Advertisement
E-Paper

৫ ডিফেন্ডার: অভিজ্ঞ কিমিচ থেকে তরুণ স্যালিবা, বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের চিন্তার কারণ হতে পারেন এশিয়ার এক ফুটবলারও

ফুটবলে ডিফেন্ডারদের ভূমিকা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। গোল দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি দলকে নিজেদের দুর্গও সুরক্ষিত রাখতে হয়। ভরসা ডিফেন্ডারেরা। বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের পা থেকেই আবার শুরু হয় প্রতি আক্রমণ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১২:৪৪
picture of football

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফুটবলের অন্যতম মূল আকর্ষণ গোল। যাঁরা গোল করেন, তাঁরা নায়কের মর্যাদা পান। লিয়োনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কিলিয়ান এমবাপেদের কাজটা মোটেও সহজ নয়। তাঁদের আটকানোর জন্য থাকেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারেরা। যাঁদের পরাস্ত করতে বা টপকাতে না পারলে গোল করা সম্ভব নয়।

এ বারের বিশ্বকাপে খেলবেন বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। যাঁরা প্রতিপক্ষ দলগুলির কোচ বা স্ট্রাইকারদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন। যাঁদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করতে হয়। দলগুলির রক্ষণের শক্তি খতিয়ে দেখে পাঁচ ডিফেন্ডারকে বেছে নিল আনন্দবাজার ডট কম। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভোঁতা করতে যাঁদের জুড়ি মেলা ভার।

উইলিয়াম স্যালিবা (ফ্রান্স)

২৫ বছরের সেন্টার ব্যাক ফ্রান্স এবং আর্সেনালের রক্ষণের অন্যতম ভরসা। অসম্ভব ঠান্ডা মাথার ফুটবলার স্যালিবা। চাপের পরিস্থিতিতেও নিখুঁত থাকার চেষ্টা করেন। দ্রুত জায়গা বদল করতে পারেন। অনুমান ক্ষমতা দুর্দান্ত। মাঠের অনেকটা অংশজুড়ে খেলেন। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে প্রায় চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায় স্যালিবাকে। বিশ্বের সবচেয়ে চতুর এবং দক্ষ উইঙ্গারেরাও ফরাসি ফুটবলারকে সমীহ করেন। বিশ্বকাপের সেরা ডিফেন্ডার হওয়ার দৌড়ে স্যালিবা নিশ্চিত ভাবে থাকবেন। ফ্রান্সের সমর্থকদের তো বটেই, অন্য দলের সমর্থকদেরও নজর থাকবে তাঁর উপর।

জোশুয়া কিমিচ (জার্মানি)

অভিজ্ঞ কিমিচ সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। ৩১ বছরের রাইট ব্যাক জার্মানির হয়ে শতাধিক ম্যাচ খেলেছেন। বায়ার্ন মিউনিখের ফুটবলার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবেও খেলতে পারেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারের বল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা অসাধারণ। জার্মানির রক্ষণ ভাগ তাঁর নেতৃত্বেই লড়াই করে। পাশাপাশি দলের আক্রমণও শুরু হয় তাঁর পা থেকে। কিমিচকে জার্মানির মাঝমাঠের জেনারেল বললে ভুল হয় না। মাঝ মাঠ থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চেরা পাস দিতে পারেন। সেট পিসে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ বারের বিশ্বকাপে কিমিচের মতো আক্রমণাত্মক ডিফেন্ডার সম্ভবত দ্বিতীয় কেউ নেই। কিমিচকে নজরে না রাখলে যে কোনও দল বিপদে পড়তে পারে বিশ্বকাপে।

এজ়রি কনসা (ইংল্যান্ড)

ক্লাব ফুটবলে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে খেলেন ২৮ বছরের ডিফেন্ডার। রাইট ব্যাক এবং সেন্টার ব্যাক— দু’জায়গাতেই সমান স্বচ্ছন্দ। বিশ্বের অন্যতম সেরা টেকনিক্যাল ডিফেন্ডার। যোগ্যতা অর্জন পর্বে ইংল্যান্ডের হয়ে আটটি ম্যাচেই খেলেছেন কনসা। ওই আটটি ম্যাচে একটাও গোল খায়নি ইংল্যান্ড। ৬ ফুট উচ্চতার কনসা ভেসে আসা বলে (এরিয়াল বল) প্রায় অপ্রতিরোধ্য। নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তাঁকে টপকে গোল করা ফুটবলের অন্যতম কঠিন কাজগুলির একটি। বিশ্বকাপেও তিনি ইংল্যান্ডের হ্যারি কেনের দলের অন্যতম ভরসা। তাঁর পারফরম্যান্সের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ইংল্যান্ডের খেলা। মার্ক গেহি এবং কনসা আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক জুটি।

কিম মিন-জায়ে (দক্ষিণ কোরিয়া)

৬ ফুট ৩ ইঞ্চির সেন্টার ব্যাক কিম পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন দক্ষিণ কোরিয়ার বক্সের সামনে। বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম একাদশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২২ থেকে ইউরোপে ক্লাব ফুটবল খেলছেন। ডিফেন্ডার হলেও কিম সহজাত আক্রমণাত্মক ফুটবলার। সতীর্থদের সঙ্গে পাস দেওয়া-নেওয়া করতে করতে যে কোনও সময় পৌঁছে যান প্রতিপক্ষের বক্সে। আবার বড় শরীরের সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকারদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। প্রতিপক্ষ দলে ২৯ বছরের কিম থাকলে বিশ্বের যে কোনও কোচকে অতিরিক্ত মাথা ঘামাতে হয়। বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম ভরসা।

নাহুয়েল মোলিনা (আর্জেন্টিনা)

২৮ বছরের ডিফেন্ডারকে হিসাবের বাইরে রাখলে বড় ভুল করবে প্রতিপক্ষ দলগুলি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলেন মোলিনা। এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইট ব্যাক। আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনির বড় ভরসা। দলের রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি দ্রুত উপরে উঠে স্ট্রাইকারদের সাহায্য করতে পারেন। প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলার মতো সুযোগ বা পরিস্থিতি তৈরি করেন মাঝে মাঝেই। স্কালোনির দলের অনেক আক্রমণ তৈরি হয় তাঁর পা থেকেই। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের অন্যতম কারিগর। বড় প্রতিযোগিতা বা ম্যাচ খেলার মানসিক শক্তি রয়েছে। মোলিনাকে টপকে গোল করা কঠিন। অনুমান ক্ষমতা ভাল। প্রতিপক্ষের আক্রমণ দানা বাঁধার আগেই নির্বিষ করে দিতে পারেন।

সংক্ষেপে
  • ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এ বার প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
  • আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নিয়েছে ফিফা।
  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সর্বশেষ
৪৩ মিনিট আগে
Defender
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy