১৯৯৫ রেসলিং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
১৯৯৬ অলিম্পিক্সে সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দাঁড়িয়েছিলেন অলিম্পিক্স পোডিয়ামে। গলায় সোনার পদক।
পরবর্তীকালে জনপ্রিয় হয়েছেন ডব্লুডব্লুএফ-এ লড়াই করে।
তিনি— কার্ট অ্যাঙ্গল। রিংয়ে যাঁর কাছে হারতে হয়েছে স্বয়ং রক এবং আন্ডারটেকারের মতো রেসলারকে। ভারতীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোনে যে গলাটা ভেসে এল, সেটা রীতিমতো গম্ভীর, ভয় ধরানো। শুনলে আপনা থেকে একটা ঠান্ডা স্রোত আপনার শিরদাঁড়া দিয়ে নেমে যেতে বাধ্য। মানে যে রকমটা হওয়া উচিত ১০৯ কেজির, ছ’ফুটিয়া টাক মাথা এক ধ্বংসের কারিগরের সঙ্গে। ‘‘আমি যখন রিংয়ে নামি, তখন কিন্তু অন্য এক কার্ট অ্যাঙ্গল হয়ে যাই। একটাই লক্ষ্য থাকে, সামনে যে থাকে মেরে যেন তার মুখটা ফাটিয়ে দিতে পারি।’’
গরগরে কণ্ঠস্বরটা থামলে একটু সাহস করে জানতে চাওয়া গেল, আচ্ছা, লোকে যে বলে রেসলাররা রিংয়ে নেমে বেশিটা নাটক করে, সেটা কতটা ঠিক? গর্জন ভেসে এল, ‘‘চোটগুলো কিন্তু আসল। কারও ঘাড় ভাঙে, কারও পা। সেগুলো কী বলবেন? সবাই আমাদের অভিনেতা ভাবে। কিন্তু আমি বলব, একটা অভিনেতা রিংয়ে নেমে আমাদের কাজটা করে দেখাক তো।’’
রেসলাররা এখন অনেকেই রিং ছেড়ে পর্দায় আসছেন। রক বা স্টোন কোল্ড স্টিভ অস্টিনের মতো। আপনিও কি তাই করবেন? ‘‘কয়েকটা ছবিতে কাজ করে বেশ ভালই লেগেছে। হলিউড কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য এক জগত। আরও প্রস্তাব পেলে ভেবে দেখব।’’ উঠে এল বলিউ়ড প্রসঙ্গ। ভারতে আগে এসেছেন। বলিউড কী ভালই জানেন। সলমন খান যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। বলিউ়ড প্রসঙ্গ উঠতেই অবশ্য অন্য মেজাজে মানব দানব। বলে দিলেন, ‘‘ভারতে গিয়ে দেখেছিলাম বলিউড নিয়ে কী উন্মাদনা। ওদের ফিল্মস্টাররা খুব জনপ্রিয়।’’ সলমন কেন আপনার সঙ্গে দেখা করেছিল? জল্পনা হচ্ছে, আপনাকে নাকি সলমনের প্রযোজনায় একটা হিন্দি সিনেমা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে? খুব একটা ভাঙতে চাইলেন না অলিম্পিক সোনাজয়ী রেসলার। বললেন, ‘‘ভবিষ্যতের কথা কেউ বলতে পারে না। এখনই বলতে পারছি না বলিউডে কাজ করব কি না। কিন্তু ওদের অনেকের সঙ্গেই আলাপ আছে।’’
নিজে অলিম্পিক্স সোনাজয়ী। আলাপ আছে সুশীল কুমারের সঙ্গেও। অলিম্পিক্স নিয়ে বলছিলেন, ‘‘একটা সোনার পদক জিততে গিয়ে উনিশ বছর কষ্ট করেছি। স্কুলের সময় থেকেই রেসলিং করার ইচ্ছা ছিল। তখন থেকে নিজেকে তৈরি করেছি। দিন রাত ঘুমোইনি। নিজের মুভমেন্ট থেকে শক্তি— সব কিছু নিয়েই খেটেছি। তার পর হাতে যখন সোনার পদক উঠল, সেটা স্বপ্নের মতোই ছিল।’’
তিনি মনে করেন, তাঁর বন্ধুরও সোনা জয়ের স্বপ্ন সফল হবে। ‘‘সুশীল আমার ভাল বন্ধু। দারুণ লড়াই করে ও। গত বার যখন ভারতে এসেছিলাম ওর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল। ওর ট্রেনিংও দেখেছিলাম। বেশ প্রতিভাবান ছেলে। অলিম্পিক্সেও ও ভাল করেছিল। আমি নিশ্চিত, এক দিন ও সোনা পাবেই।’’
বাকি কুস্তিগিররা যখন আরও অলিম্পিক্স পদকের জন্য ঝাঁপিয়েছেন, অ্যাঙ্গল বেছে নিয়েছিলেন ডব্লুডব্লুএফ-এর মতো সংস্থা। এখন তিনি লড়েন টিএনএ-তে। কোনও আক্ষেপ হয় কি দেশকে আরও অলিম্পিক্স পদক এনে দিতে পারলেন না বলে? ‘‘সে রকম কিছু নয়। সোনার পদক একটা জেতাও খুব কঠিন। তা ছাড়া ডব্লুডব্লুএফে অনেক ভাল মুহূর্ত উপভোগ করেছি। অনেক দর্শকের সামনে লড়াই করেছি। সারা বিশ্ব আমায় চিনেছে। এগুলোই বা কম কী?’’