E-Paper

তোলাবাজি-বার্তা ঘিরে তৃণমূলের গ্রুপে হইচই

অডিয়ো ক্লিপে জনৈক ‘সঞ্জয়বাবু’-কে উদ্দেশ করে মহিলা কণ্ঠে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘কৃষ্ণনগর ২ ব্লক নিয়ে বলছি... আপনার ওখানে হাইওয়েতে প্রত্যেকটা হোটেলে মেয়ের ব্যবসা চলছে, পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১০:১০

—প্রতীকী চিত্র।

জাতীয় সড়কের পাশে হোটেলে মহিলাদের নিয়ে ব্যবসা, জুয়া খেলা, ধান কেনা নিয়ে নোংরামি এবং আবাস যোজনা—প্রতিটি ক্ষেত্রে দলের লোক টাকা তুলছে বলে তৃণমূলেরই ওয়টস্যাপ গ্রুপে বার্তা দিচ্ছে মহিলা কণ্ঠ। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে ছড়ানো সেই বার্তা নিয়ে শোরগোল পড়ে নদিয়ায়। তৃণমূল সূত্রের দাবি, কৃষ্ণনগরের দলীয় সাংসদ তথা দলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী মহুয়া মৈত্রের মোবাইল নম্বর থেকে ওই ‘অডিয়ো ক্লিপ’ দেওয়া হয়েছে। গলাও তাঁর। যদিও রাত পর্যন্ত মহুয়ার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি, জবাব মেলেনি মোবাইল-বার্তার।

অডিয়ো ক্লিপে জনৈক ‘সঞ্জয়বাবু’-কে উদ্দেশ করে মহিলা কণ্ঠে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘কৃষ্ণনগর ২ ব্লক নিয়ে বলছি... আপনার ওখানে হাইওয়েতে প্রত্যেকটা হোটেলে মেয়ের ব্যবসা চলছে, পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে। জুয়া চলছে, পার্টির লোক টাকা নিচ্ছে। ধান কেনা নিয়ে নোংরামি চলছে, আমার কাছে অনেক চাষি এসেছিল। আপনাদের ওখানে আবাস যোজনা থেকে টাকা তোলারও অনেক অভিযোগ আসছে।”

ঘটনাচক্রে, তৃণমূলের কৃষ্ণনগর ২ ব্লক সভাপতি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এবং‌ তিনি কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাসের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। অডিয়ো ক্লিপে ‘সঞ্জয়বাবু’-কে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে, “আপনার কোন শ্যালক আছে তন্ময় মুখার্জি, নাম শুনিনি, তিনিও নাকি যুক্ত। আপনারা কিন্তু এই তিন-চারটে জিনিস এখন বন্ধ করান।”

ধুবুলিয়া থানা এলাকায় জাতীয় সড়কের পাশের কিছু ধাবা ও হোটেলে যৌন ব্যবসার অভিযোগ আগে উঠেছে। ধুবুলিয়া ৭ নম্বর ব্লকের পাশাপাশি, আরও নানা জায়গায় জুয়ার আসরের অভিযোগও মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। ধান কেনা ও আবাস যোজনার ঘর নিয়ে তোলাবাজির নালিশও জেলায় শোনা যায় প্রায়ই। সঞ্জয় বলেন, “এ সব দেখার দায়িত্ব পুলিশ-প্রশাসনের। কেউ যদি এ সবের সঙ্গে যুক্ত থাকে তা হলে তার বিরুদ্ধ কঠোর ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।” আর তাঁর শ্যালক, তৃণমূলের দলিমৌলা ৯৮ নম্বর বুথ সভাপতি তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিরোধীরা যদি এই বদনাম দিত, তা হলেও কথা ছিল। দলের নেত্রী এই ধরনের মিথ্যা অপবাদ দিলেন, বিশ্বাসই হচ্ছে না।” কৃষ্ণনগর পুলিশ-জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশীর দাবি, “অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নিই। এমন কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই।”

সমাজমাধ্যমে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কটাক্ষ, “মহুয়া মৈত্র তাঁর দলের লোকেদের দুর্নীতির কথা এবং সেই টাকা দলের তহবিলে যাওয়ার কথা বলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যিনি নিজেকে সততার প্রতিমূর্তি হিসেবে দেখাতে চান, তিনি সব জানেন।” বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার মিডিয়া আহ্বায়ক সন্দীপ মজুমদারের মতে, “এ তো পুলিশের ব্যর্থতা। মুখ্যমন্ত্রীই পুলিশমন্ত্রী। মহুয়া কার্যত তাঁকেই ব্যর্থ বললেন!”

বিধায়ক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “দলের ওয়টস্যাপ গ্রুপে এমন বলা ঠিক হচ্ছে না। যে এই কথা বলছে, তার নামেও তো কেউ এ সব বলতে পারে!” তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, “আমার এ সব কিছু জানা নেই। মহুয়াও আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেননি।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy