রোগ ও রোগী সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দ্বন্দ্ব সুবিদিত। অতীতে কোভিড অতিমারি বা ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের সময়েও চিকিৎসা-তথ্য নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের লড়াই দৃষ্টিকটু পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এই পরিস্থিতিতে দেশে মেডিক্যাল পঠনপাঠন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ‘জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন’ (এনএমসি) বাধ্যতামূলক নিয়ম করেছে যে রোগ এবং রোগীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকে পাঠাতেই হবে। সেই তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড না করলে পুরনো মেডিক্যাল কলেজগুলির অনুমোদন পুনর্নবীকরণ হবে না এবং নতুন মেডিক্যাল কলেজগুলি পঠনপাঠন চালুর অনুমোদন পাবে না। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই নির্দেশিকা ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য মহলের অনেকে।
সম্প্রতি সব মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও ডিনদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে এনএমসি-র সচিব রাঘব লাঙ্গের জানিয়েছেন, তিন বছর আগেই এ ব্যাপারে এনএমসি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ বছর থেকে তা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজকে নিজস্ব এইচএমআইএস পোর্টাল চালু করতে হবে এবং তাকে ‘আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন পোর্টাল’ (এবিডিএম)-এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এই পোর্টাল স্বাস্থ্য মন্ত্রকের আওতাধীন ‘ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি’ (এনএইচএ)-র নজরদারিতে আছে। বলা হয়েছে, রোগীদের আধার নম্বরের মাধ্যমে ‘আয়ুষ্মান ভারত হেল্থ অ্যাকাউন্ট’ (আভা)-এ নথিভুক্ত করে রোগ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের এইচএমআইএস-এ তুলতে হবে। সেই তথ্য ‘আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন পোর্টাল’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত হেল্থ অ্যাকাউন্ট’-এ সরাসরিউঠে যাবে।
সূত্রের খবর, ৩ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এই চিঠিতে এই কাজ চালু করার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা পেরনোর পরেও রাজ্যের কোনও মেডিক্যাল কলেজ এই পোর্টাল চালু করেনি। রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে এ ব্যাপারে ফোন এবং ওয়টস্যাপ করে জবাব মেলেনি।
এনএমসি-র ‘মেডিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড’-এর সভাপতি ময়াকুন্দ কৃষ্ণমূর্তি রমেশ বলছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বোঝা উচিত যে রাজনীতি তার নিজের জায়গায় আর মানুষের স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নীতি অন্য জায়গায়। দু’টোকে এক করা যায় না।’’ তিনি জানান, এই তথ্যের ভিত্তিতে কোন অঞ্চলে কী ধরনের রোগ বেশিহচ্ছে, কোন কোন রোগ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার, কোথাও কোন সংক্রমণ ঘটছে ইত্যাদি সব তথ্য মিলবে এবং সেই মতো নীতি নির্ধারণ করা যাবে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, অনেক নতুন মেডিক্যাল কলেজ ‘নকল রোগী’ দেখিয়ে অনুমোদন আদায় করতে চাইছে। এই পদক্ষেপের ফলে সেই ‘জালিয়াতি’ ঠেকানো সম্ভব।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসেই পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে তৈরি হওয়া নতুন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অভিযান চালিয়ে প্রচুর নকল রোগীর খোঁজ পান এনএমসি-র আধিকারিকেরা। তার পরই আদালতের নির্দেশে সেখানে ১৬টি বিষয়ের স্নাতকোত্তর পঠনপাঠন স্থগিত করে দেওয়া হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)