Advertisement
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
বিনোদনে এক নম্বর মেসিই

ফুটবলের তিন কিংবদন্তি: ফের তর্ক শুরু, সর্বকালের সেরা কে

জার্মানির একদল বিজ্ঞানী কয়েক বছর আগে ফুটবল নিয়ে পড়েছিলেন! গোলের সামনে এসে এই বেটেখাটো লোকটার মাথার মধ্যে কী চলে, তা নাকি তাঁরা গবেষণাগারে বসে বের করে ফেলেছেন!

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৭ ০৪:২৩
Share: Save:

জার্মানির একদল বিজ্ঞানী কয়েক বছর আগে ফুটবল নিয়ে পড়েছিলেন!

Advertisement

গোলের সামনে এসে এই বেটেখাটো লোকটার মাথার মধ্যে কী চলে, তা নাকি তাঁরা গবেষণাগারে বসে বের করে ফেলেছেন! জেনে গিয়েছেন সেই অজানা রহস্য, যা ভেদ করার জন্য মরিয়া বিশ্বের সব বড় বড় দল।

বের্নাবাউতে ঐতিহাসিক এল ক্লাসিকোয় কনুইয়ের গুঁতোয় রক্তাক্ত হয়েও মেসির ঐশ্বরিক ফুটবল দেখার পর কিন্তু পাল্টা প্রশ্ন জাগছে। দরকার আছে কি অত জটিল করে ভাবার? নাকি লিওনেল মেসি নামক যে চলমান বিনোদন আমাদের সামনে রয়েছে, সব কিছু ভুলে শুধু তার আস্বাদন নেওয়া উচিত? মেসির সাফল্যের পিছনে বিজ্ঞান খুঁজব? তাঁর অসামান্য সব পরিসংখ্যান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব? নাকি স্রেফ দর্শনার্থীর মতো মজা নিতে থাকব যে, ফুটবলের সেরা থিয়েটার দেখছি। যত দিন দেখা যায়, মেসি ম্যাজিক উপভোগ করি।

এল ক্লাসিকোতে দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সের পরে ফের তর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে, তিনিই কি সর্বকালের সেরা? বার্সেলোনার কোচ লুইস এনরিকে সেই তর্কের গতি বাড়িয়ে দিয়েছেন। বলে দিয়েছেন, মেসিই সর্বকালের সেরা। তাঁর দুই তারকা সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং আন্দ্রে ইনিয়েস্তা বলেছেন, চাপের মুখে বারবার দুরন্ত হয়ে ওঠা মেসির সঙ্গে কারও তুলনাই করা চলে না।

Advertisement

রোনাল্ডোর সঙ্গে দ্বৈরথ এ বার ফিকে হতে শুরু করেছে। একমাত্র তুলনা হিসেবে ফুটবলভক্তদের মাথায় আসছে দুই কিংবদন্তির নাম। পেলে এবং মারাদোনা। সঙ্গীতে যেমন বিঠোফেন, মোৎজার্ট, বাখ, তেমনই ফুটবলে পেলে, মারাদোনা, মেসি। যত দিন মিউজিক থাকবে, তত দিন থেকে যাবে ক্লাসিকাল ত্রয়ীকে নিয়ে তুলনা। যত দিন ফুটবল থাকবে, চলবে কিংবদন্তি ত্রয়ীকে নিয়ে তর্ক।

পেলে, মারাদোনার ভক্তরা এখনও কোরাস গেয়ে চলেছেন, ওঁর তো বিশ্বকাপই নেই। পেলে তিনটে বিশ্বকাপ জিতেছেন। মারাদোনার একার কৃতিত্বে আর্জেন্তিনাকে বিশ্বকাপ দেওয়ার নজির আছে। ক্লাসিকো দেখার পরে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, সত্যিই কি বিশ্বকাপ পেলেন কি পেলেন না, তা দিয়ে আর মাপা হবে মেসির ফুটবল ঐশ্বর্যকে? নাকি কৈশোরে অতলান্তিক পেরিয়ে লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে পাড়ি দেওয়া তিনি যে আট বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন, চার বার স্প্যানিশ কাপ বিজয়ী, চার বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং বার্সেলোনার হয়ে ৫০০ গোলের অনন্য নজির গড়ে ফেললেন, সেটাকে মনে রাখা হবে?

এমনিতেও মেসি একা নন। বিশ্বকাপ না জেতাদের গ্রহে আরও অনেক কিংবদন্তি আছেন। তাঁরা খুব খারাপ ফুটবলার ছিলেন, কেউ বলবে না। জর্জ বেস্ট বিশ্বকাপ জেতেননি। য়োহান ক্রুয়েফ বিশ্বকাপ জেতেননি। খেলার জগতের সেরা বিনোদনকারী হিসেবে থেকে গিয়েছে তাঁদের নাম। সক্রেটিসের ব্রাজিল বিশ্বকাপ জেতেনি। জিতেছিল কাফুর ব্রাজিল। তবু ‘দ্য বিউটিফুল গেম’-এর পতাকাবাহক বলতে লোকে সক্রেটিসের ব্রাজিলকেই বোঝে, কাফুর ব্রাজিলকে নয়।

বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন পেপ গুয়ার্দিওলাকে এক বার প্রশ্ন করা হয়েছিল, মেসিকে কি কাল বিশ্রাম দেবেন? গুয়ার্দিওলা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‘কেন?’’ প্রশ্নকর্তা সাংবাদিক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে চুপ। এর পর গুয়ার্দিওলা বলতে শুরু করেন, ‘‘শুনুন, মেসির খেলা দেখতেই লোকে টিকিট কেটে মাঠে আসে। মেসি খেলতে ভালবাসে। আর আমি ওকে যত পারব খেলিয়ে যাব।’’ গুয়ার্দিওলার সহজ, সরল ব্যাখ্যাটাই হয়তো টেমপ্লেট হিসেবে থেকে যাবে। আনন্দ দেওয়ার নিরিখে তিনিই অবিসংবাদী এক নম্বর। তা সে পেলে, মারাদোনার মতো তাঁর ঘরে বিশ্বকাপ থাকুক বা না থাকুক।

ফুটবলের তিন কিংবদন্তি: ফের তর্ক শুরু, সর্বকালের সেরা কে

পেলে

মারাদোনা

মেসি

• গোল: স্যান্টোসের হয়ে খেলা ফ্রেন্ডলিগুলি ধরলে তাঁর গোল সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল বলে দাবি। সেই সংখ্যাটি নিয়ে তর্ক থাকলেও স্কোরিং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন নেই।

• বিশ্বকাপ: তিন বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০। সুইডেনে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছরের তরুণ হিসেবে আবির্ভাবেই চমক দিয়েছিলেন। তবে তাঁর দলও দারুণ ছিল।

• ক্লাবের হয়ে: ইউরোপের লিগ খেলেননি। তবে কোপা লিবারতাদোরেস জিতেছেন দু’বার। সাত বার স্বর্ণযুগের ব্রাজিলে লিগ জিতেছেন।

• মেয়াদ: ১৯৫৭-১৯৭১। খেলেন ১৪ বছর।

• গোল: তিনি কিছুটা পিছন থেকে খেলতেন বলে পেলে বা মেসির চেয়ে গোল সংখ্যা কম। সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি গোল নিয়ে এই বিভাগে তিনি সকলের পিছনে থাকবেন।

• বিশ্বকাপ: এক বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। ১৯৮৬-তে একার কৃতিত্বে আর্জেন্তিনাকে জেতান। পেলের মতো বিশ্বসেরা দল ছিল না তাঁর। পরে বিশ্বকাপেই ডোপের দায়ে ধরা পড়েন।

• ক্লাবের হয়ে: মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন কখনও হতে পারেননি। তবে অখ্যাত নাপোলিকে একার কৃতিত্বে চ্যাম্পিয়ন করা রূপকথা হয়ে রয়েছে।

• মেয়াদ: ১৯৭৭-১৯৯৪। খেলেন ১৭ বছর।

• গোল: শুধু বার্সেলোনার হয়েই পাঁচশো গোল করে ফেললেন গত রবিবার এল ক্লাসিকোতে। দেশ ও ক্লাব মিলিয়ে গোল সংখ্যা ৫৫৮। অন্তত আরও ২০০ গোল করবেন বলে পণ্ডিতদের রায়।

• বিশ্বকাপ: এখনও বিশ্বকাপ জেতা হয়নি মেসির। গত বার ব্রাজিলে ফাইনালে উঠেও হেরে যান জার্মানির কাছে। দেশের জার্সিতে বড় কোনও ট্রফি না থাকাটা তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েছে বরাবর।

• ক্লাবের হয়ে: বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে এই জায়গায়। আটটি লা লিগা জিতেছেন, চার বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। চার বার স্প্যানিশ কাপ।

• মেয়াদ: ২০০৫-চলছে। ১২ বছর অতিক্রান্ত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.