লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে শনিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ঘটনায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির। ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসাবে বার বার আঙুল উঠছে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে। তাঁর দফতরের প্রতিমন্ত্রীও কার্যত দায়ী করলেন অরূপকে।
মনোজের বক্তব্য, শনিবার মেসির পাশে যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের সকলকেই বিশৃঙ্খলার দায় নিতে হবে। আনন্দবাজার ডট কম-কে রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফোনে বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন ভিডিয়ো এবং ছবিতে যাঁদের দেখলাম, তাঁদের প্রত্যেকেরই দায়। যাঁদের জন্য মেসি দ্রুত মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, দায় তাঁদের সকলের।’’ ঘটনা হল, ছবিতে যাঁদের দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অরূপও। গত বেশ কয়েক মাস যাবৎই দল এবং প্রশাসনের সঙ্গে মনোজের সম্পর্ক অবশ্য ভাল নয়। তিনি মন্ত্রী হলেও বিধানসভার অধিবেশনে যোগ দেন না। দফতরের কাজেও তাঁকে সে ভাবে দেখা যায় না। ফলে অনেকে মনোজের বক্তব্যের মধ্যেই সেই বিষয়গুলিও মনে করিয়ে দিতে চাইছেন।
টিকিটের দাম এবং মেসিকে ঘিরে থাকা জটলার দিকে আঙুল তুলে মনোজ রবিবার বলেন, ‘‘মেসিকে ঘিরে অন্তত ২০০ লোক ছিল দেখলাম। এত লোকের ওখানে থাকা উচিত হয়নি। টিকিটের এত দাম রাখাও ঠিক হয়নি। কলকাতা তো মুম্বই-দিল্লি নয়।’’
মনোজ সরাসরি নাম না-করলেও ঘিরে থাকা মানুষদের মধ্যে ছিলেন মন্ত্রী অরূপও। বরং অরূপই মেসির সবচেয়ে কাছে ছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিক বার সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও শোনেননি রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী। মেসিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। শনিবার থেকেই সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের রোষানলে রয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ শনিবারও মুখ খুলেছিলেন সমাজমাধ্যমে। লিখেছিলেন, ‘‘আমার শহরে যা ঘটেছে, তাতে আমি বাক্রুদ্ধ। খুবই লজ্জাজনক ঘটনা এটা। এক জন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদ হিসাবে অনুভব করতে পারছি, মেসির জন্য কতটা লজ্জাজনক পরিস্থিতি ছিল। আমরা সকলে মেসিকে ভালবাসি। তাঁকে ঘিরে এই উন্মাদনা প্রত্যাশিতই ছিল। ’’
মনোজ আরও লিখেছেন, ‘‘মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত গ্রেফতার হয়েছেন। দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করায় পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ। যুবভারতীতে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের কষ্টার্জিত অর্থ এবং আবেগ নিয়ে শতদ্রু যে ভাবে ছেলেখেলা করেছেন, তা শাস্তিযোগ্য। কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। শতদ্রুর আর একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অব্যবস্থাপূর্ণ ঘটনা। সৌভাগ্য যে আমি উপস্থিত ছিলাম না।’’ এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনে শতদ্রুর যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মনোজ। লিখেছেন, ‘‘কলকাতায় এই ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে শতদ্রুর যোগ্যতা নিয়ে আমি প্রথম থেকেই সন্দিহান ছিলাম। মেসির মতো এক জন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের অনেক ভাল কিছু প্রাপ্য ছিল। আমি নিশ্চিত রাজ্য সরকার শতদ্রু এবং ব্যবস্থাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করবে। এটা কলকাতার প্রাপ্য ছিল না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- শনিবার ঠিক সকাল ১১.৩০ মিনিটে যুবভারতীর মাঠে ঢোকে মেসির গাড়ি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল।
- ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে। তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে গ্যালারি থেকে শুধু মেসিকে নয়, লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা যায়নি।
- মেসি যুবভারতীতে পৌঁছোতেই অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষের ভিড় ঘিরে ধরে তাঁকে। মূলত মন্ত্রী, কর্তারাই ঘিরে ধরেন মেসিকে।
-
যুবভারতীকাণ্ড: টিকিটের টাকা ফেরত দেবেন কি শতদ্রু দত্ত? বিধাননগর আদালতে পুলিশের মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল
-
যুবভারতীকাণ্ডের ৩৭ দিনের মাথায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন শতদ্রু দত্ত, ১০ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তির নির্দেশ আদালতের
-
মেসির অনুষ্ঠানে অশান্তি, ভাঙচুর হওয়া যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কার শুরু হচ্ছে জানুয়ারি থেকেই, দায়িত্বে পূর্ত দফতর
-
মেসি-মূর্তির জমির মালিক কে? লেকটাউন ঘুরে উত্তর মিলল না, মুখে মুখে ঘুরছে সুজিতের নাম, তবে দিনভর নীরব রইলেন মন্ত্রী
-
যুবভারতীকাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আর্জি খারিজ হাই কোর্টে! রাজ্যের সিটের কাজে হস্তক্ষেপ করল না আদালত