E-Paper

প্রয়াত সত্তর দশকের ময়দানের শিল্পী মোহন

২০২১ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর থেকেই কথা বলতে পারতেন না মোহন সিংহ। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৮:২১
স্মৃতি: মোহন সিংহ।

স্মৃতি: মোহন সিংহ। —ফাইল চিত্র।

স্তব্ধ কলকাতা ময়দানের মোহনবাঁশি! দীর্ঘ অসুস্থতার পরে চলে গেলেন তিন প্রধানে খেলা প্রাক্তন ফুটবলার মোহন সিংহ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

২০২১ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পর থেকেই কথা বলতে পারতেন না মোহন সিংহ। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। দুপুর ১.১০-এ প্রয়াত হন ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণ যুগের শিল্পী মোহন সিংহ।

পঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার ঘুঙরানা গ্রাম থেকে কলকাতায় ভবানীপুরে চলে এসেছিলেন তিন প্রধানের প্রাক্তন ফুটবলারের বাবা নারায়ণ সিংহ। মোহন সিংহের জন্ম ১৯৪৭ সালে। ১৯৬৭ সালে এরিয়ান থেকে উত্থান তাঁর। পরের বছর যোগ দেন বিএনআরে। চার বছর রেল দলে খেলে যোগ দেন ইস্টবেঙ্গলে। ১৯৭২ সালে লাল-হলুদ জার্সিতে অভিষেকেই আলোড়ন ফেলে দেন। মোহন সিংহের জন্যই সমরেশ চৌধুরীকে মাঝমাঠ থেকে উইংয়ে খেলাতে বাধ্য হয়েছিলেন কিংবদন্তি কোচ প্রদীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মরসুমে অপরাজিত থেকে পাঁচটি ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১টি গোল করেছিলেন। ১৯৭২ সালেই বর্মার (বর্তমানে মায়ানমার) বিরুদ্ধে অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয় মোহন সিংহের। জাতীয় দলের হয়ে মোট তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে ১৯৭৩ সালে মোহনবাগানে চলে যান মোহন সিংহ। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বিতে গোলও করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সতীর্থের প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ গৌতম সরকার বলছিলেন, ‘‘১৯৭২ সালে ইস্টবেঙ্গল বনাম মহমেডান ম্যাচের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। আমার ফুটবল জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ ছিল। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠে মোহনের সঙ্গে আমি ছিলাম। ও একাই মহমেডানকে চূর্ণ করে দিয়েছিল। বলের উপরে মোহনের নিয়ন্ত্রণ ছিল অবিশ্বাস্য।’’ যোগ করলেন, ‘‘চোটের কারণে দীর্ঘ দিন বড় ক্লাবে খেলা চালিয়ে যেতে পারেনি মোহন। কিন্ত যত দিন খেলেছে, মাতিয়ে দিয়েছে। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ও যখন উঠত, দর্শকদের পাশাপাশি আমরাও মুগ্ধ হয়ে দেখতাম।’’ মোহন সিংহের শৈশবের বন্ধু প্রাক্তন গোলরক্ষক তরুণ বসু বলছিলেন, ‘‘১৪ বছর বয়স থেকে আমাদের মধ্যে যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল, বৃহস্পতিবার তাতে ছেদ পড়ল। আমি মনে করি, মোহনের আরও সম্মান প্রাপ্য ছিল।’’

১৯৭৫ সালে ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন মোহন সিংহ। পরের বছর সই করেন মহমেডানে। ইস্টবেঙ্গলে দুই পর্বে মোট আটটি ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। মোহনবাগানের হয়ে জিতেছেন দু’টি ট্রফি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

footballer

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy