আইএসএল নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়েও হচ্ছে না। এ বার জুড়ে গেল রাজনীতিও। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয় আইএসএল শুরুর তারিখ ঘোষণা করেন। তখনই মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের নাম বিকৃত ভাবে উচ্চারণ করেন। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কেন দেশের অন্যতম প্রাচীন দুই ক্লাবের নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে পারবেন না?
সাংবাদিক বৈঠকে মোহনবাগানের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খান মনসুখ। ‘মোহন’ উচ্চারণ করেই কিছু ক্ষণ বিরতি নিয়ে বলেন, ‘মোহনবেগন’। এর পরেই তিনি বলেন, ‘ইস্টবেগন’। বাকি ক্লাবেদের নাম মোটামুটি ঠিক ভাবেই উচ্চারণ করেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস ঘটনার ভিডিয়ো দিয়ে লিখেছে, “বাংলার শতবর্ষ পুরনো দুই ফুটবল ক্লাবের নাম তাদের প্রাপ্য সম্মানের সাথে উচ্চারণ করতে পারেন না ক্রীড়ামন্ত্রী। ‘মোহনবেগন’ নয়, ওটা মোহনবাগান। ‘ইস্টবেগন’ নয়, ইস্টবেঙ্গল। এই ক্লাবগুলি বাংলার প্রতিষ্ঠান। তাই বাংলা-বিরোধী শক্তিরা একে কেবল অবজ্ঞার চোখেই দেখে এসেছে। ফুটবল বাংলার রক্তে। আমরা ফুটবলে বাঁচি এবং শ্বাস নিই। ফুটবলকে জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয় মনে করি। এই বহিরাগতরা বাংলাকে চিরকাল অবজ্ঞার চোখে দেখেছে। তারা কখনওই এ সব বুঝতে পারবে না। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ১৭ জানুয়ারি রাজ্য সফরের আগে কিছু প্রাথমিক বাংলা শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে বাংলার মাটিতে ভোট ভিক্ষা চাওয়ার সময় আর লজ্জায় পড়তে হবে না তাঁকে।”
তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “মোহনবেগন, ইস্টবেগন’। দেশের দুই কিংবদন্তি ফুটবল ক্লাব মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কোনও ধারণাই নেই বিজেপির দিশাহীন ক্রীড়ামন্ত্রীর। লজ্জাজনক। সেই বিজেপি নাকি বাংলা জয় করতে চায়। গেরুয়াধারীরা পুরোপুরি মুছে যাবে।”
রাজ্যের শাসকদলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ লিখেছেন, “যারা ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিল সেই মোহনবাগান এবং বাংলা গর্ব ইস্টবেঙ্গলকে অপমান মানে বাংলার গর্বকে অপমান করা। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, উনি বাংলার ঐতিহ্যশালী ক্লাব তো বটেই, বাংলার ইতিহাসের ব্যাপারেও কিছু জানেন না। এটা বাংলা-বিরোধী কাজ। এবং যারা বাংলাকে মানে না, বাংলা তাদেরকে মানে না।”
আরও পড়ুন:
কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, “দেশের ক্রীড়ামন্ত্রী ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের নামটুকু জানবেন না? যে ক্লাবগুলো দেশকে আন্তর্জাতিক সম্মান এনে দিয়েছে, আপনি তাদের নামটুকু পর্যন্ত উচ্চারণ করতে পারেন না? আর কত অপমান করবেন বাঙালিকে? অবশ্য যাঁরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলেন, বন্দে মাতরম বলতে গিয়ে বন্দে ভারত করে দেন, তাঁদের কাছে মোহনবাগান যে মোহনবেগান হবে, ইস্টবেঙ্গল ইস্টবেগন হবে এটাই স্বাভাবিক।”
সিপিএম একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে কী ভাবে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে হবে, তা বুঝিয়ে দিয়েছে।