Advertisement
E-Paper

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের রিপোর্টের দিকে নজর রাখছে কেন্দ্র, সংসদে জানাল মোদী সরকার

সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে মন্তব্য করেছে, তা নিয়েও রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৪৫
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। — ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার রিপোর্টে এখনও নজর রাখছে ভারত। সে দেশে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি, ধর্মীয়স্থলে যে হামলা হচ্ছে, সেই রিপোর্টেও নজর রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বারংবার। এই হিংসা, হামলার যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কি অবহিত? রাজ্যসভায় সেই প্রশ্নই করেছিলেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। গত দু’বছরে সে দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে মোদী সরকার সরকারি ভাবে কী পদক্ষেপ করেছে, তা-ও জানতে চেয়েছিলেন সাংসদ। তাঁর লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিংহ জানিয়েছেন, ভারতের আশা, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে তদন্ত’ করবে এবং ‘সংখ্যালঘুদের খুন, তাঁদের বিরুদ্ধে হওয়া হিংসা, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অপরাধীদের বিচার করবে, কোনও অজুহাত ছাড়া’।

কীর্তি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে হিংসার ঘটনার রিপোর্টে ক্রমাগত নজর রাখছে ভারত। তাঁদের ঘরবাড়ি, ধর্মস্থান, কাজের জায়গা আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্টেও নজর রাখা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ভাবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যখন দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তখন বিষয়টি উঠেছিল। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুায়ারি বাংলাদেশের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে যখন বিদেশমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেছিলেন, তখনও বিষয়টি উঠেছিল।’’ সে দেশের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকেও সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের রিপোর্ট ভারতের তরফে তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘‘সংখ্যালঘু-সহ সকল নাগরিকের জীবন এবং স্বাধীনতা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের।’’

সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার যে মন্তব্য করেছে, তা নিয়েও রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছে। সেই প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বলেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের জন্য ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক বিরোধিতা বা অন্য কারণকে দায়ী করার যে উদ্বেগজনক প্রবণতা রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের, তা আদতে কট্টরপন্থী এবং অপরাধীদের হাতকেই শক্ত করে। সেই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং ভীতি উদ্রেক করে।’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশ সরকার এবং সেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ‘স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে’।

গত ৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা এবং তাদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ভারত সরকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার একটি অস্বস্তিকর ‘প্যাটার্ন’ লক্ষ করা যাচ্ছে। দৃঢ় ভাবে এর মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এর ১০ দিনের মাথায় সংখ্যালঘু সমস্যার ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। তাদের দাবি, ২০২৫ সালে যত অপরাধের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে, তার অধিকাংশই অসাম্প্রদায়িক এবং সাধারণ অপরাধমূলক। ধর্ম বা জাতির সঙ্গে অধিকাংশ অপরাধের কোনও যোগ ছিল না। পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। সেই নিয়েই রাজ্যসভায় প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। তা নিয়ে জবাব দিয়েছে মোদী সরকার।

India-Bangladesh Relation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy