অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আজহার আলির রেকর্ড গড়া অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি। যার জবাব ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে দিয়ে বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রাখলেন ডেভিড ওয়ার্নার।
বাঁ-হাতি ওপেনারের ১৪৩ বলে ১৪৪ রান এবং ৯৫ রানে অপরাজিত উসমান খোয়াজার সঙ্গে তাঁর ১৯৮ রানের পার্টানারশিপ অস্ট্রেলিয়াকে ফলো অনের খাদ নিরাপদে পার করিয়ে দেয়। দিনের শেষে পাকিস্তানের ৪৪৩-৯-এ ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণার পাল্টায় অস্ট্রেলিয়া ২৭৮-২। খোয়াজার সঙ্গে ১০ রান করে ক্রিজে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ।
ওয়ার্নার ম্যাচের রাশ হাতে নেওয়ার আগে পর্যন্ত অবশ্য এমসিজিতে হইচই ফেলেছিলেন আজহার আলি। যিনি ক্রমশ বড় ইনিংস খেলাটা ট্রেডমার্ক করে ফেলছেন। অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩০২ করে দিন-রাতের টেস্টে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক এ দিন এমসিজি-তে থামলেন অপরাজিত ২০৫-এ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় ও টেস্টে বারো নম্বর সেঞ্চুরিটায় ভাঙলেন চুয়াল্লিশ বছরের পুরনো রেকর্ডও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনও পাকিস্তানির সর্বোচ্চ রান এত দিন ছিল মজিদ খানের ১৫৮। এই মেলবোর্নেই। এ দিন তাঁকে ছাপিয়ে গেলেন আজহার। এক ক্যালেন্ডার বর্ষে যাঁর রান দাঁড়াল ১১৫৫, গড় ৬৪.১৬। তবে আসাধারণ মরসুমে মাত্র তিন রানের জন্য আর এক কিংবদন্তি ভিভিয়ান রিচার্ডসকে ছোঁয়া হল না আজহারের। এমসিজি-তে কোনও বিদেশির সর্বোচ্চ টেস্ট রান হিসাবে টিকে গেল ভিভের ২০৮।
দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পরে ন’উইকেটে ৪৪৩ তুলে প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করেছিলেন মিসবা-উল-হক। পাক অধিনায়ক সম্ভবত আশায় ছিলেন, মেঘলা দিনে মহম্মদ আমিরের নেতৃত্বে তাঁর বোলাররা চাপে ফেলবেন অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের। ওয়ার্নার আর খোয়াজা অবশ্য সব হিসাব উল্টে দিলেন।
বৃহস্পতিবার প্রবল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে মেলবোর্নে। এমসিজি-তে অবশ্য এ দিনই ঝড় তুললেন ওয়ার্নার। মেলবোর্নের মাঠে তাঁর প্রথম এবং টেস্টে সতেরো নম্বর সেঞ্চুরি এল একেবারে ব্র্যান্ড ওয়ার্নারের মতোই, চরম বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে। সতেরোটি চার, একটি বাউন্ডারি। টেস্টে পাঁচ হাজার রানের মাইলস্টোনও পেরোলেন। প্রথম ইনিংসে প্রায় সাড়ে চারশো রানে পিছিয়ে থেকে নামলেও প্রথম বল থেকে মারমুখী বাঁ-হাতি ওপেনারের খেলায় চাপের কোনও চিহ্ন ছিল না।