এক সময় মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে মহমেডানের লড়াইকে আখ্যা দেওয়া হত ‘মিনি ডার্বি’ হিসাবে। তবে আইএসএলে এখন এই লড়াইয়ের গুরুত্ব কমেছে। কলকাতার বাকি দুই প্রধানের সঙ্গে কোনও লড়াই-ই দিতে পারছে না মহমেডান। তাই শনিবার যুবভারতীতে মোহনবাগান বনাম মহমেডান লড়াইয়ের আগে উৎসাহ নেই কারওরই। তবু বিদেশিহীন মহমেডানকে কোনও ভাবেই হালকা ভাবে নিতে রাজি নয় মোহনবাগান। অন্য দিকে, সীমিত সামর্থ্য নিয়ে মহমেডানও চাইছে বড় দলের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াই উপহার দিতে।
আইএসএলে টানা দু’টি ম্যাচে জিতলেও মোহনবাগানের ফুটবল মন ভরিয়েছে সমর্থকদের, এমন বলা যাবে না। গোলের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে প্রতি ম্যাচেই। তাই মহমেডানের বিরুদ্ধে কোনও ভুল চান না কোচ সের্জিয়ো লোবেরা। তিনি বলেছেন, “আমি কোনও দলকেই দুর্বল ভাবি না। তাই মহমেডানকেও ছোট করে দেখছি না। দুর্বল ভেবে ফুটবলারদের মনোভাবে বদল হোক সেটা একেবারেই কাম্য নয়। প্রথম দুই ম্যাচে দল যে ভাবে খেলেছে, সে ভাবেই খেলতে হবে। তিন পয়েন্ট খুবই দরকার।”
লোবেরার সংযোজন, “এমনিতেই আমরা ছোট লিগ খেলছি। সেখানে হোঁচট খেলে পরের দিকে সমস্যায় পড়তে হবে। মহমেডানে কারা খেলছে সেটা নিয়ে ভাবছিই না। এটাই মাথায় রাখছি, ওরা হারলেও প্রতি ম্যাচে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছে। আগের ম্যাচে জামশেদপুরও ওদের হারাতে গিয়ে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে। তাই আমাদেরও মহমেডানের বিরুদ্ধে সেরাটা দিতে হবে।”
মহমেডানে বিদেশি ফুটবলার না থাকলেও মোহনবাগানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে সেরা ফুটবলারেরা খেলছেন। এটা মোহনবাগানের কাছে বাড়তি সুবিধা হতে পারে। পাশাপাশি, মহমেডানের বিরুদ্ধে কিছু ফুটবলারকে বিশ্রাম দেওয়ারও ভাবনাচিন্তা চলছে। যদিও লোবেরা সে সব মানেননি। তিনি বলেছেন, “মহমেডানের দেশি ফুটবলারেরা মোটেই খারাপ নয়। প্রথম দু’ম্যাচে ওরা লড়াকু ফুটবল খেলেছে। আইএসএলের মঞ্চ বেছে নিয়েছে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য। তাই আমাকে সেরা একাদশই নামাতে হবে। এমনিতেই ছোট লিগে খেলছি। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনও জায়গাই নেই। দলে ঘন ঘন বদল আনলে ছন্দপতন হতে পারে।”
চেন্নাইয়িন ম্যাচের আগে লোবেরা জানিয়েছিলেন, জয়ের পাশাপাশি গোলপার্থক্যও তাঁদের মাথায় রয়েছে। একই লক্ষ্য নিয়ে কি মহমেডানের বিরুদ্ধেও নামবেন? স্পেনীয় কোচের জবাব, “আগে থেকে বলা সম্ভব নয় যে কত গোল করব। ভাল খেললে সেটা হতেই পারে। প্রথম দুটো ম্যাচে গোলের অনেক সুযোগ তৈরি করেছি আমরা। কখনওই এক গোলে এগিয়ে থাকতে চাই না। দুটো বা তিনটে গোলের ব্যবধান জরুরি।”
আরও পড়ুন:
এ দিকে, মহমেডানের এমনিতেই সমস্যা অনেক। ফুটবলারেরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। আইএসএলে খেলার মতো ভাল গুণমানের ফুটবলারও নেই। তবু হাল ছাড়তে নারাজ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুর দল। এ দিন মহমেডানের কোচ বলেছেন, “এই মরসুম খুবই কঠিন। প্রাক মরসুম প্রস্তুতির সময়ই পাইনি। একদম নতুন দল রয়েছে আমাদের হাতে। তাই রাতারাতি কোনও ফলাফল উপহার দেওয়া সম্ভব নয়। তবু ফুটবলারদের প্রশংসা প্রাপ্য। ওরা নিয়মিত বেতন পায় না। তা-ও কোনও অভিযোগ না করে ভাল খেলার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।”