Advertisement
E-Paper

সমালোচনার জবাব দিতে আইসিসি টানলেন অনুরাগ

অনুদানের টাকা ভাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে আইসিসি-র উদাহরণ টানলেন বোর্ড সচিব অনুরাগ ঠাকুর।এ দিন তিনি বোর্ডের অনুদান সংক্রান্ত নীতির সমর্থনে বলেছেন বোর্ড সচিব বলছেন, ‘‘এমনকী আইসিসিও এই ভাবেই কাজ করে।

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৬ ০৫:২৮

অনুদানের টাকা ভাগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তীব্র সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে আইসিসি-র উদাহরণ টানলেন বোর্ড সচিব অনুরাগ ঠাকুর।

এ দিন তিনি বোর্ডের অনুদান সংক্রান্ত নীতির সমর্থনে বলেছেন বোর্ড সচিব বলছেন, ‘‘এমনকী আইসিসিও এই ভাবেই কাজ করে। পূর্ণ সদস্য দেশগুলির জন্য আইসিসি-র যা নীতি সেটা অ্যাসোসিয়েট ও অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের থেকে আলাদা।’’ আরও বিস্তারিত বোঝাতে তিনি যোগ করেছেন, ‘‘অর্থসাহায্য কে বেশি পাবে সেই সিদ্ধান্তটা সব সময়েই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে করা হয়ে থাকে। যেমন প্রথম সারির টেস্ট খেলিয়ে দেশগুলোর জন্য আইসিসি-র লাভ্যাংশের সিংহভাগ বরাদ্দ থাকে। তুলনায় অ্যাসোসিয়েট সদস্যদের জন্য বরাদ্দ থাকে তার অনেক কম।’’

সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বোর্ডকে তীব্র ভর্ৎসনা করে। বিচারপতি টি এস ঠাকুর ও এফএমআই খলিফুল্লাহের বেঞ্চের মূল সমালোচনা ছিল দু’টি। প্রথম, বোর্ড আর্থিক অনুদানের টাকা অনুমোদিত সংস্থাগুলির মধ্যে ঠিকঠাক ভাগ করছে না। কোনও কোনও সংস্থাকে কোটি কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। আবার বিহারের মতো অন্তত এগারোটি রাজ্য একটা টাকাও পায়নি। দ্বিতীয়টা ছিল দুর্নীতি প্রশ্রয় দেওয়া। লোঢা কমিটির রিপোর্ট টেনে আদালত বলে, ‘‘লোঢা কমিটির থেকে আমরা জেনেছি, কিছু কিছু অনুমোদিত সংস্থা বোর্ডের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান পায় এবং নিজেদের ইচ্ছে মতো সেই টাকা খরচ করে। তাদের কাছে হিসাব চাওয়া হয় না। এত বিশাল অঙ্কের টাকা নিয়ে কী করা হল, তার হিসাব না চেয়ে বোর্ড এক অর্থে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে।’’

এ দিন বোর্ডের সরকারি ফেসবুক পেজ-এ এ বিষয়ে সমর্থকদের প্রশ্নের উত্তরে অনুরাগ বলেছেন, ‘‘গোটা বিশ্বে এটাই আর্থিক অনুদান দেওয়ার রীতি। আমরা মোটেই অন্যদের চেয়ে আলাদা কোনও নিয়মে চলি না। অনুদান পেতে হলে সেটা যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করতে হবে। সেটা না হলে কেউ-ই পরিশ্রম করবে না। বসে বসে টাকা চাইবে।’’ এর পর নিজের রাজ্য হিমাচলের উদাহরণ দেন তিনি। আশির দশকের গোড়ার দিকে হিমাচল বোর্ডের পূর্ণ সদস্য ছিল না মনে করিয়ে অনুরাগ বলেছেন, ‘‘বিসিসিআই আমাদের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পর থেকে আমরা প্রচুর খেটেছি। স্টেডিয়াম বানিয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছি। আমার মনে হয় অন্য রাজ্যগুলোর এ ভাবেই এগনো উচিত।’’

বোর্ড সচিবের আরও দাবি, বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেটকে সঠিক দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। খেলাটার উন্নতির সব রকম চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ক্রিকেটের উন্নতি সাধনে অন্যান্য দেশকেও সাহায্য করছে। ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তরা বোর্ডের পাশে আছে বলেও দাবি করেছেন অনুরাগ।

গত চল্লিশ বছরে বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য কী করেছে, তার একটা খতিয়ানও দিয়েছেন অনুরাগ। ১৯৮৩ সালে ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয় টেনে বলেছেন, ‘‘সেই সময় চ্যাম্পিয়নদের একটা উপযুক্ত সংবর্ধনা দেওয়ার মতো টাকাও বোর্ডের ছিল না। কিন্তু তার তেত্রিশ বছর পর আজ আমরা সেই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি যেখানে তিরাশির চ্যাম্পিয়নদের থেকে শুরু করে ক্রিকেট মাঠে ভারতকে সম্মান এনে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক চ্যাম্পিয়নকে আমরা উপযুক্ত সম্মান দিতে পারছি।’’ শুধু তাই নয়, দেশের প্রায় প্রত্যেক রাজ্যে প্রথম সারির স্টেডিয়াম গড়া-সহ পরিকাঠামোগত উন্নতির কথাও বলেছেন অনুরাগ। সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘‘আমরা যে ভাবে কাজ করেছি, তাতে আজ ভারতীয় বোর্ডের আর্থিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরও টাকার অভাব নেই। একই সঙ্গে ক্রিকেট বিশ্বও শাসন করছে ভারত।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy