×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২০ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

‘এগিয়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গল’, বলছেন ডার্বি থেকে বেঁচে ফেরা রহিম নবি

শান্তনু ঘোষ
কলকাতা ২৬ নভেম্বর ২০২০ ১০:০০
ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায় উচ্ছ্বাস নবির। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া

ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায় উচ্ছ্বাস নবির। ছবি: সোশ্যাল মিডিয়া



নবির ফুটবল জীবনের সব চেয়ে ভয়ঙ্কর দিন।
এটাই ডার্বি। এমনই তার আবেগ। যা কখনও কখনও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। দর্শকদের এমন বাঁধনহারা আবেগ ভুলতে পারেন না ফুটবলাররাও। শুক্রবারের ডার্বি আবার দর্শকহীন। বহু ডার্বির নায়ক নবি বলছিলেন, “ফুটবলাররা মেনে নিয়েছে যে দর্শকহীন অবস্থাতেই খেলতে হবে। তবে ডার্বিতে মাঠে দর্শক নেই, এটা ভাবতেই পারছি না।”
আইএসএল-এর প্রথম ডার্বি নিয়ে পারদ চড়তে শুরু করে দিয়েছে। চলতি বছর শুধু যে ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ তা নয়, ডার্বিরও শতবর্ষ। এই একটা ম্যাচে নতুন তারকারা যেমন জন্ম নেন, তেমনই আবার এই ম্যাচেই আকাশ থেকে খসে পড়ে বহু তারা।
কিছু ম্যাচ আজও চায়ের পেয়ালায় তুফান তোলে। ২০০৯ সালের আই লিগের ডার্বি বললেই যেমন চোখের সামনে ভেসে ওঠে নবির হাসিমুখ। জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। এখনকার ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীকে দিয়ে একটি গোল করিয়েছিলেন। নবি বলেন, “ওই ম্যাচের আগে বার বার ডার্বি হারছিলাম। মোহনবাগানে তখন ভাইচুং, ব্যারেটোর মতো ফুটবলার। আমাদের কোচ হয়ে এলেন সুভাষ ভৌমিক। সেই ম্যাচে দুটো গোল করলাম, সুনীলকে (ছেত্রী) দিয়ে একটা গোল করালাম।” সুভাষ ভৌমিক ডার্বির ইতিহাসের ধারাটাই ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।
শুধু কলকাতার তিন প্রধানের হয়েই নয়, আইএসএল-এও কলকাতার দলের জার্সি পরে নেমেছেন নবি। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের ডিসপ্লে পিকচারেও এটিকের লাল-সাদা জার্সিতে উজ্জ্বল নবি। কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, “কলকাতা মানেই ফুটবল। নতুন জার্সিটা পেলে ওটা পরেই ছবিটা দিতাম।” নতুন জার্সি মানে তো এটিকে-মোহনবাগানের জার্সি। তবে কি আন্তোনিয়ো হাবাসের দলকেই এ বারের ডার্বিতে এগিয়ে রাখছেন বহু ডার্বি যুদ্ধের নায়ক? এখন পিয়ারলেসের হয়ে খেলা নবি বলেন, “ডার্বিতে এ ভাবে নিশ্চিত ভাবে কাউকে এগিয়ে রাখা যায় না। সে দিন যে ভাল খেলবে, সে-ই জিতবে। আমি ভাল ফুটবলের পক্ষে।”



গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে ডার্বি, যে ছবি এ বার দেখা যাবে না।
ইতিমধ্যেই প্রথম ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাসী এটিকে-মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গল এখনও মাঠেই নামেনি। অভিজ্ঞ নবি বলছেন, “জিতলেও, মোহনবাগান মোটেও ভাল খেলতে পারেনি কেরলের বিরুদ্ধে। প্রত্যাশা পূরণও করতে পারেনি। হয়তো প্রথম ম্যাচ বলেই। তবে কেরল কিন্তু ভাল খেলছিল। নিজেদের মধ্যে অনেক পাস খেলছিল। গোল ছাড়া মোহনবাগানের থেকে কিছুই পাইনি।” তবে এটিকে-মোহনবাগান কোচকে চেনেন তাঁর পুরনো ছাত্র। জানেন, চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন স্প্যানিশ কোচ। ডার্বির আগে সমস্ত ত্রুটি বিচ্যুতি ঢেকে দেবেন তিনি।
এ বারের ডার্বিতে কার দিকে নজর রাখবেন? রয় কৃষ্ণর পাশাপাশি মোহনবাগানের প্রবীর দাসের উপরেও নজর রাখতে হবে বলে জানালেন নবি।
কে জিতবে ২৭ তারিখ? প্রশ্নটা করার সময়ে মনে হল হয়তো এড়িয়ে যাবেন উত্তরটা। কিন্তু তিনি রহিম নবি। শুধু ডিফেন্স নয়, মাঝমাঠ হোক বা আক্রমণ সামলানো, সব জায়গাতেই তো তিনি স্বচ্ছন্দ। দাপট দেখিয়েছেন সব পজিশনেই। তেমন ভাবেই দিলেন এই প্রশ্নের উত্তর, “আমি তো মনে প্রাণে ইস্টবেঙ্গলকেই এগিয়ে রাখব।” যুক্তি দিয়ে বললেন, “ইস্টবেঙ্গল প্রতিপক্ষের খেলা দেখে নামতে পারছে। প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছে বেশ কয়েকটা। যেটা ওদের প্লাস পয়েন্ট। আর ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলই সব সময়ে এগিয়ে থাকে।”
মাঠেই ম্যাচের ভাগ্য তৈরি হয়। ভাগ্য গড়ে দেন ফুটবলাররা। এক সময়ে নবির মাথা ও পা যেমন অনেক ডার্বির ফলাফল গড়ে দিয়েছিল। আইএসএলের ডার্বি দেখতে দেখতে নবি যে নস্ট্যালজিক হয়ে পড়বেন, তা বলে দেওয়াই যায়।
Advertisement