Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ওডাফা নন, সনির যুদ্ধ আজ নিজের সঙ্গেই

দু’জনেরই পৃথিবী বদলে গিয়েছে শেষ বারো মাসে। স্বপ্ন জাগিয়ে মোহনবাগানে এসেও তিন মরসুম আই লিগের জন্য চাতক পাখির অপেক্ষায় থাকা সবুজ-মেরুন সমর্থক

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৬ মে ২০১৫ ০৩:২৩
Save
Something isn't right! Please refresh.
গোয়ার হোটেলে হঠাৎ মুখোমুখি বাগানের প্রাক্তন ও বর্তমান গোলমেশিন। ছবি: ফেসবুক।

গোয়ার হোটেলে হঠাৎ মুখোমুখি বাগানের প্রাক্তন ও বর্তমান গোলমেশিন। ছবি: ফেসবুক।

Popup Close

দু’জনেরই পৃথিবী বদলে গিয়েছে শেষ বারো মাসে।

স্বপ্ন জাগিয়ে মোহনবাগানে এসেও তিন মরসুম আই লিগের জন্য চাতক পাখির অপেক্ষায় থাকা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি দ্বিতীয় জন।

আবার প্রথম জন তাঁর পুরনো ক্লাবের ব্ল্যাঙ্ক চেক ফিরিয়ে এই মরসুমে বাগানে এসেছেন ক্লাবকে সেই আই লিগ দিতেই।

Advertisement

ও়ডাফা ওকোলি আর সনি নর্ডি —মোহনবাগানের প্রাক্তন আর বর্তমান হার্টথ্রব।

শনিবাসরীয় আই লিগেও দু’জনের লড়াইটা দু’রকম। সনি যখন লড়বেন মোহনবাগানকে আই লিগ দেওয়ার জন্য, ওডাফার লড়াই তখন স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়াকে আই লিগে অবনমনের আওতা থেকে বার করে আনা।

মাণ্ডবী নদীর তীরে বাগানের বর্তমান আর প্রাক্তন তারকার কি তা হলে মহাযুদ্ধ?

জবাবে শুক্রবার সন্ধেয় গোয়ার হোটেলে বিশ্রামরত সনির ফোনে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া এক গাল হাসি। তার পর বলতে শুরু করলেন, ‘‘আরে ওডাফার সঙ্গে নয়! ও জিনিয়াস। লড়াইটা সনি ভার্সাস সনি।’’ একটু থামলেন। তার পর এমন অদ্ভুত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাগানের হাইতিয়ান স্ট্রাইকার বললেন, ‘‘জানি, আই লিগ তাঁবুতে দেখার জন্য বাগান সমর্থকরা আমার কাছ থেকে গোল চান। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে তা করতে পারলাম কই। সেই গোল খিদে মেটানোর লড়াইটাই তো আমার নিজের সঙ্গে কাল।’’

কিন্তু গোয়ানরা কি ঘরের মাঠে আপনাকে ‘এসো, গোল করে যাও’—মার্কা সৌজন্য দেখাবে? এ বার গমগম করে ওঠে সনির আত্মবিশ্বাসী গলা। ‘‘ফতোরদার মাঠটা বড়। দৌড়নোর জায়গা পাব। আর আমার ঘাড়ের কাছে ওদের ‘পুলিশম্যান’ নিঃশ্বাস ফেললে কাতসুমি, বোয়া, বলবন্তদের তো সুবিধেই। তখন চাপটা কিন্তু ওদের রক্ষণের। মোদ্দা কথাটা হল এখানে জিততে হবে। তা হলেই পরের রয়্যাল ওয়াহিংডো ম্যাচে খোলা মনে নামতে পারব।’’

সনি যখন এ কথা বলছেন, তখন ওডাফা প্রস্তুতি চলছে জিমে। যে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে এক বছর আগেও তিনি থাকতেন সংবাদ-শিরোনামে, সেই ক্লাব ছাড়ার পর পুরনো দলের বিরুদ্ধে প্রথমবার নামার প্রাক্কালে মানসিক প্রস্তুতিটা কেমন জানতে চাইতেই ধরা দিলেন অন্য ওডাফা। কোথায় সেই গনগনে তেজ আর রাগ? চোট সারিয়ে, মেদ ঝরিয়ে ওডাফা এখন এক সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। নিজের আরাধ্য ঈশ্বরের স্মরণ নিয়ে স্পোর্টিং ক্লুবের গোলের জন্য নাছোড় নাইজিরিয়ান গোলমেশিন শান্ত গলায় বললেন, ‘‘মোহনবাগান লিগ জিতলে আমার প্রিয় সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কথা ভেবে ভালই লাগবে। কিন্তু কাল আমাদের তিন পয়েন্ট পেতেই হবে। অবনমন এড়াতে গেলে যেটা জরুরি। ডেম্পো, ওয়াহিংডোর বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ মাঠে ফেলে এসেছিলাম। শনিবার তা হতে দেওয়া চলবে না।’’

শান্ত অথচ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই ওডাফাকেই ভয় বাগান কোচ সঞ্জয় সেনের। এরই মধ্যে এ দিন ফতোরদা স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিসে বাঁ পায়ের হাঁটু ঘুরে গিয়েছে ডেনসনের। ১৬ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট পেয়ে লিগ শীর্ষে থাকা বাগান কোচ তাই এ বারের লিগের এ পর্যন্ত ‘লাস্ট বয়’ (১৬ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট) স্পোর্টিংয়ের বিরুদ্ধে নামার ২৪ ঘণ্টা আগেও সতর্ক। বললেন, ‘‘ফেড কাপে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ওদের হারা ম্যাচ বার করে নিয়ে যেতে দেখেছি। আই লিগেও দু’গোলে পিছিয়ে থেকেও এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। চোট সারিয়ে ওডাফা, মিগুয়েল গার্সিয়ারা কাল ঝাঁপাবে রেলিগেশন বাঁচাতে। কাজেই লড়াই শক্ত।’’ সঞ্জয়ের পক্ষে স্বস্তি, কার্ড সমস্যায় শনিবার খেলা হচ্ছে না ক্লুবের বিশ্বকাপার অ্যান্টনি উলফের। ‘‘বেঙ্গালুরুকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় লেগে যে ছ’টা ম্যাচকে বেছেছিলাম তার মধ্যে তিনটে এখনও বাকি। সেখান থেকে ন’পয়েন্ট নিতেই হবে আমাদের,’’ বলছেন সঞ্জয়। বাগান কোচ, সহকারী কোচ তাই পইপই করে এ দিনও প্রীতম-কাতসুমিদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নশিপের এত কাছ থেকে ফিরে যাওয়ার হতাশা সম্পর্কে।

ডেনসন খেলতে না পারলে স্পোর্টিংয়ের প্রতি-আক্রমণ ও বড় চেহারার ওডাফাকে রুখতে সেই জায়গা শেহনাজকে নামিয়ে ভরাট করার পরিকল্পনা রয়েছে বাগান কোচের। ডিপ ডিফেন্সেও কিংশুকের বদলে বেলোর সঙ্গে আনোয়ারকে জুড়ে দিতে চান রক্ষণে ওডাফার ধাক্কাধাক্কি বন্ধ করতে। আর গোলে শিল্টনের বদলে দেবজিৎ।

বৈশাখ পড়তেই রয়্যাল ওয়াহিংডোর কাছে হার দিয়ে আই লিগে হোঁচট খাওয়া শুরু বাগানের। সেটা মনে করাতেই সঞ্জয় বললেন, ‘‘সেই হারের পরেই কিন্তু পুণে ম্যাচ জিতেছিলাম। কালও সে রকমই একটা জয় চাইছি। তা হলেই সালগাওকর ম্যাচের আগে চাপে পড়ে যাবে বেঙ্গালুরু। না হলে কিন্তু লিগটা আমাদের কাছেই জটিল হয়ে যাবে।’’



শনিবারে আই লিগ

মোহনবাগান-স্পোর্টিং ক্লুব দ্য গোয়া (ফতোরদা, ৪-৩০)



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement