রাজ্যের আরও এক বিএলও-র মৃত্যু! পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের কাজের চাপে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবুল বরকত।
আবুলের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকের সুজাপুরে। সুজাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বামনগ্রাম–মসিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৫৩ নম্বর বুথের বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরে নয় মৌজা সুবহানিয়া হাই মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন আবুল। পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন আবুল। মালদহ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মাসখানেক আগে ওই সুজাপুরেই কালিয়াচক হাই স্কুলের শিক্ষক আনিকুল আলম তথা বিএলও হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকার ফলে চাপ বাড়ছে বিএলও-দের উপর। আবুল যে বুথের বিএলও ছিলেন, সেখানে ভোটার সংখ্যা কমবেশি ১৩০০। তার মধ্যে ৮৫০ জনের নামই চূড়ান্ত তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’। ওই নিয়ে ভোটারদের চাপের মুখে পড়েন বিএলও।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকের চাকরি থেকে অবসর নেন আবুল। ইদের ছুটির পর তাঁর আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করার কথা ভেবেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার মালদহ মেডিক্যাল কলেজের সামনে কান্নাভেজা চোখে বিএলও-র পুত্র হাসিব আখতার বলেন, ‘‘বাবা খুব টেনশনে ছিলেন। এসআইআর-এর কাজটার অনেক চাপ ছিল। বিডিও অফিসে নথি জমা দেওয়া ছিল। এখন রমজানের সময়। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে কাগজ নিয়ে অনেকে হাজির হচ্ছেন। অনেকের নাম নেই। তাঁদের অত্যাচার... গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছিলেন বাবা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা পর্যন্ত কাজ করতে দেখেছি। উনি কী কাজ করছেন, সেটা তো আমজনতা দেখছেন না। প্রচণ্ড চাপে লোকটা চলে গেলেন। দায়ী কাকে করব? সরকার আর কমিশনই একটার পর একটার ঘটনার জন্য দায়ী।’’
আরও পড়ুন:
বিএলও-র মৃত্যু এবং পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। শাসকদল তৃণমূল ওই বিএলও-র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা কমিশন এবং মোদী সরকারকে এই মৃত্যুর জন্য কাঠগড়ায় তুলেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা