Advertisement
E-Paper

ব্যর্থতায় একা পল দায়ী নন, বলছেন মোরিনহো

ইংল্যান্ডের এই বিখ্যাত ক্লাবে তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। ‘রেড ডেভিলস’ তাঁর কোচিংয়ে প্রথম মরসুমে ইপিএলে দ্বিতীয় হয়। কিন্তু পরের বার একের পর এক ম্যাচে জঘন্য খেলতে থাকে। যার ফলশ্রুতি ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে তাঁর ছাঁটাই হওয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০১৯ ০৪:৫৫
সমর্থন: সংঘাত ভুলে পোগবার পাশে দাঁড়ালেন মোরিনহো। ফাইল চিত্র

সমর্থন: সংঘাত ভুলে পোগবার পাশে দাঁড়ালেন মোরিনহো। ফাইল চিত্র

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের নতুন ম্যানেজার ওয়ে গুন্নার সোলসারকে নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বরখাস্ত হওয়া ম্যানেজার জোসে মোরিনহো। তাঁর পরিষ্কার কথা, ‘ভাল মানুষ’ সোলসার শেষ পর্যন্ত ম্যান ইউয়ের পুতুলে পরিণত হলে তিনি অবাক হবেন না।

এখানেই থামেননি পর্তগিজ ম্যানেজার। বলে দিলেন, ইংল্যান্ডের এই বিখ্যাত ক্লাবে তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। ‘রেড ডেভিলস’ তাঁর কোচিংয়ে প্রথম মরসুমে ইপিএলে দ্বিতীয় হয়। কিন্তু পরের বার একের পর এক ম্যাচে জঘন্য খেলতে থাকে। যার ফলশ্রুতি ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে তাঁর ছাঁটাই হওয়া।

পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে শুরু করেও সোলসার ম্যান ইউকে ঘিরে নতুন আশার সৃষ্টি করেন। দায়িত্ব নেওয়া পরে ম্যান ইউ এগারো ম্যাচের দশটিতেই জিতে রীতিমতো চমকে দেন। যে কারণে ম্যান ইউ তাঁকে দ্রুত স্থায়ী ম্যানেজার করে দেয়। মজা হচ্ছে, ঠিক তার পর থেকেই আবার ব্যর্থ হতে শুরু করেন পল পোগবারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ জারমাঁকে হারিয়ে চমকে দেওয়া ছাড়া ব্যর্থতাই বেশি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শেষ ন’টি ম্যাচের মাত্র দু’টিতে তারা জয় পায়। লিগ শেষ করে ছ’নম্বরে। প্রথম চারে না থাকতে পারায় পরের বার ম্যান ইউ চ্যাম্পিয়ন্স লিগও খেলতে পারবে না। খেলতে হবে বিরক্তিকর এবং ক্লান্তিকর ইউরোপা লিগে।

এমন একটা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ম্যান ইউয়ের বরখাস্ত হওয়া ম্যানেজার মোরিনহো এক ফরাসি পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘‘একটা সময় ফুটবলারদেরও ক্ষয় শুরু হয়। বিশেষ করে যখন তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করা হয়। তবু আমি বলব ম্যান ইউয়ে আমার সময়ে দ্বিতীয় মরসুমটা খারাপ কিছুই শুরু হয়নি। বরং উল্টোটাই সত্যি। যে ভাবে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম সে ভাবেই সব চলছিল। শুধু ফলাফলের কথা আমি কিন্তু বলছি না। ওই দলটার যথেষ্ট সম্ভাবনাও ছিল।’’ সঙ্গে জুড়লেন আরও বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘‘ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আমাকে কার্যত কমলালেবুর মতো নিংড়ে ফেলা শুরু হল। বলা হল, যে কোনও ভাবে আরও আরও সফল হতে হবে। যদি আপনার হাতে একদল খুবই পেশাদার মানসিকতার ফুটবলার থাকে। যারা একই সঙ্গে উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর প্রতিভাবান। আর ক্লাবে যদি ঠিকঠাক পরিকাঠামো থাকে, তা হলে এ সবের পরেও ভাল কিছু করা যায়। কিন্তু যদি আপনি একা হয়ে যান। ক্লাবের সমর্থন না থাকে। আর কয়েক জন ফুটবলার আপনার বিরোধিতা শুরু করে। আর তারাই ক্লাবের কাছে ভাল ছেলে হয়ে যায়। তা হলে সঙ্কট আসবেই। সাফল্যও দূরে সরে যাবে।’’

এখানেই থামেননি মোরিনহো। নাম না করে সোলসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমি ভাল ছেলে হতে চাইনি। সেটা হলে তিন-চার মাস পরেই পুতুলেও পরিণত হতে হবে। এবং শেষটা কিছুতেই ভাল হবে না।’’ এত কিছুর পরেও মোরিনহো বারবার বলতে চেয়েছেন যে ম্যান ইউয়ে প্রথম মরসুমটায় রীতিমতো সফল তিনি। ‘‘দশ মাস আগে আমি বলেছিলাম, আটটা চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা। প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় হওয়াটা সম্ভবত আমার কোচিং জীবনের সেরা সাফল্য। তখন লোকে বোঝেনি। এত দিনে হয়তো বুঝছে,’’ বলেন জোসে। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘ইউনাইটেডকে নিয়ে আমি শুধু আর দু’টো কথা বলব। দলে আমার সময়ও সমস্যা ছিল। যা এখনও পুরোমাত্রায় আছে।’’

কিন্তু মূল সমস্যাটা কি পল পোগবাকে নিয়ে? দু’জনের নানা সময়ে হওয়া ঝামেলার কথা কে না জানে। মোরিনহো এমনকি বিপুল অর্থে ফরাসি তারকাকে নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন। যদিও এখন তিনি বলছেন, ‘‘সমস্যা অনেক। ফুটবলার, ক্লাব সংগঠন, লক্ষ্য— সব জায়গায় সমস্যা। এই রকম একটা অবস্থার জন্য পল পোগবা মোটেই একা দায়ী নয়।’’

Football Manchester United Jose Mourinho Paul Pogba
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy