Advertisement
E-Paper

টেস্ট সিংহাসনের হাতছানি ছাপিয়ে চলছে পিচ-থ্রিলার

ইডেনে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার লগ্ন থেকে টেস্ট ঘিরে আগ্রহে থাবা বসেছে পরপর।

প্রিয়দর্শিনী রক্ষিত

শেষ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০৩:১৬
এ শুধু সুখের দিন। নেট প্র্যাকটিসের ফাঁকে গম্ভীর-কোহালি। বৃহস্পতিবার ইডেনে। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস।

এ শুধু সুখের দিন। নেট প্র্যাকটিসের ফাঁকে গম্ভীর-কোহালি। বৃহস্পতিবার ইডেনে। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস।

ইডেনে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার লগ্ন থেকে টেস্ট ঘিরে আগ্রহে থাবা বসেছে পরপর।

দুর্গাপুজো। বৃষ্টির আশঙ্কা। সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কায় বোর্ড ভেঙে খানখান হয়ে যাবে কি না, সেই লোভনীয় নাটকের ট্রেলার। তার চেয়েও টাটকা, যুদ্ধটা কি তা হলে লেগে গেল?

অস্থির উত্তেজনার এমন আবহে পাঁচ-পাঁচটা দিন টেস্ট ক্রিকেটের বিলম্বিত লয়ে ঢেলে দেওয়া সম্ভব? না কি সেই আশা আদৌ বাস্তব?

এই যে ইডেন জুড়ে ক্রিকেটীয় দেবীপক্ষ ঘিরে ক্রিকেট আর অ-ক্রিকেটের নানা আকর্ষণের মেলা, ক্রিকেট-বিনোদনের আধুনিক সব উপাদানের মধ্যে ক্রিকেট-ইতিহাসের অলিগলিতে হারিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, ইডেনে এক চিলতে লর্ডস আমদানি, টেস্ট ক্রিকেটের ক্রমশ ম্রিয়মাণ প্রতিমায় নতুন প্রাণপ্রতিষ্ঠার এত আয়োজন— এত কিছুতেও হবে তো? টিকিট বিক্রির সংখ্যা তো আশাবাদে পরের পর হার্ডল এনে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ যাঁকে কোনও দিকে না তাকিয়ে সটান ইডেন উইকেটের দিকে হেঁটে যেতে দেখা গেল, তিনি এ সব নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত বলে মনে হয় না। ইডেনে যতক্ষণ ছিলেন, ততক্ষণ তাঁর মনোযোগের স্পটলাইট স্থির হয়ে থাকল একটামাত্র বিষয়বস্তুতে।

তিনি, অনিল কুম্বলে। আর তাঁর চিন্তা জুড়ে— ট্রেন্ট বোল্ট? না। মিচেল স্যান্টনার, ধুর। ইশ সোধি? মোটেও নয়। ইডেন টেস্টে ভারতের আসল প্রতিপক্ষ এঁরা কেউ নন। কুম্বলে-বিরাটদের টিমের ‘শত্রু’ চলমান কোনও সত্তা নয়, অচল ভূখণ্ডবিশেষ। দুর্গাপুজোর ইডেন-প্যান্ডেলে ক্রিকেট যদি থিম হয়, তা হলে মহিষাসুর— ইডেনের বাইশ গজ!

প্রবীর মুখোপাধ্যায় জমানার পর ইডেনে এটাই প্রথম টেস্ট ভারতের। ইডেনের প্রখ্যাত কিউরেটর এখন প্রয়াত, তাঁর জায়গায় এসেছেন সুজন মুখোপাধ্যায়। কিন্তু ইডেন পিচ নিয়ে দু’পক্ষে টানাপড়েন একই থেকে গিয়েছে। উইকেট নিয়ে সিএবির সঙ্গে টিম ইন্ডিয়ার লেগেছিল বুধবার থেকেই। কুম্বলেরা বলে দিয়েছিলেন, ঘাস ছেঁটে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ পালন করা হয়েছে কি না, হয়তো সেটা দেখতেই এ দিন প্র্যাকটিস শুরুর মিনিট পনেরো আগে মাঠে ঢুকে পড়েন ভারতীয় কোচ। উইকেট দেখে এতটাই অখুশি হন যে, তিনি নাকি বলে দেন, ইডেনের পিচ দেখে মনে হচ্ছে দেশের মাঠে নয়, তাঁর টিম খেলতে নামছে নিরপেক্ষ কেন্দ্রে!

কুম্বলের পর অশ্বিন। অশ্বিনের পর গম্ভীর। গম্ভীরের পর বিরাট। বিরাটের পর আবার কুম্বলে। পিচ প্রদর্শনের প্যারেড গিয়ে থামে একেবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ে। দুপুরের দিকে সিএবি ঢুকে সোজা উইকেট দেখতে চলে যান প্রেসিডেন্ট। কখনও গাড়ির চাবি দিয়ে মাটি টিপে দেখা তো কখনও ইডেন কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গভীর আলোচনা— প্রায় ঘণ্টাখানেক উইকেট নিয়ে পড়ে থাকলেন সৌরভ।

চিন্তার পিচে। পরীক্ষক কোহালি-কুম্বলে। বৃহস্পতিবার। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস ও উৎপল সরকার।

সিএবির তরফে পরে বলা হচ্ছিল, ঘাস একেবারে ছেঁটে ফেলা সম্ভব নয়। যে হেতু নতুন উইকেট তৈরি ‘বার্মুডা গ্রাস’ দিয়ে আর সেই ঘাস একেবারে গোড়া থেকে ছেঁটে ফেলা যায় না। সম্পূর্ণ উপড়ে ফেললে হিতে-বিপরীত হতে পারে। খারাপ হয়ে যেতে পারে উইকেট। বিকেলের দিকে একপ্রস্ত ঘাস ছাঁটাই পর্ব চলল ঠিকই, কিন্তু তার পরেও উইকেটের সবুজ আভা নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। বিরাট অবশ্য সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে দিলেন, ইডেনে এ রকম উইকেট পাবেন জেনেই এসেছিলেন। কারণ আর কিছু নয়, ইডেনে এ রকম পিচই দেখে এসেছেন তিনি। আর বললেন, এটা ভাল ব্যাটিং উইকেট।

যে উইকেট যদি আড়াইশো-আবহের আকাশে কালো মেঘ হয়, তা হলে রুপোলি রেখার নাম বিরাট কোহালি। টেস্ট অধিনায়কের মুকুট প্রাপ্তির পরে ইডেনে এটাই তাঁর প্রথম টেস্ট। আইপিএলে রঙিন জার্সিতে তাঁকে টস করতে দেখেছে ইডেন। কিন্তু টেস্টের দুধসাদা রোম্যান্স গায়ে মেখে ইডেনে আজ, মহালয়ায় প্রথম টস বিরাটের। অভিষেকের শেষটা সাফল্যের হলে সেই সমাপ্তি হবে মধুর এক সূচনার আবাহনীও। টেস্ট বিশ্বের অবিসংবাদী এক নম্বর হওয়া তো আছেই। তার সঙ্গে সূচনা নতুন যুগেরও— টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বিরাট যুগের সূচনা। গোটা বিশ্বের সামনে বিরাটের ঘোষণা করে দেওয়া যে, তাঁর প্রতিভা ব্যাট বা আবেগের নিয়ন্ত্রণরেখায় সীমিত নয়। ক্যাপ্টেন্সিটাও তিনি পারেন।

ইডেন টেস্টের প্রাক্ লগ্নে অন্য যে নামটা বারবার উঠে আসছে, তাঁর ক্যাপ্টেন্সি দেখে অভ্যস্ত এই শহরটা। তিনি, গৌতম গম্ভীর। অপ্রত্যাশিত ভাবে টেস্ট দলে ফিরেছেন। তা, কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়কের সঙ্গে সতীর্থদের রিইউনিয়ন বাইরে থেকে যতটুকু দেখা গেল, তাতে উষ্ণতার চেয়ে যেন শৈত্য বেশি। বিরাট-অশ্বিনদের সঙ্গে হালকা কথাবার্তাটা ব্যতিক্রম। কেকেআর ক্যাপ্টেন আলাদা-আলাদা থাকলেন বেশি। নেট ব্যাটিংয়ের রোল কলে গম্ভীরের নাম এল বোলারদের ঠিক আগে। পঁচিশ মাস পরে জাতীয় জার্সিতে প্রথম নেট সেশন যদি সূচক হয়, তা হলে ইডেনে ব্যাটিংয়ের জন্য দিল্লির ওপেনারকে না আগামী এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়!

eden gardens pitch thriller
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy