ক্রিকেটে এই দৃশ্য বহু বার দেখা গিয়েছে। সৌজন্যে ভারত-পাকিস্তান। গত এশিয়া কাপে তিন বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। এক বারও হাত মেলাননি ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা। সেই ছবি ফিরল টেনিসেও। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন বেলারুশের এরিনা সাবালেঙ্কা ও ইউক্রেনের এলিনা সোয়াইতোলিনা। হাত মেলালেন না দুই তারকা।
সাবালেঙ্কা বেলারুশের খেলোয়াড়। সোয়াইতোলিনা ইউক্রেনের। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বেলারুশ রাশিয়ার পক্ষে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স সংস্থা রাশিয়া ও বেলারুশকে নির্বাসিত করেছে। দেশের পতাকা নিয়ে খেলতে পারেন না ক্রীড়াবিদেরা। টেনিসে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা হলেও সেখানেও এই দুই দেশের খেলোয়াড়দের নামের পাশে দেশের নাম বা জাতীয় পতাকা থাকে না।
রাশিয়ার পাশে থাকায় বেলারুশও ইউক্রেনের শত্রু দেশ। সেই কারণে সাবালেঙ্কা ও সোয়াইতোলিনাও হাত মেলালেন না। টেনিসে খেলা শুরুর আগে দুই খেলোয়াড় হাত মিলিয়ে ছবি তোলেন। সেটা করেননি তাঁরা। ছবি তুলেছেন। কিন্তু হাত মেলাননি।
খেলা শুরুর পরেই র়ড লেভার এরিনার বড়পর্দায় একটি বার্তা ভেসে ওঠে। তাতে লেখা, “খেলা শেষে দুই খেলোয়াড় হাত মেলাবেন না। ম্যাচ চলাকালীন আমরা আশা করব, আপনারা দুই খেলোয়াড়কে সম্মান জানাবেন।” টেনিসে এই ছবি আগে দেখা যায়নি। যত কঠিন প্রতিপক্ষই হোন না কেন, বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকুক না কেন, খেলোয়াড়োচিত মানসিকতা দেখা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সাবালেঙ্কা বনাম সোয়াইতোলিনা ম্যাচে তা দেখা গেল না।
খেলার মাঝেও একটি বিতর্ক হয়। চেয়ার আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তে মেজাজ হারান সাবালেঙ্কা। প্রথম সেটের চতুর্থ গেমে সাবালেঙ্কার শট সোয়াইতোলিনা ফেরানোর আগে মুখ দিয়ে জোরাল শব্দ করেন সাবালেঙ্কা। চেয়ার আম্পায়ার খেলা থামিয়ে বলেন, চিৎকারের জন্য পয়েন্টটি সোয়াইতোলিনাকে দেওয়া হচ্ছে। সাবালেঙ্কা বোঝানোর চেষ্টা করেন, তিনি প্রতিটি শটেই আওয়াজ করেন। কিন্তু রেফারি তা মানতে চাননি। তাতে বিরক্ত দেখায় সাবালেঙ্কাকে। তবে ম্যাচে দাপট দেখান সাবালেঙ্কা। সোয়াইতোলিনাকে স্ট্রেট সেটে (৬-২, ৬-৩) হারিয়ে টানা চতুর্থ বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের মহিলাদের সিঙ্গলসের ফাইনালে উঠেছেন তিনি। নিজের তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার লক্ষ্যে শনিবার কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনার বিরুদ্ধে নামবেন তিনি।
আরও পড়ুন:
গত বছর ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও তার পর অপারেশন সিঁদুরের ফলে দু’দেশের সম্পর্ক তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারতীয় ক্রিকেটারেরা। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জেতার পর পাক বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভির হাত থেকে ট্রফিও নেননি সূর্যকুমার যাদবেরা। সেই ট্রফি ভারত এখনও পায়নি। ভারত-পাকিস্তানের ছোটদের খেলাতেও করমর্দন-বিতর্ক চলেছে। সেই ছবিই এ বার দেখা গেল টেনিসে।