আগামী সপ্তাহেই এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনকারী পর্বের ম্যাচে প্রতিপক্ষ কিরঘিজস্তান। বেঙ্গালুরুর সেই দ্বৈরথের আগে মঙ্গলবার প্রীতি ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৯ ধাপ পিছনে থাকা নেপালকে জোড়া গোলে হারিয়ে তার প্রস্তুতি সারল ভারত। এই নিয়ে টানা ছয় ম্যাচেই অপরাজিত রইল স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনের দল। ফলে কিরঘিজস্তান ম্যাচের আগে টিমের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকবে বলেই মনে করছে ভারতীয় ফুটবল দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।
এ দিন মুম্বইয়ের আন্ধেরি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নেপালের বিরুদ্ধে গোল করে স্টিভন কনস্ট্যান্টাইনের ভারতকে জেতালেন সন্দেশ ঝিঙ্গন এবং জেজে লালপেখলুয়া। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ভারত। সেই তাগিদ থেকেই দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে ভারতকে এগিয়ে দেন সন্দেশ। আর তার মিনিট পনেরো পরেই গোল করে ব্যবধান বাড়ান জেজে। চড়া উত্তেজনার ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় নেপালের অধিনায়ক বিরাজ মাহারজনকে। ফলে শেষ কুড়ি মিনিট দশ জনেই খেলতে হয়েছে নেপালকে।
আরও পড়ুন: বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জয়ে ফেরেই জার্মানির কাছে হার ভারতের
চোটের কারণে এ দিন ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী মাঠে ছিলেন না। তিনি মুম্বই এরিনার গ্যালারিতে বসেই খোশমেজাজে দেখলেন তাঁর সতীর্থদের নেপাল বধ। এ দিন নেপালের বিরুদ্ধে চার ব্যাকের আগে রওলিন বর্জেসকে ডিফেন্সিভ স্ক্রিন বানিয়ে ৪-১-৩-২ ছকে শুরু করেছিলেন কনস্ট্যান্টাইন। কিন্তু শুরুতেই রওলিন চোট পেয়ে যাওয়ায় নেপালের রোহিত চন্দ, নবযুগ শ্রেষ্ঠারা ভারতের মাঝমাঠে দাপাতে শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের রক্ষণে আনাস, সন্দেশরা সতর্ক থাকায় বিপদের মুখে পড়তে হয়নি। তবে এরই মাঝে গোল পেয়ে যেতে পারত ভারত। কিন্তু জেজে ও রবিন সিংহরা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করায় প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারেনি। বিশেষ করে রবিন সিংহ। তিনি একাই প্রথমার্ধে নষ্ট করেন দু’টি সহজ গোলের সুযোগ।
এর কিছু পরেই রওলিনকে তুলে নিয়ে ইউজিনসন-কে নামান ভারতীয় কোচ। ইউজিনসন নামতেই আক্রমণে ঝাঁজ বাড়ে। প্রথমার্ধের একদম শেষ দিকে ইনজুরি টাইমে নেপালের নবযুগ শ্রেষ্ঠার গোলের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় ভারতীয় অধিনায়ক গুরপ্রীত সিংহের তৎপরতায়।
ভারত: গুরপ্রীত সিংহ সান্ধু, প্রীতম কোটাল, সন্দেশ ঝিঙ্গন (অর্ণব মণ্ডল), আনাস এডাথোডিকা, নারায়ণ দাস, রওলিন বর্জেস (ইউজিনসন লিংডো), জ্যাকিচন্দ সিংহ (বিকাশ জাইরু), মহম্মদ রফিক, হোলিচরণ নার্জারি (সৈত্যাসেন সিংহ), জেজে লালপেখলুয়া, রবিন সিংহ (ড্যানিয়েল লালহিমপুইয়া)।