Advertisement
E-Paper

ব্যাডমিন্টন কোচিং এ বার জেলাতেই

জেলায় তেমন ব্যাডমিন্টন খেলার চল নেই। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং জেলার ছেলেমেয়েদের সঠিকভাবে খেলা শেখাতে উদ্যোগী হল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। এবার থেকে রাজ্য ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্টার কোচেদের কাছ থেকেই সিউড়িতে খেলা শেখার সুযোগ পাবে জেলার ছেলে মেয়েরা। সেই সুযোগ করে দিল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। শনিবার থেকেই ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৯
প্রথম পাঠ। রবিবার সিউড়ির ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

প্রথম পাঠ। রবিবার সিউড়ির ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তোলা নিজস্ব চিত্র।

জেলায় তেমন ব্যাডমিন্টন খেলার চল নেই। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে খেলাটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং জেলার ছেলেমেয়েদের সঠিকভাবে খেলা শেখাতে উদ্যোগী হল জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

এবার থেকে রাজ্য ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের রেজিস্টার কোচেদের কাছ থেকেই সিউড়িতে খেলা শেখার সুযোগ পাবে জেলার ছেলে মেয়েরা। সেই সুযোগ করে দিল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। শনিবার থেকেই ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সংস্থার সম্পাদক বিদ্যাসগর সাউ জানিয়েছেন, সঠিক ভবে শেখার জন্য ইতিমধ্যেই ৬৫ জন ছোট ছেলে মেয়ে তাদের নাম নথিভূক্ত করিয়েছে। সম্পাদক আরও জানান, সপ্তাহে শনি ও রবিবার কলকাতা থেকে আসা কোচেদের কাছ থেকে তারা খেলা শিখবে। এবং সপ্তাহের আরও তিনটি দিন সেই পাঠ সিনিয়র খেলোয়াড়দের তত্বাবধানে অনুশীলন করবে।

হঠাৎ জনপ্রিয় ক্রিকেট বা ফুটবল ছেড়ে, ব্যাডমিন্টনের প্রশিক্ষণের আয়োজন কেন?

Advertisement

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, গত অগস্টে সাফল্যের সঙ্গে সিউড়িতে ৭৮তম রাজ্য জুনিয়র ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করেছিল জেলা ক্রীড়া সংস্থা। টুর্নামেন্টের অনূর্ধ্ব ১৩, ১৫, ১৭ এবং ১৯ এই চারটি বিভাগে মোট ১৭৩জন প্রতিযোগী যোগদান করেছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় ছিল বীরভূমে জেলা থেকে একজনও প্লেয়ার প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করেনি। বিষয়টি চরম অবাক করেছিল জেলাশাসক পি মোহন গাঁধীকে। তিনি ডিএসএর সম্পাদককে বলেন, যা করতে হয় করুন প্রশাসন সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু বাইরে থেকে কোচ আনিয়ে জেলার উঠতি প্লেয়ার ও নতুনদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। ভাবনার সূত্রপাত সেখান থেকেই। জেলা শাসকের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরীও।

জেলা শাসক পি মোহন গাঁধী বলছেন, ‘‘খেলায় হারজিত আছে। তাই বলে প্রতিযোগিতায় যোগদান করবে না জেলার ছেলে মেয়েরা? কোচেদের নিয়ে এসে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ায় আমি খুশি।’’

ডিএসএর সম্পাদক বিদ্যসাগরবাবু বলেন, জেলাশাসক এ কথা শোনার পরই রাজ্য ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদককে কোচের ব্যাপারে লিখি। উনি রাজি হয়ে যান। তারপরই সিউড়ি ও সংলগ্ন বিভিন্ন স্কুলে জানিয়ে দেওয়া হয় আমাদের উদ্যোগের কথা। দারুণ সাড়া পেয়েছি। বর্তমানে কলকাতা থেকে আসছেন কোচ আর এন ঘোষ। যিনি স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার মনোনীত কোচও। অন্যজন হলেন বাদল ভাট্টাচার্য। জেলা ক্রীড়া সংস্থা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবে যাতে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী স্তরে নিজেদের উন্নীত করতে পারে। খেলার শেখার সুযোগ পেয়ে খুশি পঞ্চম শ্রেণির ঐনিকা, দ্বিতীয় শ্রেণির রূপকথা বা পঞ্চম শ্রেণির দিব্যজ্যোতিরা।

খুশি তাদের অভিভাবকেরও। সিউড়ির বাসিন্দা ঐনিকার বাবা তাপস বিশ্বাস বলছেন, মেয়ের শরীর চর্চা ও খেলাধুলো একসঙ্গে হবে বলে ওখানে দিলাম। রূপকথার মা মানসী ঘোষ বলছেন, ‘‘শহরে এমন একটা সুযোগ পেলে সেটা কেন হাতছাড়া করব। যদি এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে পাঁচ বছর পরে এখান থেকেও ছেলে মেয়েরা রাজ্য স্তরে খেলবে।’’

অন্যদিকে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত দিব্যজ্যোতির বাবা দীপঙ্কর চন্দ্র বলছেন, ছেলে স্কুলে ব্যাডমিন্টনে সেরা। সে যাতে আরও ভাল ভাবে শিখতে পারে সেই উদ্দেশ্যই ওখানে ভর্তি করলাম।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, শীতকালে এলেই নলেনগুড়ের দেখা মেলার মতো হ্যালোজেন ল্যাম্প জ্বালিয়ে র‌্যাকেট ও শার্টলকক নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলতে নেমে পড়েন অনেকে। একটু গা ঘামিয়ে নিই, গোছের ভাবনা। র‌্যাকেটে নিয়ে উৎসাহী হয়ে ওঠে খুদেরাও। কিন্তু শীত ফুরোলেই খেলায় ইতি। অভিভাবকদের একটা অংশের মতে, ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো খেলা যেখানে চোট পাওয়ার সম্ভবনা যথেষ্ট বেশি। সেই সব খেলায় নিজের সন্তানদের পাঠাতে এখন অনেক অভিভাবকই ইতস্তত করেন। সেদিক থেকে ব্যাডমিন্টন অনেক ভাল। তাঁদের মত, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে এত ভাল পরিকাঠামো যুক্ত ইন্ডোর স্টেডিয়াম থাকলেও খেলা শেখার সুযোগটাই ছিল না এতদিন। এবার তা হল।

তবে ক্রীড়া সংস্থাকে এখনও যেটা চিন্তায় রেখেছে, সেটা হল ক্যাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান। নাম নথিভূক্ত করানোর জন্য ২০০ টাকা এবং মাসে ১৫০ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে নেওয়া হলেও কোচ আনিয়ে প্রশিক্ষণ দিতে খরচ বিস্তর। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা থেকে শুধু ‘ফেদার’ কেনার খরচটাই উঠবে।

জেলাশাসক বলছেন, এই প্রশিক্ষণ চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় টাকার একটা অংশ যোগান দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy