্ণ মিডফিল্ডার হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদে তাঁর প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখা গিয়েছে। বল পায়ে আক্রমণ তৈরি করতে তাঁর জুড়ি নেই। সঙ্গে রয়েছে অনবদ্য পাস বাড়ানোর ক্ষমতা। দরকারে নীচে নেমে এসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। আবার লম্বা দৌড়ের সাহায্যে স্ট্রাইকারদেরও সাহায্য করতে পারেন। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে তাঁর উপরে।
ভিটিনহা (পর্তুগাল)
তর্কাতীত ভাবে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যযুক্ত এবং ধ্বংসাত্মক মিডফিল্ড নিয়ে খেলতে নামছে পর্তুগাল। সেই মাঝমাঠের হৃদয় হলেন ভিটিনহা। সম্প্রতি প্যারিস সঁ জরমঁকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে নিজের সেরা ফর্মে থেকে বিশ্বকাপে নামছেন তিনি। রক্ষণের চাপের মাঝেও ছোট জায়গা খুঁজে নিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ভিটিনহা। ব্রুনো ফের্নান্দেজ়ের মতো ফুটবলারের সঙ্গে বোঝাপড়া মারাত্মক। ছোট পাসের সাহায্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করতেও তাঁর জুড়ি নেই।
পেদ্রি (স্পেন)
আন্দ্রে ইনিয়েস্তার সফল উত্তরসূরি হিসাবে ধরা হয় তাঁকে। টেকনিক্যাল ফুটবলের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে। বয়স কম হলেও পেদ্রির অভিজ্ঞতা অনেকের চেয়ে বেশি। লুই দে লা ফুয়েন্তের দলে পেদ্রিকে ব্যবহার করা হতে পারে বিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার কাজে। বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসাবে ধরা হয় তাঁকে। ঠিক সময় নিজেকে ঠিক জায়গায় নিয়ে যান। স্পেনের উইঙ্গারদের সঙ্গে অসামান্য বোঝাপড়া রয়েছে তাঁর। চোটমুক্ত থাকলে এ বার বিশ্বকাপ কাঁপাতে পারেন তিনি।
ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ় (জার্মানি)
জার্মানির কৌশল অনেকাংশেই নির্ভর করছে উইর্ৎজ়ের উপর। বিপক্ষের মিডফিল্ড এবং রক্ষণের মাঝে খেলতে ভালবাসেন তিনি। সেন্টার ব্যাকদের কাছে দুঃস্বপ্ন তিনি। তাঁর চোরাগতি, চকিতে সতীর্থদের খুঁজে নেওয়ার ক্ষমতা এবং গোলের প্রতি নজর তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দেয়। জার্মানি দলে যে রূপান্তর ঘটছে, তার কেন্দ্রীয় চরিত্র উইর্ৎজ়ই। জার্মানির স্ট্রাইকারেরা কতটা বল পান, তা নির্ভর করছে উইর্ৎজ় কেমন খেলেন তাঁর উপরে।
আরও পড়ুন:
-
তারুণ্যে ভরা দলে নজর থাকবে সেই ৪১ বছরের রোনাল্ডোর দিকেই, অধরা ট্রফি কি এ বার হাতে তুলতে পারবেন ক্রিশ্চিয়ানো?
-
চতুর্থ বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ শুরুর আগেই স্বপ্ন দেখা শুরু সমর্থকদের, সৌজন্যে মেসির ঘরের নম্বর!
-
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে চাইলে কত গাঁটের কড়ি খসবে? নতুন ‘প্ল্যান’ নিয়ে এল সম্প্রচারকারী সংস্থা
নিকো পাজ় (আর্জেন্টিনা)
আর্জেন্টিনা দলে লিয়োনেল মেসি ফরোয়ার্ডের তালিকায় থাকলেও, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ যে তাঁর পায়েই থাকবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে পাজ়ের ক্ষমতা রয়েছে তারকাদের ভিড়েও স্বতন্ত্র হয়ে ওঠার। লিয়োনেল স্কালোনির দলের ‘ট্রাম্প কার্ড’ হয়ে উঠতে পারেন তিনি। ইটালির কোমো দলের সেস ফাব্রেগাসের অধীনে নজর কেড়েছেন। ড্রিবল করার ব্যাপারে অসাধারণ। মূলত বাঁ পায়ের ফুটবলার। ছোট জায়গায় পায়ের কাজ দেখাতে পারেন। কোন দিকে ড্রিবল করবেন তা আগে থেকে ধরতে পারা যাবে না। আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ হিসাবে ধরা হচ্ছে তাঁকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
-
১৪:২৩
১৬ স্টেডিয়াম: কোথায় কোথায় হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ? সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামই পায়নি ফাইনালের দায়িত্ব! -
১৩:২৩
৫ রেকর্ড: এ বারের ফুটবল বিশ্বকাপে যা ভাঙতে পারেন মেসি -
১০:২৪
তারুণ্যে ভরা দলে নজর থাকবে সেই ৪১ বছরের রোনাল্ডোর দিকেই, অধরা ট্রফি কি এ বার হাতে তুলতে পারবেন ক্রিশ্চিয়ানো? -
ফুটবল বিশ্বকাপে রাজনীতির আঁচ, ট্রাম্প প্রশাসনের নানা নীতিতে অনিশ্চয়তা, আশঙ্কার আবহ, চ্যালেঞ্জের মুখে ফিফা
-
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে চাইলে কত গাঁটের কড়ি খসবে? নতুন ‘প্ল্যান’ নিয়ে এল সম্প্রচারকারী সংস্থা