Advertisement
E-Paper

এর পর বিদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারত

চেন্নাই টেস্টটা দেখার পর বেশ আফসোসই হচ্ছে! ইস, এত কাছে এসেও কি না ম্যাজিক ফিগারটা মিস করে গেলাম! আরে, বাংলাদেশের কাছে হেরে যখন ভারতে ঢুকছে ইংল্যান্ড, আনন্দবাজারে লিখেছিলাম, সিরিজটা ৫-০ হবে। ভারত জিতবে ৫-০। ভবিষ্যদ্বাণীটা একেবারে কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেল।

অশোক মলহোত্র

শেষ আপডেট: ২১ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৩:৩৫

চেন্নাই টেস্টটা দেখার পর বেশ আফসোসই হচ্ছে! ইস, এত কাছে এসেও কি না ম্যাজিক ফিগারটা মিস করে গেলাম!

আরে, বাংলাদেশের কাছে হেরে যখন ভারতে ঢুকছে ইংল্যান্ড, আনন্দবাজারে লিখেছিলাম, সিরিজটা ৫-০ হবে। ভারত জিতবে ৫-০। ভবিষ্যদ্বাণীটা একেবারে কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ৫-০ নয়, হল ৪-০!

অবশ্য ইংল্যান্ডের যা দশা দেখলাম, তাতে ৫-০ হওয়াই উচিত ছিল। রাজকোটে যে ওরা ড্র করেছে, ভারতের উপর দাপট দেখিয়েছে, দু’টো টিমের বিচারে ও সব হওয়ার কথাই নয়। কোথায় ভারত, আর কোথায় ইংল্যান্ড। জীবনে শুনিনি কোনও টিম প্রথম ইনিংসে চারশো তুলেও পরপর দু’টো টেস্টে ইনিংস ডিফিট খাচ্ছে! অ্যালিস্টার কুকের টিমের সৌজন্যে সেটাও দেখা হয়ে গেল।

সিরিজ শুরুর আগে কথাটা আমি এমনি-এমনি বলিনি। আরে ভাই, ভারতে জিততে গেলে ভাল স্পিনার লাগবে। ইংল্যান্ডের কোথায় সেটা? সাকলিন মুস্তাককে দিয়ে ক্র্যাশ কোর্স করালেই যদি আদিল রশিদ-মইন আলিরা বাঘা স্পিনার হয়ে যেত, তা হলে তো কাউকে আর ছোট থেকে স্পিন বোলিং শিখতে হতো না। সাকলিনের মতো দারুণ স্পিনার নিয়ে এলেই মিটে যেত। পরিষ্কার বলছি, সিরিজে অশ্বিন-জা়ডেজা যে বোলিংটা করেছে, যতটা ভয়ঙ্কর দেখিয়েছে ওদের, তার সিকিভাগও রশিদ-আলি জুটিকে লাগেনি।

এটাও বুঝলাম না, কীসের জোরে সিরিজ জুড়ে অত হম্বিতম্বি করছিল ইংল্যান্ড। কোহালির সঙ্গে ঝামেলা বাধাচ্ছে। কোথায় কোহালি পারবে, কোথায় পারবে না, তা নিয়ে বড় বড় মতামত দিচ্ছে। অথচ নিজেরা কী ভাবে উন্নতি করবে, তা নিয়ে কোনও শব্দ খরচ নেই। বাংলাদেশের তো তবু টার্নারে ফেলে ওদের ওড়াতে হয়েছে। ভারতের সেই টার্নারটাও লাগল না। স্পিন খেলে নয়, স্পিন খেলার ভয়েই উড়ে গেল ইংল্যান্ড!

আমার কাছে এই সিরিজে যা ভারতের সবচেয়ে বড় পাওনা। মানে, ডিজাইনার উইকেট না বানিয়েও যে ভাবে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল ভারত। বিদেশি টিমগুলো ভারতে আসার আগে থেকে ভেবে কাঁপতে থাকে যে, ঢুকেই টার্নারে পড়ব। কুক বলতে পারবে না, ওর টিমকে এক বারও এই সিরিজে টার্নারে ফেলেছে ভারত। রাজকোট, বিশাখাপত্তনম, মোহালি, মুম্বই, চেন্নাই, কোথাও নয়। চেন্নাইয়ে ফিফথ ডে পিচেও দারুণ টার্ন ছিল না। তা হলে দু’সেশনে গোটা ইনিংসের উড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা কী হতে পারে?

একটাই— স্পিনের ভয়।

কেন জানি না মনে হচ্ছে, এই একটা সিরিজ ভারতীয় টেস্ট টিমের রোড-ম্যাপটাই পাল্টে দিয়ে গেল। কোহালিরা এখন বিদেশে গিয়ে আর হয়তো উইকেট নিয়ে ভাববে না। বরং ভাববে, দেশে আমরা টার্নার ছাড়াই জিতেছি। জিততে আমাদের পিচ লাগে না। তার উপর টিম। আমার তো মনে হয়, ভারত শুধু বিশ্বসেরা টেস্ট টিম নয়। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চও টেস্টে বিশ্বসেরা। অজিঙ্ক রাহানের বদলে করুণ নায়ার ঢুকল, আর ঢুকে তিনশো করে রাহানেকেই চাপে ফেলে দিল! জয়ন্ত যাদব লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করতে নেমে ইতিহাস করে গেল। ঋদ্ধিমান সাহা চোট পেল, পার্থিব পটেল এসে ঠিক খেলে দিল।

এর বাইরে থাকে বিরাট কোহালি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাডেজা। প্রথম জনকে নিয়ে বলার কিছু নেই। অশ্বিনকে দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হওয়ার টার্গেট নিয়ে খেলছে। আর জাডেজা? চেন্নাই টেস্টে হাফসেঞ্চুরি করল, দু’ইনিংস মিলিয়ে দশটা উইকেট নিল— এর পর ওর কাছে চাওয়ার আর কী থাকতে পারে?

ইংল্যান্ডকে দু’টো ব্যাপার বাঁচাতে পারত সিরিজে। অ্যালিস্টার কুকের ব্যাট আর ওদের পেস বোলিং। কিন্ত কুককে তো নড়তেই দিল না জা়ডেজা। গোটা সিরিজ ধরে নাকানিচোবানি খাওয়াল। দু’টো টিমের পেস বোলিং? সেখানেও অ্যান্ডারসন-ব্রডের চেয়ে অনেক, অনেক এগিয়ে থাকল আমাদের শামি-উমেশ। স্পিনটা তো তুলনাতেই আসে না। পরিষ্কার বলছি, কোহালির এই টিমটা এখন থেকে রাজত্ব করবে। দেশে। বিদেশে।

একটা ভবিষ্যদ্বাণীর কথা দিয়ে লেখাটা শুরু করেছিলাম। আর একটা ভবিষ্যদ্বাণী করে লেখা শেষ করি। ইংল্যান্ড সিরিজ শেষ হল। ভারতের সামনে বড় সিরিজ এখন শুধু একটা। ফ্রেব্রুয়ারি-মার্চে অস্ট্রেলিয়া। নাম ওদেরও আছে। স্টিভ স্মিথ। ডেভিড ওয়ার্নার। মিচেল স্টার্ক। জস হ্যাজলউড। কিন্তু চার টেস্টের সিরিজে ওদের ভাগ্যে ইংল্যান্ডের চেয়ে বিশেষ ভাল কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

ওই ৪-০ বা ৩-০!

Ashok Malhotra Team India Virat Kohli Abroad Cricket Tours
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy