Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বিরাট-জন্মদিনে হাজির অনুষ্কা

উত্‌সবের আবহেও ক্রিকেটের সাধনা

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
আমদাবাদ ০৬ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৫৩
ক্যাপ্টেনের মুখে কেক মাখালেন রায়না। ছবি: টুইটার।

ক্যাপ্টেনের মুখে কেক মাখালেন রায়না। ছবি: টুইটার।

কপালের উপর জমা হচ্ছে শ’য়ে-শ’য়ে স্বেদবিন্দু, এক ঘণ্টা পেরিয়ে এ বার দেড় হল। নকিং থামিয়ে নেট ছেড়ে বেরোলেন এক বার, জল দিলেন চোখেমুখে। প্যাডটা একটু দেখে নিয়ে আবার পিছনের দিকে।

বিরাট কোহলি নেট থেকে আজ বেরোবেন না?

নাহ্, ওই তো ডাক পড়ল সঞ্জয় বাঙ্গারের। আবার শুরু থ্রো ডাউন। এক...পঁচিশ...পঞ্চাশ...সত্তর...।

Advertisement

রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভেবেছিলেন বোধহয় একটু বিশ্রাম নেবেন। মোতেরায় নেটের ধারে চেয়ারে বসব-বসব করেও সেটা হল না। ক্যাপ্টেন ডাকছে, বসা আর যায় কী ভাবে? আবার নেট, আবার বিরাট, আবার আধ ঘণ্টা।

অনুষ্কা শর্মা হোটেলে। টিম পার্টি দেবে। কেক আনা হয়েছে। বিরাট বেরোবেন কখন?

পরে হবে। আগে নিজের ফর্ম, তার পর উত্‌সব।

জন্মদিনটা সাধারণত প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটু ব্যতিক্রমী হয়ে থাকে। প্রাত্যহিক রুটিনের বাইরে কিছু। বিরাট কোহলির ছাব্বিশতম জন্মদিনও বিবিধ রঙিন উপকরণে ঠাসা ছিল। আইসিসি দ্বিতীয় বারের জন্য তাঁকে বর্ষসেরা ওয়ান ডে ক্রিকেটারের জন্য মনোনীত করল বুধবার। তাঁর ক্যাপ্টেন্সির ভূয়সী প্রশংসা করল ভারতীয় মিডিয়া। যারা কি না কয়েক দিন আগেও তুলোধোনায় বেশি মন দিচ্ছিল। ‘বিশেষ বন্ধু’ বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা আগেভাগে উড়ে এসেছেন আমদাবাদ। গুজরাত ক্রিকেট কর্তারা হোটেলে গিয়ে তাঁকে দেখেও এসেছেন। তাঁরাও ঢুকতে চেয়েছিলেন জন্মদিনের উত্‌সবে। সংস্থার তরফ থেকে উপহার পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের দাপটে ঘেঁষতে পারেননি।

সোজা বাংলায়, নরেন্দ্র মোদীর শহরে এখন ম্যাচ পরে। বিরাট আগে। তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে উত্‌সব সবার আগে।

কেমন লাগছে সব?

“ভালই। তার উপর আজ আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ান ডে ক্রিকেটার হিসেবে আবার মনোনীত হলাম,” বুধবার দুপুরে শিশুসুলভ ভঙ্গিতে বলে যাচ্ছিলেন বিরাট। “প্রথম বার বর্ষসেরা ক্রিকেটার হওয়াটা স্পেশ্যাল ছিল। কিন্তু আমি ওই ফর্ম ধরে রেখেছি বলেই আবার দ্বিতীয় বার মনোনয়ন পেলাম। তাই এ বারেরটা তৃপ্তির। কিন্তু নিয়মিত রান করতে হবে আমাকে।”



‘নিয়মিত রানের’ অন্তহীন ক্ষুধাতেই বোধহয় উত্‌সবের দিনেও ঝাড়া দু’ঘণ্টা নেটে পড়ে থাকলেন ক্যাপ্টেন কোহলি। সঙ্গে সাপোর্ট স্টাফকে অলিখিত নির্দেশ— ক্রমাগত শর্ট পিচড লেংথে ফেলতে হবে, যা কি না আগের ম্যাচে তাঁর ঘাতক ডেলিভারি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার উপর গড়পড়তা আমদাবাদ উইকেটে বৃহস্পতিবার মোটেও যুদ্ধটা হচ্ছে না। কিউরেটর ধীরজ পারসানা কিছুটা ঘাস ছেড়ে রেখেছেন, বলেও রেখেছেন বাউন্স থাকবে, রানও উঠবে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের একচেটিয়া আধিপত্য এখানে হবে না। পেসারদের ঠোঁট চাটার বন্দোবস্তও থাকবে।

শোনা গেল, চোট পেয়ে সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া বরুণ অ্যারনের জায়গায় ধবল কুলকার্নি বা স্টুয়ার্ট বিনির মধ্যে কেউ একজন নাকি ঢুকবেন। রবীন্দ্র জাডেজা ২-০ করার ম্যাচেও নামবেন কি না, নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ ভারত অধিনায়ক তাঁকে বিশ্রামে রাখতে চাইছেন। দরকারে নামাবেন। ক্যাপ্টেন কোহলি চলতি সিরিজ থেকে দু’টো ব্যাপার নিশ্চিত করে রাখতে চাইছেন। এক, পেস-ব্যাঙ্ক তৈরি করে রাখা। একশো চল্লিশ প্লাসে বল করা গোটা চারেক পেসার যাতে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ব্যাটসম্যানকে বিভিন্ন জায়গায় খেলিয়ে চূড়ান্ত কম্বিনেশনটা সেট করে নেওয়া। চলতি সিরিজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এই দু’টো ব্যাপার ‘জেন নেক্সট’ ভারত অধিনায়কের কাছে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ! নিজেই বলছেন।

অবাক লাগছে? কী করা যাবে, তাঁর দর্শনটাই এমন। যে দর্শন তাঁকে বলে, ক্যাপ্টেন্সি করবে যখন ‘ইন্সটিংকটে’ চলবে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে ২৩ ওভারে নেওয়া ঠিক মনে হলে, সেটাই নেবে। বড়জোর ভুল হবে, ভুল থেকে তখন শিক্ষা নেবে। কিন্তু পরে আফসোস করবে না।

জন্মদিনের রুটিন প্রাত্যহিক দেখাতে পারে। কিন্তু এমএসডি-র মতো ক্রিকেট-দর্শনে ভিকে-ও বড় ব্যতিক্রমী!

আরও পড়ুন

Advertisement