আইএসএলে অতীতে ইস্টবেঙ্গল পর পর দু’টি ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু টানা তিনটি ম্যাচ জেতার নজির এখনও গড়তে পারেনি তারা। শুক্রবার সেই সুযোগই রয়েছে তাদের সামনে। জামশেদপুরকে হারাতে পারলে জয়ের হ্যাটট্রিকই শুধু হবে না, লিগের পয়েন্ট তালিকাতেও সবার উপরে থাকতে পারবে তারা। তবে জয়ের হ্যাটট্রিক নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইছেন না ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। তাঁর লক্ষ্য ম্যাচটি জিতে ঘরে তিন পয়েন্ট আনা।
ভবিষ্যতের কথা ভাবতে নারাজ ব্রুজ়ো। তিনি একটি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চান। আপাতত লক্ষ্য জামশেদপুরকে হারানো। অস্কার বলেছেন, “আমি কখনওই দূরের কথা ভাবতে ভালবাসি না। ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চাই। সে কারণেই জামশেদপুরকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পাওয়া আমার কাছে জরুরি। আমি জানি ইস্টবেঙ্গল আগে কখনও আইএসএলে টানা তিনটি ম্যাচ জেতেনি। তবে সেই চাপ মাথায় নিয়ে খেলতে নামলে মুশকিল। নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুটবল খেলে ম্যাচটা জেতাই আমাদের লক্ষ্য।”
প্রতিপক্ষ দলকে নিয়েও সতর্ক ব্রুজ়ো। বলেছেন, “জামশেদপুর যথেষ্ট শক্তিশালী দল। ওরাও আমাদের মতো টানা দুটো ম্যাচ জিতেছে। ওদেরও আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রয়েছে। ওয়েন কয়েল কোচ হিসাবে রয়েছেন, যিনি আগে জামশেদপুরকে লিগ-শিল্ড জিতিয়েছেন। তা ছাড়া মাধি তালাল, রাফায়েল মেসি বৌলির মতো ফুটবলার রয়েছে ওদের। যে কোনও দলকেই ওরা হারানোর ক্ষমতা রাখে। তাই সতর্ক থাকতেই হবে আমাদের।”
ঘটনাচক্রে, তালাল, মেসি বৌলি দু’জনেই গত বার ইস্টবেঙ্গল দলের সদস্য ছিলেন। বিশেষ করে চোট পাওয়ার আগে তালাল যথেষ্টই ভাল খেলেছিলেন। ফরাসি ফুটবলারকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কি আক্ষেপ রয়েছে? মানতে চাইলেন না ব্রুজ়ো। তাঁর কথায়, “তালালকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টা আমার হাতে ছিল না। পরিস্থিতির কারণেই ওকে চলে যেতে হয়েছে। তবে শুক্রবার যে দল মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করবে তারাই জিতবে। আমরাও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। তবে এটাও ঠিক, শুধু মাঝমাঠের ফুটবলার নয়, বাকিদেরও ভাল খেলতে হবে। জিততে গেলে স্ট্রাইকারদের গোল করতে হবে।”
কোচের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন সাউল ক্রেসপো। আগের ম্যাচে তাঁকে খেলানো হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, সাউল এবং ব্রুজ়োর সম্পর্কে না কি ফাটল ধরেছে। তা মানতে চাইলেন না ইস্টবেঙ্গলের কোচ।
ব্রুজ়ো বলেছেন, “খারাপ খেললে সমালোচনা সহ্য করতে হয়। সেটা মেনে নিতে রাজি। কিন্তু অসত্য খবর পরিবেশন করাও খুব খারাপ। অনেকেই চায় আমাদের পারফরম্যান্স খারাপ হোক। আগের ম্যাচে সাউলকে না খেলানোর পিছনে নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। ফুটবলারদের সমস্যায় কোচের কাজ তাদের পাশে দাঁড়ানো। ওদের সুরক্ষিত রাখা। তাই প্রয়োজনে অনেক অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এটুকু বলতে পারি, শুক্রবার মিগুয়েলের খেলা নিয়ে সংশয় নেই। ম্যাচের আগে কেমন আছে, তা দেখেই ঠিক করব সাউলকে খেলাব কি না।”
আরও পড়ুন:
সাউল নিজে অবশ্য খেলার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেছেন, “আগের চেয়ে আমি সুস্থ। ম্যাচের আগে আমার ফিটনেস কেমন আছে তার উপরে নির্ভর করছে শুক্রবার খেলতে পারব কি না। কোচ চাইলে আমি খেলতে তৈরি। আমাকে নিয়ে অনেক অসত্য খবর লেখা হয়েছে, যা ঠিক নয়। আমার সঙ্গে দলের সকলের সম্পর্ক ভাল। যারা জোর করে ভাঙন ধরাতে চাইছে তারা সফল হবে না।”