Advertisement
E-Paper

সল্ট, পাটীদারের দাপটে মুম্বইকে হারিয়ে জয়ে ফিরল বেঙ্গালুরু, অর্ধশতরান কোহলির, হারের হ্যাটট্রিক রোহিতদের

বৈভব সূর্যবংশীর কাছে হেরে গেলেও রোহিত শর্মার কাছে হারলেন না। আইপিএলে বিরাট কোহলি বনাম রোহিত শর্মা দ্বৈরথে জয় হল বিরাটেরই। রাজস্থানের কাছে হারের পর জয়ে ফিরল বেঙ্গালুরু।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৫১
cricket

বেঙ্গালুরুর ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।

বৈভব সূর্যবংশীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোহিত শর্মার কাছে হারলেন না। আইপিএলে বিরাট কোহলি বনাম রোহিত শর্মা দ্বৈরথে জয় হল বিরাটেরই। রাজস্থানের কাছে হারের পর জয়ে ফিরল বেঙ্গালুরু। তবে তৃতীয় স্থানেই থাকল। তাদের চার ম্যাচে ছয় পয়েন্ট। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু তোলে ২৪০/৪। জবাবে মুম্বই থেমে গেল ২২২/৫ রানে। বেঙ্গালুরু জিতল ১৮ রানে।

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে খেলেন, এমন পাঁচ জন ক্রিকেটার রয়েছেন মুম্বই দলে। তবু চলতি আইপিএলে চারটি ম্যাচ খেলে তারা জিতেছে মাত্র একটিতে। সেটাও ভঙ্গুর কেকেআরের বিরুদ্ধে। কোচ মাহেলা জয়বর্ধনেকে এ বার দলের সমস্যা নিয়ে ভাবতেই হবে। এ দিন মুম্বইকে ডুবিয়েছে বোলারদের খারাপ পারফরম্যান্স। বুমরাহের মতো বোলারও প্রতি ওভারে ৯-এর কাছাকাছি রান দিয়েছেন। এ দিনও তিনি উইকেট পাননি। অর্থাৎ চারটি ম্যাচের একটিতেও উইকেট এল না। বাকি বোলারেরাও পাতে দেওয়ার মতো নয়। বেঙ্গালুরুর ফিল সল্ট এবং রজত পাটীদার ছেলেখেলা করেছেন।

মাথার উপর ২৪০ রানের বোঝা নিয়ে রান তাড়া করতে নেমেছিল মুম্বই। পাওয়ার প্লে-র সুবিধা ওঠানোর চেষ্টা করেন দুই ওপেনার রায়ান রিকেলটন (৩৭) এবং রোহিত। কিন্তু রোহিতের পেশিতে টান ধরতেই শুরু হয় সমস্যা। তিনি আহত হয়ে উঠে যাওয়ার পরেই রিকেলটন এবং তিলক বর্মাকে (১) হারায় মুম্বই। সূর্যকুমার এবং হার্দিক মাঝে কিছুটা সময় সামাল দিয়েছিলেন। কিন্তু যে রান রেট দরকার ছিল তার ধারেকাছে পৌঁছতে পারছিল না মুম্বই। সূর্য ৫টি চারের সাহায্যে ২২ বলে ৩৩ করে ফিরে যান। হার্দিক শুরুটা ধীরে করলেও ২২ বলে ৪০-এর বেশি করতে পারেননি। মুম্বই দলে পরের দিকে এমন কোনও ব্যাটার নেই যাঁরা এর পর দলকে টানতে পারেন। শেরফানে রাদারফোর্ড অর্ধশতরান করলেও তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

এ দিন ম্যাচের শুরুতে প্রয়াত গায়িকা আশা ভোসলেকে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। দুই দলের খেলোয়াড়েরাই হাতে কালো আর্মব্যান্ড পরে নেমেছিলেন। ম্যাচে অবশ্য মুম্বই বোলারদের কোনও দয়ামায়া দেখাননি বেঙ্গালুরুর ব্যাটারেরা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই বোলারদের ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছেন।

সল্ট এবং কোহলির ওপেনিং জুটি এমনিতেই আইপিএলের অন্যতম সেরা। রবিবার এই জুটির ধ্বংসাত্মক রূপ দেখেছে ওয়াংখেড়ে। তারিফও করেছে। তবে সল্ট যতটা আগ্রাসী ছিলেন কোহলি ততটা ছিলেন না। ছয় মেরে ইনিংস শুরু করলেও সেই আগ্রাসন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। সল্টের তাণ্ডবের পাশে কোহলির আগ্রাসন ফিকে লেগেছে। এক সময় জল্পনাও হচ্ছিল যে তাঁকে অবসৃত আউট করে উঠিয়ে নেওয়া হবে কি না। দলের সেরা ব্যাটারের প্রতি তেমন কোনও কাজ করেনি বেঙ্গালুরু। কোহলি ৫টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ৩৮ বলে ৫০ করেন। তবে স্ট্রাইক রেট ১৩১.৫৮, যা কোহলির থেকে বিশ্বাস করা একটু কষ্টকর। ডাগআউটে ফেরার পর রেগে গিয়ে গ্লাভস, হেলমেট ছুড়ে ফেলেন কোহলি।

সল্ট নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য উচ্চতায়। মিচেল স্যান্টনারের প্রথম ওভারে টানা তিনটি ছয় মারেন। জসপ্রীত বুমরাহ বাদে মুম্বইয়ের কোনও বোলারকেই পরোয়া করেননি তিনি। সল্টের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে যায় মুম্বইয়ের বোলিং। ৯ ওভারে ১০০ পেরিয়ে যায় বেঙ্গালুরুর রান। বাধ্য হয়ে শার্দূল ঠাকুরকে ডাকেন হার্দিক পাণ্ড্য। শার্দূল নিজের প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন। ওয়াইড ইয়র্কারে চালাতে গিয়ে কভারে হার্দিকের হাতে ক্যাচ দেন সল্ট।

ইংরেজ ব্যাটারের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পর শুরু হয় পাটীদারের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিং। নেতৃত্ব যেন বদলে দিয়েছে মধ্যপ্রদেশের ব্যাটারকে। প্রথম বলেই শার্দূলকে চার মেরে শুরু। পরের ওভারে মায়াঙ্ক মারকান্ডেকে টানা তিনটি ছয় মারেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল কোহলির আগেই অর্ধশতরান হয়ে যাবে তাঁর। শেষ পর্যন্ত ১৭ বলে অর্ধশতরান করে আউট হয়ে যান।

শেষের দিকে টিম ডেভিডের আগ্রাসী ব্যাটিং দেখা যায়। শুরুটা ধীরে করলেও পরের দিকে চালিয়ে খেলেন তিনি।

RCB Mumbai Indians Virat Kohli Phil Salt Rohit Sharma Rajat Patidar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy