দেশের এক তরুণ প্রতিভাবান কুস্তিগিরকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দিল ইরান। সরকার বিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার শাস্তি পেতে হল ১৯ বছরের সালেহ মোহম্মদিকে। দু’জন পুলিশকর্মীকে হত্যার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
দেশ-বিদেশের নানা প্রতিযোগিতায় পদক জিতে ইরানকে গর্বিত করেছিলেন মোহম্মদি। ২০২৮ সালের অলিম্পিক্স কুস্তিতে ইরানের অন্যতম আশা হিসাবে মনে করা হচ্ছিল তাঁকে। তবু রেহাই মিলল না তাঁর। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে বিক্ষোভ-আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অপরাধে অন্য দুই বিদ্রোহীর সঙ্গে তাঁকেও প্রকাশ্যে ফাঁসি দিল ইরানের প্রশাসন। বিক্ষোভের সময় দুই পুলিশকর্মীকে হত্যা করার অভিযোগও আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ইরানের একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের অবশ্য দাবি, প্রশাসনের এই অভিযোগ মিথ্যা।
মোহম্মদিকে ফাঁসি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুম শহরের বেশ কিছু মানুষের সামনেই মোহম্মদিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে দুই প্রতিবাদী সৈয়দ দাভৌদি এবং মেহদি ঘাসেমিকে। গত ৮ জানুয়ারি দুই পুলিশকর্মীকে হত্যার ঘটনার তদন্তে এই তিন জনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
ফাঁসির খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের মানবাধিকার কর্মী মাহমুদ আমিরি মোঘাদ্দম। তিনি বলেছেন, ‘‘নাগাড়ে অত্যাচার এবং বলপ্রয়োগ করে তিন জনের স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তার পর ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’’ এমন আরও ফাঁসির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। এই ঘটনায় ইরানের বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।