Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

সিআর সেভেন মন্ত্রে তৈরি হচ্ছে আটলেটিকো-বধের স্ট্র্যাটেজি

গার্সিয়ার ভয় কলকাতার গার্সিয়াকেই

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
গুয়াহাটি ১৫ অক্টোবর ২০১৪ ০২:১৫
টিম কলকাতা। যুবভারতীতে মঙ্গলবার। ছবি: উত্‌পল সরকার

টিম কলকাতা। যুবভারতীতে মঙ্গলবার। ছবি: উত্‌পল সরকার

ইন্দিরা গাঁধী স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের সন্ধেয় যখন লুই গার্সিয়ার আটলেটিকো কলকাতা নামবে, তাদের জন্য একটা নয়, দু’টো প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করে থাকবে!

একটা অবশ্যই আইএসএল সূচি মেনে জন আব্রাহামের নর্থইস্ট ইউনাইটেড এবং সেটা সন্দেহাতীত ভাবে চমকহীন। চমকটা দ্বিতীয় প্রতিপক্ষে। যে টিম নয়, ব্যক্তি। এবং তাঁর নাম কোনও সূচিতে নেই, কারণ তিনি অদৃশ্য!

তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো!

Advertisement

সশরীরে বৃহস্পতিবারের গুয়াহাটিতে না থেকেও যুদ্ধের আবহে যিনি ভাল রকম আছেন! বলা ভাল, স্পোর্টিং লিসবনে থাকাকালীন সিআর সেভেনের টিমকে দেওয়া এক মন্ত্র, যা সে দিন লিসবনকে জিতিয়ে দিয়েছিল। এত দিন বাদে আবার ফিরছে সেই মন্ত্র। তবে স্পোর্টিং লিসবন ঘাঁটিতে নয়, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের সংসারে।

রোনাল্ডো স্পোর্টিং লিসবন ছেড়েছেন বহু দিন হয়ে গেল। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ঘুরে তিনি এখন রিয়াল মাদ্রিদে। কিন্তু তাঁর দেওয়া টোটকা এখনও মনে আছে মিগুয়েল গার্সিয়ার। মঙ্গলবার নর্থইস্ট রক্ষণের জেনারেল বলছিলেন, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বলত, কখনও শেষ বাঁশি বাজার আগে হারবে না। স্পোর্টিং লিসবনে যখন ওর সঙ্গে খেলতাম, তখনকার একটা ম্যাচ মনে পড়ছে। খেলা শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে পর্যন্ত এক গোলে হারছিলাম। সেই ম্যাচও পরপর দু’টো ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ২-১ জিতিয়েছিল রোনাল্ডো।” পর্তুগিজ মিগুয়েল গার্সিয়া অ্যাকাডেমি ও ক্লাব পর‌্যায়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিরুদ্ধেও খেলেছেন। একটু থেমে যিনি আরও বললেন, “কলকাতার বিরুদ্ধে এটাই আমাদের টিমকে মাঠে কাপদেভিয়া আর আমি বলব!”

এমনিতেই গার্সিয়া বনাম গার্সিয়া ক্যাচলাইন গুয়াহাটিকে উত্তেজিত করে তুলেছে। দিনভর স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তায় তার আঁচও পাওয়া গেল। ৩৫ হাজারের গুয়াহাটি গ্যালারির অধিকাংশ নর্থইস্টের গার্সিয়ার জন্য গলা ফাটাবে ঠিকই, কিন্তু আটলেটিকোর দে কলকাতার লুই গার্সিয়া তাতে পুরোপুরি সমর্থনহীন হয়ে পড়বেন, এমনও নয়। মালিগাঁও, কালাপাহাড়ের বাঙালিরা তো ভাল রকমের ধর্মসঙ্কটে পড়েছেন। গার্সিয়াদের মধ্যে কাকে সমর্থন করবেন তা নিয়ে। নর্থইস্টের অন্দরমহলে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আটলেটিকো টিমে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভীতি-সঞ্চার করছেন যিনি, তিনি লুই গার্সিয়াই। যাঁকে নিয়ে অন্য গার্সিয়াকেও দেখা গেল বেশ টেনশনে। আইএসএলে প্রথম গোল করা ফিকরু জনের টিমে কোকের মতো কারও কারও কাছে চিন্তার আরও একটা কারণ। কিন্তু মিগুয়েল গার্সিয়ার মনে হচ্ছে, কলকাতা টিমটাকে খেলাচ্ছে একটাই লোকলুই গার্সিয়া। টিম হোটেলের লবিতে এ দিন বলেও দিলেন, “কলকাতার প্রথম ম্যাচটা মিনিট কুড়ি টিভিতে দেখেছি। ওদের দলটাকে খেলায় একজনই। সে হল লুই গার্সিয়া। আমাদের কাছে ও একটা থ্রেট-ই বলা যেতে পারে। মুম্বই কোচ পিটার রিডও তো ওকেই কলকাতার আসল লোক বলেছেন শুনলাম।” একটু থেমে আরও যোগ করেন, “গত বছরও ওর সঙ্গে খেলেছি। জানি ও কখন কী করতে পারে। যতই সে দিন বোরহা ফার্নান্দেজ রকেট শটে গোল করুক। গার্সিয়া ইজ গার্সিয়া।”


আটলেটিকোকে রুখতে জন আব্রাহামই যেন কোচ। নর্থইস্টের গার্সিয়াকে
নিয়ে ক্লাস টিম মালিকের। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে। ছবি: উজ্জ্বল দেব



দুই গার্সিয়াকে ঘিরে যুদ্ধের মতোই দুই টিমের ‘গুপ্তচর-বৃত্তি’-রও লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। নর্থইস্ট কোচ রিকি হার্বার্ট কলকাতায় গিয়ে টিম আটলেটিকোকে মেপে এসেছিলেন। দেখে বুঝেছেন যে টিম কলকাতার খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন লুই গার্সিয়াই। গত কাল আবার নর্থইস্ট ম্যাচ দেখে যা যা টোকার নোটবুকে তুলে নিয়েছেন আটলেটিকোর সহকারী কোচ হোসে ব্যারেটো। রিকি সেটা জানতেন না। শুনে বললেন, “তাই নাকি! তা হলে তো আগের ম্যাচে আমাদের পাসিং, ডিস্ট্রিবিউশন, ব্লকিং, স্ন্যাচিংয়ে যে ভুলগুলো হচ্ছিল, সেগুলো পরের ম্যাচে একদমই হওয়া চলবে না।” তার পর নিজেদের সমানে-সমানে রাখার চেষ্টাও করলেন বলে যে, “আমাদের তারুণ্য আর গতিকেও অন্যরা ভয় পাবে। এই তো আগের ম্যাচেই বলা হচ্ছিল, ট্রেভর মর্গ্যান নাকি ভারতে কোচিং করিয়েছেন আর নিজের পছন্দের ফুটবলারদের দলে নিয়েছেন বলে অ্যাডভান্টেজ কেরল। কিন্তু ম্যাচে কী হল, দেখলেন তো!”

হার্বার্টের জন্য সুখবর, এ দিনই নর্থইস্ট দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কিউয়ি কোচের অন্যতম প্রিয় ছাত্র ইস্টবেঙ্গলের নিউজিল্যান্ডার বিশ্বকাপার লিও বার্তোস। যদিও কলকাতার বিরুদ্ধে তিনি খেলবেন না বলে আপাতত টিম সূত্রের খবর।

তাতে অবশ্য ম্যাচের জৌলুসে প্রভাব পড়া উচিত নয়। যে ম্যাচে এক সময় দ্রোগবা-রিবেরির সঙ্গে খেলা কোকে নামবেন, যেখানে গার্সিয়া বনাম গার্সিয়া হবে, সর্বোপরি যে যুদ্ধে পাওয়া যাবে সিআর সেভেন ‘কানেকশন’ তাতে আর কোনও মশলার দরকার পড়ে কি?

আরও পড়ুন

Advertisement