• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি সঙ্গত: অমিত

Amit Shah
ফাইল চিত্র।

এত দিন বিজেপির রাজ্য নেতারা বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তুলছিলেন। এ বার খোদ অমিত শাহ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতাদের দাবিকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে আখ্যা দিলেন। 

এক সাক্ষাৎকারে শাহ এক দিকে বিজেপি নেতা হিসেবে তাঁর সতীর্থদের দাবিকে সমর্থন করে মন্তব্য করেছেন, ‘‘রাজ্যের পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে তাঁদের এই দাবি ন্যায়সঙ্গত।’’ আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার হিসেবে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী পরিস্থিতির বিচার করতে হবে। রাজ্যপাল কী রিপোর্ট দিচ্ছেন, তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’’ এর সমালোচনা করে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের বক্তব্য, শাহ আগে উত্তরপ্রদেশের দিকে তাকান।  

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় নিয়মিত ভাবেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন। শাহর এই মন্তব্যের পরেই রবিবার রাজ্যপাল ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিন পৃষ্ঠার চিঠি পাঠিয়ে নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধীদের জব্দ করতে দমনমূলক নীতি নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনও শাসক দলের রাজনৈতিক তাঁবেদারে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: মমতাকে পুজোয় শাড়ি, মিষ্টি হাসিনার

আরও পড়ুন: উৎসবে বেপরোয়া মনোভাব ও ভিড়ে বিপদ হতে দেরি হবে না

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য এবং তার পরে রাজ্যপালের চিঠি ঘিরে নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বিজেপি কি সত্যিই ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা ভাবছে? নাকি নিছক রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলে তৃণমূলের উপরে চাপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আবহ তৈরি করতে চাইছে?

কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বাবুল সুপ্রিয়রা বেশ কিছু দিন ধরেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবিতে সরব। তাঁরা রাষ্ট্রপতি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সেই দাবির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একটা বড় অংশ এখনও মনে করেন, ভোটের আগে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলে তৃণমূল নেত্রী মমতা সহানুভূতি পেয়ে যাবেন। তার বদলে রাষ্ট্রপতি শাসনের জুজু জিইয়ে রাখাটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ।

বিজেপি নেতারা বলছেন, শাহও সেই কারণেই সরাসরি রাষ্ট্রপতি শাসন জারির কথা বলেননি। রাজ্যপালের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এই আইনি যুক্তি দিয়েছেন। আবার, তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সময় এখনও কি আসেনি, তখন তিনি বলেছেন, ‘‘আমি এ কথা বলিনি।’’ যুক্তি দিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি ভুল নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা সরকারকে দুষে শাহ বলেছেন, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। সব জেলায় বোমা তৈরির কারখানা। বিরোধী নেতাদের খুন করা হচ্ছে। দেশের আর কোনও রাজ্যে এমন হয় না। আমপানের ত্রাণের ব্যবস্থা ঠিকমতো হয়নি। কেন্দ্র যে খাদ্যশস্য পাঠিয়েছিল, তা নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। করোনা মোকাবিলাতেও প্রয়োজন মাফিক ব্যবস্থা হয়নি। 

তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘‘বিজেপি মরিয়া হয়ে এখন টিবি ও ক্যান্সারে মৃত্যুকে রাজনৈতিক হত্যার তকমা দিচ্ছে। অমিত শাহ আগে বিজেপির বাংলা শাখায় অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাচ্ছেন না কেন? তৃণমূল শান্তি রক্ষায় দায়বদ্ধ। অমিত শাহ আগে উত্তরপ্রদেশ-গুজরাতে নজর দিন। রাজনৈতিক হত্যার বিষয়টা উনি নিজে ভাল করে জানেন।’’ তৃণমূলের লোকসভার সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অমিত শাহ নিজে আইন ভঙ্গ করছেন এবং তা করছেন রাজ্যপালের মাধ্যমে। ক্ষমতা থাকলে এখনই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেখান। উত্তরাখণ্ডের পরিণতি ভুলে গিয়েছেন ওঁরা।’’

কংগ্রেস এবং সিপিএম বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার চেষ্টার বিরুদ্ধে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘বাংলার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি অবশ্যই খারাপ। বাংলায় যে সব ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে আমরা কেন্দ্রের কাছেও দরবার করেছি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি শাসন মানা যায় না। বিজেপি নেতারা রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বললে আগে উত্তরপ্রদেশে সেই কাজটা করে আসতে হবে।’’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি শাসনের আমরা বরাবরই বিরোধী। বাংলায় আইনশৃঙ্খলার প্রতি দিন অবনতি হচ্ছে। তার জন্য আমরা মনে করি, এই সরকারকে পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু বিজেপির হাতে গেলে আইনশৃঙ্খলা যে নিরাপদ হবে না, সেটা তো উত্তরপ্রদেশ দেখলেই বোঝা যায়। রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা তুললে আগে উত্তরপ্রদেশ নিয়ে জবাব দিতে হবে। আর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি মনে করে থাকেন, তাঁরা তৃণমূলের সরকারকে ঘুরপথে ফায়দা করে দেবেন, একমাত্র তা হলেই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন