Advertisement
E-Paper

আমার চকোলেট হিরো বন্ধুরও বয়স হয়ে গেল

যুবরাজ সিংহ-র বিয়ে। হাজির বিরাট-অনুষ্কাও। গোয়া থেকে প্রিয় বন্ধুর বিয়ে নিয়ে কথা বললেন অঙ্গদ বেদী। শুনলেন সায়ন আচার্য।‘‘...ভাবি ক্যায়সি হো? হিন্দিতে প্রশ্নটা করেই হাসি পেল। আমার সামনে যে মেয়েটি পাত্রীর সাজে বসে, সে ভারতীয় নয়। ব্রিটিশ। হিন্দিটা খুব ভাল বোঝে না। বেশ কিছু দিন ভারতে থাকার কারণে অল্পসল্প বলতে শিখছে শুধু।

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৪:৩৬
নতুন দম্পতি ও যুবরাজের মা শবনমের সঙ্গে বিরাট কোহালি এবং অনুষ্কা শর্মা।

নতুন দম্পতি ও যুবরাজের মা শবনমের সঙ্গে বিরাট কোহালি এবং অনুষ্কা শর্মা।

‘‘...ভাবি ক্যায়সি হো?

হিন্দিতে প্রশ্নটা করেই হাসি পেল। আমার সামনে যে মেয়েটি পাত্রীর সাজে বসে, সে ভারতীয় নয়। ব্রিটিশ।

হিন্দিটা খুব ভাল বোঝে না। বেশ কিছু দিন ভারতে থাকার কারণে অল্পসল্প বলতে শিখছে শুধু।

পাত্রী মানে, হ্যাজেল কিচ।

তা সে প্রশ্নটা শুনে উত্তর দেওয়ার আগেই দেখলাম পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তার বর। আমার বন্ধু।

মাত্র কয়েক মিনিট আগেই হিন্দু ধর্ম মেনে বিয়ে হয়েছে। গোয়ার সমুদ্রকে সাক্ষী রেখে। পাত্র সব দেখেশুনে মুচকি হাসল। রসিকতার সুরে আমাদের দিকে তাকিয়ে বলল, ওরে, এ বার তো একটু প্রশ্ন করা বন্ধ কর তোরা…

ইয়ার কি শাদি। নববধূ হ্যাজেলের সঙ্গে অঙ্গদ।

এই বরকে দুনিয়া চেনে তার ক্রিকেটের জন্য। আমি চিনি প্রায় পঁচিশ বছর।

যুবরাজ সিংহ। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড!

যুবির উত্তর শুনে তখন বাকিরাও হাসছে। এক দিকে দাঁড়িয়ে বিরাট কোহালি আর অনুষ্কা শর্মা। ‘যুবি পা’র বিয়েতে গোয়ায় ছুটে এসেছে বিরাট। সদ্য তৃতীয় টেস্ট জিতে। একটু দূরে সস্ত্রীক রোহিত শর্মা। ব্যস্ততার মাঝে সবাই হাজির গোয়ায়, সময় বার করে। স্রেফ যুবির বিয়ের জন্য।

আসলে, যুবি সবারই খুব ভাল বন্ধু। তা সে বিরাট হোক বা ওর হাতে ছ’টা ছয় খাওয়া স্টুয়ার্ট ব্রড। সবার সঙ্গেই ওর দারুণ ‘দোস্তি’। চণ্ডীগড়ে দিনদুয়েক আগে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ভাঙড়ার তালে টিম ইন্ডিয়া যে নেচেছিল, তা হয়তো সেই কারণেই।

যুবির বিয়েতে কেউ নাচবে না, হয় নাকি? মোহালি টেস্ট জিতে ঠিক সেই কারণে পার্টি করতে হাজির হয়েছিল বিরাট, রাহানে, অশ্বিনরা।

শুক্রবার দুপুরে সমুদ্রের পাশে বসে ওদের বিয়ে দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, এই তো সে দিন যুবির সঙ্গে প্রথম আলাপ হল আমাদের দিল্লির বাড়িতে। আর, আজ কি না সেই বেস্ট ফ্রেন্ডেরই বিয়ে!

এখনও স্পষ্ট মনে পড়ে, প্রথম যে দিন যুবরাজ সিংহ নামক ছেলেটার সঙ্গে আলাপ হয়, তার বয়স এগারো। আর আমার নয়। প্রথম যে দিন শুনলাম আমার বাবা বিষেণ সিংহ বেদীর কাছে চণ্ডীগড় থেকে ক্রিকেট শিখতে আসছে তাঁর পুরনো বন্ধু যোগরাজ সিংহের ছেলে, ভেবেছিলাম কেউ একটা হবে হয়তো। কিন্তু সেই ছেলেই যখন আমার স্পিন সামলে পরপর ছয় মারতে লাগল, বুঝলাম, এর থেকে ভাল বন্ধু হতে পারে না।

সম্পর্কের সেই শুরু।

বাইকে করে যুবরাজের আবির্ভাব।

আমার প্রথম সব কিছুর কথাও জানে যুবি। ঠিক যেমন আমি জানতাম হ্যাজেলের আগে যুবির সব হার্টব্রেকের কথা। বছরখানেক আগে যে দিন হঠাৎ মাঝরাতে ফোন করে বলল, ‘শুন, মুঝে শাদি করনা হ্যায়’, বুঝে গিয়েছিলাম যুবি ওর আসল পার্টনার পেয়ে গিয়েছে।

আমরা ইয়ার্কি মেরে হ্যাজেলের নাম দিয়েছিলাম ‘কাইফ’। আসলে মাঠে মহম্মদ কাইফের সঙ্গে যুবির জুটিটা যেমন দারুণ ছিল, হ্যাজেলের সঙ্গে ওরটা ঠিক তেমনই।

কেউ কেউ মনে করেন, যুবি অ্যারোগ্যান্ট। উগ্র। কিন্তু অনেকেই জানেন না, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আসলে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ একজন মানুষ। যে ছোটবেলা থেকে স্ট্রাগল করেছে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে। আর বোধহয় সেই জন্যেই যখন শিখ মতে ফতেগড় সাহিবে দু’দিন আগে বিয়ে হল যুবির— গোটা গ্রাম হাজির ছিল লঙ্গরে। যোগরাজ আঙ্কলের সঙ্গে ডির্ভোসের পর যুবিকে খুব শক্ত হাতে সামলেছেন ওর মা। আমাদের শবনম আন্টি। আজও চণ্ডীগড়ে থাকলেই গুরুদ্বারে হাজির হয় যুবি, লঙ্গর খাওয়াতে। তাই ওর বিয়েতে গোটা গ্রামের উপস্থিত হয়ে যাওয়ায় আশ্চর্যের কিছু নেই।

শুক্রবার দুপুরের অনুষ্ঠানে পাগড়ি আর ট্র্যাডিশনাল পোশাকে একেবারে অন্য রকম লাগছিল যুবিকে। আমরা বেশ মজাও করছিলাম ওকে নিয়ে। এক সময়কার মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর বলে কথা, তার বিয়েতে একটু মজা হবে না! তা ছাড়া ওকে আমরা প্যাড, গ্লাভস আর হেলমেটে দেখেই অভ্যস্ত। আজ সেই যুবিকে দেখছিলাম বিয়ের মাঝে সেলফির আবদার মেটাচ্ছে। কখনও পাশে বসে ছবি তুলছে রোহিত আর ঋতিকা, আবার কখনও বিরাট-অনুষ্কা।

বিয়ে মিটতে না মিটতেই হাজির হলাম সন্ধেবেলার রিসেপশনে। আজ, শনিবার সকালে নতুন দম্পতিকে ব্রেকফাস্ট খাওয়াব আমরা, বন্ধুরা। সে নিয়ে কথা বলতে বলতেই দেখি পাশে এসে বসেছে জাহির। কী যেন একটা প্ল্যান বানিয়েছে যুবির জন্য।

আসলে যুবির বিয়ের ক্যারাভানের সঙ্গে আমরাও ছুটছি। পার্টি, হইহুল্লোড় হচ্ছে প্রচুর। কখনও যুবি আর হ্যাজলের সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছি ভাগাতোর বিচে। কখনও বা স্রেফ আড্ডা।

দিন দুই পরে দিল্লিতে রিসেপশন। সেখানে হাজির থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সচিন তেন্ডুলকরের। গোয়া পর্বের শেষে নবদম্পতি উড়ে যাবে দিল্লি।

আজকাল প্রায়ই একটা কথা মনে মনে হয়— জীবন কী ভাবে পাল্টে যায়! এই তো সে দিন ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আমাকে প্রথম ফোন করেছিল যুবি। আর যে দিন প্রথম এক মহিলা ফ্যান অটোগ্রাফ চায়, সে দিনও সবার আগে জেনেছিলাম আমিই।

আজ কি না সে হ্যাপিলি ম্যারেড!

চকোলেট হিরোদেরও তা হলে বয়স হয়!..’’

ছবি: টুইটার।

Yuvraj Singh Hazel Keech
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy