Advertisement
E-Paper

তারুণ্যে ভরা দলে নজর থাকবে সেই ৪১ বছরের রোনাল্ডোর দিকেই, অধরা ট্রফি কি এ বার হাতে তুলতে পারবেন ক্রিশ্চিয়ানো?

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জীবনে অধরা ট্রফি বলতে একটিই, ফুটবল বিশ্বকাপ। কৌলীন্যের বিচারে যা সবার আগে থাকবে। ৪১ বছর বয়সে সেই কাজ কি রোনাল্ডো করে দেখাতে পারবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১০:২৪
football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক জন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতছেন তো অপর জন ঘরোয়া লিগ। একজন সুপার কাপ জিতছেন তো অপর জন কোপা দেল রে। প্রায় দেড় দশক এ ভাবেই চলেছে লিয়োনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দ্বৈরথ। তবে ২০২২-এ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে এক লাফে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন মেসি। এখন আর রোনাল্ডোর সঙ্গে তুলনা হয় না তাঁর। ফলে রোনাল্ডোর জীবনে অধরা ট্রফি বলতে একটিই, ফুটবল বিশ্বকাপ। কৌলীন্যের বিচারে যা সবার আগে থাকবে। ৪১ বছর বয়সে সেই কাজ কি রোনাল্ডো করে দেখাতে পারবেন? তাঁর দলের অবশ্য সেই ক্ষমতা রয়েছে। সব দিক থেকেই শক্তিশালী দল নিয়ে নামছে পর্তুগাল। বিশ্বকাপের আগে সেই দলের বিশ্লেষণ করল আনন্দবাজার ডট কম।

শক্তি

বিশ্বমানের মিডফিল্ড— পর্তুগাল দলের মিডফিল্ডের সঙ্গে খুব কম দলের তুলনা হয়। ব্রুনো ফের্নান্দেজ়ের মতো প্লে-মেকার রয়েছে, যার ইপিএলে ২০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। এ ছাড়া ভিটিনহা এবং জোয়াও নেভেসের মতো সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় রয়েছে।

দলের গভীরতা— অতীতে পর্তুগালের প্রথম একাদশে একটা বিচ্ছিন্নতা থাকত। অর্থাৎ এক-দু’জনকে কেন্দ্র করেই গোটা দল তৈরি করা হত। এই দলে গভীরতা রয়েছে। প্রতিটি দলে যোগ্য ফুটবলার এবং একই মানের বিকল্প রয়েছে। ফলে কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে থাকবে তারা। শেষ মুহূর্তেও নতুন কাউকে নামিয়ে চমক দেওয়া যেতে পারে।

উইংয়ে বৈচিত্র— রাফায়েল লিয়াও এবং পেদ্রো নেতোর মতো উইঙ্গারেরা রয়েছেন, যাদের গতি এবং দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বেগ দিতে পারেন তারা।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দুর্বলতা

সেন্টার ফরোয়ার্ডে বিকল্পের অভাব— স্ট্রাইকার পজিশনে এখনও রূপান্তর চলছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিঃসন্দেহে তারকা। তবে বয়স তাঁর খেলায় ছাপ ফেলতে পারে। গন্সালো রামোস এ মরসুমে বেশি খেলতে পারেননি। প্রধান স্ট্রাইকার আর কেউ নেই।

রক্ষণে পরিচিতির অভাব— পেপে-পরবর্তী যুগে এখনও গুছিয়ে উঠতে পারেনি পর্তুগাল। রুবেন দিয়াস এবং আন্তোনিয়ো সিলভা সেরা মানের ডিফেন্ডার। কিন্তু রক্ষণে একতার অভাব এখনও রয়েছে। কোয়ালিফায়ারে সেটা বোঝাও গিয়েছে।

ক্লাবের হয়ে ফর্মের অভাব— লিয়াও এবং নেতোর মতো ফুটবলারেরা ক্লাবের হয়ে ভাল ফর্মে ছিলেন না। ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে দু’জনের খেলাতেই। আন্তর্জাতিক স্তরে সমস্যা হতে পারে।

সম্ভাবনা

রোনাল্ডোর শেষ সুযোগ— ৪১ বছর বয়স হয়েছে। কোচ যতই বলুন, পরের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ফলে দেশকে ট্রফি দেওয়ার শেষ সুযোগ তাঁর সামনে। এই একটি ট্রফিই নেই তাঁর ক্যাবিনেটে। তাঁর গোল করার দক্ষতা এবং বাড়তি খিদে পর্তুগালকে এগিয়ে রাখতে পারে।

কৌশলে বৈচিত্র— কোচ রবার্তো মার্তিনেজ় দ্রুত কৌশল বদলে ফেলতে পারবেন। দলের গভীরতার কারণে অতি আগ্রাসী ফুটবল খেলাতে পারেন। তরুণ ফুটবলার, নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবল তাঁর দলকে সুবিধা দিতে পারে। ব্রুনো, ভিটিনহা এবং বের্নার্দো সিলভা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেন।

পাঁচ পরিবর্তের নিয়ম— দলে যে গভীরতা রয়েছে, তাতে বিকল্পের অভাব নেই মার্তিনেজ়ের কাছে। শেষ মুহূর্তে প্রতিভাবান ফুটবলারদের নামিয়ে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে পর্তুগাল।

football

গ্রাফিক: আনন্দবাডার ডট কম।

শঙ্কা

রোনাল্ডোর শ্লথতা— ৪১ বছর বয়সে আগের মতো ক্ষিপ্রতা নেই রোনাল্ডোর। তার উপর, দল যদি রোনাল্ডোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তা হলে বিপদ। দলের অতি আগ্রাসী ফুটবলের সঙ্গে এখন তিনি মানিয়ে নিতে পারবেন কি না, প্রশ্ন থাকছে।

বিশ্বকাপের চাপ এবং প্রত্যাশা— ট্রফি জেতার দাবিদার থাকা পর্তুগালের উপর প্রত্যাশার চাপ থাকবে মারাত্মক। প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে কাঁটাছেঁড়া রহবে। বাইরের আওয়াজকে আটকানোর উপায় খুঁজতে হবে পর্তুগালকে। আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না।

গ্রুপ পর্বের চাপ— পর্তুগালের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষেরা সমস্যা তৈরি করতে পারে। কলম্বিয়া কঠিন দল নিঃসন্দেহে। কঙ্গো, উজ়বেকিস্তানও চমকে দিতে পারে।

পর্তুগাল দল

গোলকিপার— দিয়োগো কোস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্ডো ভেলহো।

ডিফেন্ডার— টোমাস আরাউখো, জোয়াও ক্যানসেলো, দিয়োগো দালত, রুবেন দিয়াস, গন্সালো ইনাসিয়ো, নুনো মেন্দেস, ম্যাথেউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, রেনাতো ভেগা।

মিডফিল্ডার— স্যামুয়েল কোস্তা, ব্রুনো ফের্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, রুবেন নেভেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিটিনহা।

ফরোয়ার্ড— ফ্রান্সিসকো কনসিসাও, জোয়াও ফেলিক্স, গন্সালো গুয়েদেস, রাফায়েল লিয়াও, পেদ্রো নেতো, গন্সালো রামোস, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, ফ্রান্সিসকো ত্রিনসাও।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সর্বশেষ
১৩ ঘণ্টা আগে
Cristiano Ronaldo Portugal Roberto Martínez
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy