Advertisement
E-Paper

পুণের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত চিডি

সাত দিনেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। এক সপ্তাহ আগে ঘরের মাঠে যাদের দাপুটে ফুটবল খেলে ৩-১ উড়িয়ে দিয়েছিল আর্মান্দো কালাসোর ইস্টবেঙ্গল, শনিবার বালেওয়াড়িতে অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে সেই পুণে এফসি-র বিরুদ্ধে হঠাৎই ব্যাকফুটে লাল-হলুদ। কেন? শুক্রবার হঠাৎ কাঁধের পুরনো ব্যথা চাগাড় দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের গোলমেশিন এডে চিডির। গত চার ম্যাচ ধরেই জার্সির ভিতরে কাঁধে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলছিলেন এই নাইজিরিয়ান স্ট্রাইকার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:২৯
ব্যথায় কাবু ‘গোলমেশিন’।

ব্যথায় কাবু ‘গোলমেশিন’।

সাত দিনেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। এক সপ্তাহ আগে ঘরের মাঠে যাদের দাপুটে ফুটবল খেলে ৩-১ উড়িয়ে দিয়েছিল আর্মান্দো কালাসোর ইস্টবেঙ্গল, শনিবার বালেওয়াড়িতে অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে সেই পুণে এফসি-র বিরুদ্ধে হঠাৎই ব্যাকফুটে লাল-হলুদ।

কেন? শুক্রবার হঠাৎ কাঁধের পুরনো ব্যথা চাগাড় দিয়েছে ইস্টবেঙ্গলের গোলমেশিন এডে চিডির। গত চার ম্যাচ ধরেই জার্সির ভিতরে কাঁধে ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলছিলেন এই নাইজিরিয়ান স্ট্রাইকার। কিন্তু এ দিন সেই ব্যথা বেড়ে যায়। ওষুধ খেয়েও কমেনি। ফলে ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে ব্যথায় কাবু হয়ে চিডি বন্দি রইলেন হোটেলের ঘরেই। শেষমেশ যা পরিস্থিতি তাতে হয়তো এই বিদেশিকে মাঠের বাইরে রেখেই শনিবার মাইক স্নোয়ির দলের বিরুদ্ধে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল।

রাতে যে জল্পনা আরও জোরদার হল ফোনে ইস্টবেঙ্গল কোচ আর্মান্দো কোলাসোকে ধরার পর। বলে দিলেন, “চিডির খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। নাও খেলাতে পারি। ম্যাচ সাসপেনশনে খাবরা নেই। এ বার চিডি না খেলতে পারলে লড়াই আরও কঠিন হয়ে যাবে।” বেশি রাতের খবর, চিডিকে খেলানোর জন্য লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্টে চলছে জবরদস্ত প্রচেষ্টা। ময়দানে গুঞ্জন, আগামী মরসুমে দল রাখবে না বুঝতে পেরেই হঠাৎ ব্যথা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তাঁর কাঁধে। কর্তারা মুখে কিছু না বললেও ময়দানে খবর, র্যান্টির পর ওগবা কালুর সঙ্গেও অনেকটাই কথাবার্তা এগিয়েছে ক্লাবের। যদিও চিডি নিজে সে প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে বললেন, “এ সব কথার কোনও যুক্তি নেই। এই ম্যাচটা খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু সব গুলিয়ে দিল কাঁধের যন্ত্রণা। হয়তো খেলতে পারব না।” পরক্ষণেই নিজের মেজাজে বলে বসলেন, “আমি না খেলতে পারলেও চিন্তা নেই। দল নিজস্ব ছন্দে খেলতে পারলেই তিন পয়েন্ট চলে আসবে।”

চিডি অক্লেশে কথাগুলো বলে গেলেও আর্মান্দোর কপালের ভাঁজ কমছে না। উগা-মোগা-মেহতাব আগে থেকেই ছিলেন না। এ বার খাবরা নেই। চিডিও সেই দলে ঢুকে পড়তে চলেছেন। লাল-হলুদের গোয়ান কোচকে আই লিগ জিততে গেলে পরপর দু’ম্যাচে পুণে এফসি এবং ইউনাইটেড স্পোর্টসকে হারালেই শুধু চলবে না। শীর্ষে থাকা বেঙ্গালুরুকে হারতে হবে তাঁর মুলুকের দুই ক্লাব স্পোর্টিং ক্লুব এবং ডেম্পোর কাছে। ভারতীয় ফুটবলে এই মহাজাগতিক অঘটন ঘটতে পারে কি না তা জানতে চাইতেই ইস্টবেঙ্গল কোচ ঈষৎ ক্ষুণ্ণ। বলছেন, “অত শত ভাবতে চাই না। শনিবার জিততে হবে। যারা খেলবে তাদের নিয়েই তিন পয়েন্ট আনতে চাই। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই ছাড়ব না। তার পর দেখা যাবে কী হয়।”

আই লিগ টেবলে ২২ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সেখানে সমসংখ্যাক ম্যাচে সপ্তম স্থানে থাকা পুণের পয়েন্ট ৩১। বিপক্ষের ডাচ কোচ মাইক স্নোয়ির দলকে পুণেতে পেড়ে ফেলতে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দল সাজাচ্ছেন আর্মান্দো। চিডি না খেলতে পারলে সুয়োকা এবং লেনকে আক্রমণে রেখেই দল সাজাবেন তিনি। মাঝমাঠে খাবরার জায়গায় সুবোধকুমারকে তৈরি রাখা হচ্ছে। কোচের মাথায় রয়েছে ভাসুমের নামও। তবে লাল-হলুদ শিবিরে আশার খবর, চোট কমায় সকালে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন লেফট ব্যাক রবার্ট।

উল্টো দিকে, পুণে এফসি-র শেষ পাঁচ ম্যাচে জয় নেই। তাদের লক্ষ্য ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে পাঁচ নম্বরে উঠে আসা। ডুহু পিয়ের, রিগা মুস্তাফা, পাভলোভিচ-সহ চার বিদেশিকেই পাচ্ছে পুণে এফসি। সঙ্গে আছে ভূমিপুত্র প্রকাশ থোরাট। রক্ষণে চোট সারিয়ে ফিরছেন আনাস। পুণে কোচ নড়বড়ে ইস্টবেঙ্গলকে সামনে পেয়ে তাই হুঙ্কার ছাড়ছেন, “প্রথম পর্বেই জিততে পারতাম আমরা। শনিবার সেই সুযোগ হারানো চলবে না।”

chidi east bengal i league
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy