Advertisement
E-Paper

ফিয়ের-এ ডুবে আছে জার্মানি

মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন বসেছিল আগেই। প্রত্যেকটি শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিশাল পর্দায় দেখানো হচ্ছে প্রতিটি ম্যাচ।

অরুণাভ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৪ ০৪:৩৩

মিউনিখের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন বসেছিল আগেই। প্রত্যেকটি শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বিশাল পর্দায় দেখানো হচ্ছে প্রতিটি ম্যাচ।

কিন্তু বার্লিনের ব্যান্ডেনবুর্গ গেট-এ ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য যেটা হচ্ছে জার্মানিতে কখনও তা হয়নি। এক সঙ্গে দশ লাখ দর্শক বসে রবিবার রাতে যাতে মুলার-লামদের খেলা দেখতে পারেন সে রকম একটা বড় পর্দা লাগানো হয়েছে।

ব্রাজিলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই জার্মান টিমের অন্যতম স্পনসর মার্সিডিজ কোম্পানি প্রচার শুরু করেছিল, চার সংখ্যাকে সামনে রেখে। কারণ ইতিমধ্যেই তিন বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি। চার নম্বরটা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই বিজ্ঞাপন। গত চব্বিশ বছর ধরে জার্মানি তিনটে স্টার লাগানো জার্সি পরে খেলছে। আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে রবিবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে জার্সিতে চার নম্বর স্টার লাগাতে পারবেন মুলাররা। তাই এটাই বিখ্যাত মোটর কোম্পানির ক্যাম্পেনের ক্যাচ লাইন----‘জার্সিতে চার স্টার লাগাও।’ পর্তুগালকে চার গোলে হারানোর পর থেকেই এই ক্যাম্পেন বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল।

জার্মান ভাষায় চার-কে বলে ফিয়ের। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ বা কোলনজার্মানির যেখানেই যান সব বিজ্ঞাপনে থাকছেই ফিয়ের বা চার সংখ্যাটা। টিভিতে চার আঙুল দেখিয়ে বলা হচ্ছেব্রাজিল থেকে এটা আমাদের আনতেই হবে এ বার। কলকাতার ইডেনে যেমন ক্রিকেট ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা যায় ‘চার’ বা ‘ছয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড, তেমনই স্পোর্টস পাব-এ বা জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে ‘চার’ লেখা জার্সি পরে বা প্ল্যাকার্ড লিখে ভিড় করছেন কাতারে কাতারে ফুটবলপ্রেমী। দেখে মনে হচ্ছে, এই মূহূর্তে ওই একটা সংখ্যা-ই জার্মান রক্ত প্রভাবিত করছে।

ব্রাজিলকে সাত গোলে হারানোটা এতটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে জার্মানবাসীদের যে তারা ধরেই নিয়েছে মেসির টিম কিছুই করতে পারবে না ফাইনালে। বারবার টিভিতে দেখানো হচ্ছে গত বিশ্বকাপে জার্মানি কী ভাবে চার গোল দিয়ে পর্যুদস্ত করেছিল মেসির আর্জেন্তিনাকে। যত বার সেই ম্যাচে ক্লোজে, মুলার, ফ্রিডরিকদের গোলের রিপ্লে দেখানো হচ্ছে, তত বারই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে পাবগুলো। সব কাগজেই বিশেষজ্ঞরা লিখছেন, মেসি কোনও সমস্যাই নয় জার্মান রক্ষণের।

ব্রাজিল ম্যাচের দিন প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল এখানে। ফলে তিন-চার গোল দেখার পরই বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন সবাই। তবে সাত গোলের উচ্ছ্বাস শুরু হয় বেশি রাতে। ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে এ ভাবে হারানো! বিস্মিত জার্মানরাও। সে জন্যই রাস্তায় জোরে জোরে গাড়ির হর্ন বাজিয়ে, চিৎকার আর স্লোগান দিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত উৎসব হয়েছে সর্বত্র। আবহাওয়া দফতর আজ আবার জানিয়েছে, ফাইনালের দিনও বৃষ্টি হবে। তাতে কিছুটা চিন্তিত সবাই। কারণ এখানে তো কেউ বাড়িতে বসে টিভিতে খেলা দেখে না। বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে জায়ান্ট স্ক্রিন বা পাব-এ গিয়ে বিয়ারের গ্লাস হাতে উৎসবে মেতে ওঠাটাই সবাই পছন্দ করে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে।

বিভিন্ন চ্যানেলে বা খবরের কাগজে অনুরোধ করা হচ্ছে, জোয়াকিম লো-র দলকে সমর্থন করতে হলে বাড়িতে দেশের পতাকা লাগান। কোলনে আমার বাড়ির ঠিক উল্টো দিকের বাড়িতে কুড়িটা ফ্ল্যাটের মধ্যে সতেরোটার জানালাতেই দেখছি লাল-হলুদ-কালো পতাকা। আমার বাবাও আজ দু’টো পতাকা লাগিয়েছেন। যে বাসে অফিস থেকে বাড়ি এলাম, তার মাথাতেও চার-চারটে জার্মানির পতাকা লাগানো। বাসের গায়ে ‘চার’ সংখ্যার পোস্টার ভর্তি। জার্মানদের এ রকম আবেগে ভাসতে দেখিনি।

মেসি-নেইমারকে নিয়ে ওদের দেশে যেমন মাতামাতি হয়েছে সে রকম বিশেষ কোনও ফুটবলারকে নিয়ে মাতামাতি নেই এখানে। বরং আমার সাংবাদিক বন্ধুরা বলছে, নেম্যার-মুলারকে নিয়ে বিভিন্ন দেশে যা হচ্ছে তার দশ শতাংশ-ও জার্মানির কাগজগুলো লিখছে না। সবাই টিম গেমের কথা বলছে। বিজ্ঞাপনেও পুরো টিমের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘানার সঙ্গে ড্র করার পর জোয়াকিম লো-র মুণ্ডপাত করছিলেন বেকেনবাউয়ার, লোথার ম্যাথেউস, বালাকের মতো প্রাক্তনরা। ব্রাজিলকে সাত গোল দেওয়ার পর এখন তাঁরা আবার লো-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ। লামের পজিশন বদলের স্ট্র্যাটেজিতে সবাই এখন মুগ্ধ। প্রাক্তনরাই এখন বলছেন, ফাইনালে যখন উঠেছি, কাপ চাই। ইতিমধ্যেই জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা করেছে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে প্রত্যেক ফুটবলারকে তিন লাখ ইউরো দেবে। এ দিন বেশির ভাগ কাগজের হেডিং হয়েছেফাইনাল স্লাইড টু রিও। জোয়াকিম লো-র টিম এ দিনই নিজেদের ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে রিও-র পথে রওনা হয়েছে। সে জন্যই এই হেডিং। সব চ্যানেল সেটা দেখাচ্ছে ঘটা করে। তার মধ্যে মাঝেমধ্যে ভেসে উঠছে ফিয়ের বা ফোর।

চার-এর স্বপ্নেই যে এখন ডুবে জার্মানি।

fifaworldcup arunabha chowdhury
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy