সিরিজের শেষ ম্যাচের এর চেয়ে আদর্শ পরিস্থিতি বোধহয় আর হয় না! দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ভারত এক দিনের যুদ্ধ এই মুহূর্তে ২-২। এই অবস্থায় আজ, রবিবার ভরা ওয়াংখেড়েতে সিরিজের ফয়সালা করতে নামছে দু’টো টিম। ছোট বাচ্চারা একটা লাঠি আর টেনিস বল নিয়ে স্কুলের মাঠে ক্রিকেট খেলা শুরু করার সময় এক দিন দেশের হয়ে যে ধরনের নাটকীয় ম্যাচ জেতানোর স্বপ্ন দেখে, এ যেন একদম সেই পরিবেশ!
ভারত আবার চেন্নাইয়ে জিতে ওয়াংখেড়েতে নামছে। বোলার হিসাবে জানি, চেন্নাইয়ে নিজেদের সেরা বোলিং করতে পারিনি আমরা। দিনটাই আমাদের ছিল না। অন্য দিকে, বিরাট কোহলি দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলে দিল। চেন্নাইয়ে বিরাট আমাদের বোলিংকে পুরোপুরি শাসন করে গিয়েছে। যোগ্য দল হিসাবেই জেতে ভারত।
মুম্বইয়ে অবশ্য মর্নি মর্কেল টিমে ফিরতে পারে। ওর বদলি হিসাবে ক্রিস মরিস অবশ্য খুবই ভাল খেলছিল। বিশেষ করে ও থাকলে আমাদের ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়ছে। তবে মর্নিও দাবি করে যে ব্যাটটা ও একদম ম্যাথু হেডেনের মতোই করে।
আমরা যে কোনও চোটের সুদূরপ্রসারী ফল নিয়ে আধুনিক ভাবে ভাবার চেষ্টা করি। যেখানে চোটের সঙ্গে তা থেকে বড় সমস্যা তৈরি এড়ানোর উপরে বেশি জোর দেওয়া হয়। তাই মর্নিকে চেন্নাই ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। ওর যা চোট ছিল সেটা নিয়ে ও হয়তো চেন্নাইয়ে খেলতে পারত। মর্নি নিজেও খেলতে চাইছিল। কিন্তু ছোট চোটের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করলে সেটা যে বিপজ্জনক হতে পারে, এটা মর্নি বোঝে।
ওয়াংখেড়ের পিচ দেখে মনে হচ্ছে বরাবরের মতো আজও এই উইকেটে বল ঘুরবে। আগে ওয়াংখেড়েতে ম্যাচ পড়লে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় থাকতাম। এই ভেবে যে, সব কিছু টসের উপর নির্ভর করছে। টস জিতলে ম্যাচও জিতবে। কারণ ওয়াংখেড়ের পিচ পরের দিকে এতটাই ব্যাটিংয়ের অযোগ্য হয়ে ওঠে যে এখানে পরে ব্যাট করা মানেই হার অবধারিত! তবে আজকাল আমরা আর এ সব নিয়ে ভাবি না। ভেবে হবেটাই বা কী? টস ব্যাপারটার উপর তো কারও নিয়ন্ত্রণ নেই! বরং পরে ব্যাট করতে নেমে টিমকে যদি জেতার চেষ্টায় প্রতিপক্ষের চেয়ে এক শতাংশের জায়গায় পঁচিশ শতাংশ বেশি ভাল ব্যাটিং করতে হয়, তা হলে তাই হোক! আমরা তৈরি।
আর একটা কথা বলতে চাই। বোলিং রান আপ শুরু করার পর বা উইকেট নেওয়ার পর মাঠে আমার প্রতিক্রিয়া দেখে হয়তো অনেকেরই মনে হয় খেলাটা আমার কাছে মরণ-বাঁচন ব্যাপার। তা কিন্তু মোটেই নয়। এই পৃথিবীতে ক্রিকেট খেলার বাইরে ভাবনাচিন্তা করার মতো আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বরং ক্রিকেট মানুষকে একটু হাসার, একটু হইহই করে আনন্দ করার এবং একে অপরকে সহ্য করার সুযোগ দেয়। তাই বলছি, রবিবার ওয়াংখেড়েতে কেউ জিতবে, কাউকে হারতে হবে। কিন্তু তার পরও এটা মনে রাখা জরুরি, ক্রিকেটটা শুধুই একটা খেলা।
তবে মুম্বইয়ে যা-ই হোক, তার পর টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিতে আমরা গোটা টিম রওনা দিচ্ছি গোয়া। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আমি সমুদ্র কতটা ভালবাসি। বিশেষ করে সার্ফিং করার কেমন নেশা রয়েছে আমার। তাই একটা টেস্ট সিরিজের আগে প্রস্তুতিতে এমন ‘ভিটামিন সি’ পাওয়া আমার কাছে একেবারে ক্রিকেটীয় স্বর্গ হাতে পাওয়ার মতোই সুখের!