কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ আসার পরেই শুক্রবার রাজীব কুমারের পার্ক স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী সঞ্চিতা কুমারের হাতে তলবি চিঠি ধরিয়ে এসেছিল সিবিআই। শনিবার, ছুটির দিন সত্ত্বেও সকাল ১০টা থেকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অপেক্ষা করছিলেন অফিসারেরা। কিন্তু যাননি রাজীব। বরং তাঁর আইনজীবী ই-মেলে জানিয়েছেন, আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সিবিআইয়ের সামনে হাজির হতে পারবেন না। রাজীব কলকাতার বাইরে রয়েছেন বলে তাঁর এক আইনজীবী তদন্তকারী সংস্থাকে জানান। 

এর পরেই খবর রটতে থাকে, কলকাতার ‘প্রভাবশালীদের’ কোনও ঠিকানায় সিআইডি প্রধান আশ্রয় পেয়েছেন। নবান্নের খবর, সিআইডি’র তিন কর্তা এবং দুই আইনজীবীকে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার চর্চা করছেন রাজীব। আগামী মঙ্গলবার বারাসত আদালতে আগাম জামিন চাইতে পারেন তিনি, কারণ সারদার মূল মামলাটি ওই আদালতেই আছে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পথও খোলা রাখছেন তিনি। দিল্লির কয়েক জন আইনজীবীর সঙ্গে কথা চলছে। তবে তাঁদের বেশির ভাগের মত, নিম্ন আদালতে জামিন নেওয়ার ব্যবস্থা করুন রাজীব। 

সিবিআই নিজেদের মতো করে নজরদারি চালাচ্ছে। তবে আপাতত আগ বাড়িয়ে কিছু করতে রাজি নয় তারা। এই তদন্তে দিল্লির বার্তা নিয়ে শনিবার সকালে কলকাতায় পৌঁছন সংস্থার যুগ্ম-অধিকর্তা সাই মনোহর। রাজীবের ই-মেল পেয়ে তিনি এবং আর এক যুগ্ম-অধিকর্তা পঙ্কজ শ্রীবাস্তব পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এক শীর্ষ কর্তার কথায়, ‘‘পি চিদম্বরমের জন্য সাড়ে ১৭ মাস অপেক্ষা করেছি। সারদা তদন্তে রাজীব কুমার একটি ‘সংযোগকারী বিন্দু’ মাত্র। ফলে আইনি পথেই আমরা এগোব।’’ 

রাজীবের তৎপরতা

• শনিবার সিবিআইয়ের সামনে হাজিরা দিলেন না
• ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলেন
• রাজীবের ২ আইনজীবীকে সিআইডি’র তিন আইপিএস অফিসার সহায়তা করছেন। একজন সদ্য সিবিআই-ফেরত
• মঙ্গলবার বারাসত আদালতে অগ্রিম জামিন চাওয়ার ভাবনা
• সুপ্রিম কোর্টেও আবেদনের পথ খোলা রাখছেন রাজীবের আইনজীবীরা
• আপাতত প্রকাশ্যে আসবেন না রাজীব। এমনই ভাবনা তাঁর পরামর্শদাতাদের
সিবিআইয়ের পাল্টা
• সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট
• রাজ্যের অসহযোগিতার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে অবমাননার মামলাটি ফের তোলার তোড়জোড়
• রাজীব কুমারের গতিবিধির প্রমাণ সংগ্রহ, প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের নথি জোগাড়
• বারবার নোটিস 
পাঠিয়ে রাজীবের 
বিরুদ্ধে অসহযোগিতার ‘তত্ত্ব’ স্পষ্ট করা
• সারদার ক্যাশ বুক, ডায়েরি, ভিডিয়ো রেকর্ডিং, সিডিআর 
দিলে রাজীবকে হেফাজতে না-নেওয়া
• সহযোগিতা না-করলে তাড়াহুড়ো না-করে আইনি পথে এগিয়ে যাওয়া

কলকাতা পুলিশের তরফে এ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজীবের বাড়ির সামনে সাদা পোশাকের বিশাল বাহিনী মোতায়েন ছিল। পুলিশ ছাড়া বহিরাগত কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অনেকের আশঙ্কা ছিল, সিবিআই হানা দিলে হয়তো ৩ ফেব্রুয়ারির মতো ফের কলকাতা পুলিশের সঙ্গে তাদের ‘লড়াই’ বাধবে। যদিও স্বরাষ্ট্র দফতরের এক কর্তার কথায়, ‘‘সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা ঝুলে রয়েছে। এখন কোনও ভাবেই সিবিআইয়ের সঙ্গে অসহযোগিতা করা সম্ভব নয়।’’ রাজীবকে অবশ্য দিনভর তাঁর বাড়িতে ঢুকতে বা বেরোতে দেখা যায়নি। 

বিকেল ৩টে নাগাদ দুই সিবিআই অফিসার পার্থ মুখোপাধ্যায় ও তথাগত বর্ধন সিজিও কমপ্লেক্স থেকে নিজাম প্যালেসে যান। সেখান থেকে পঙ্কজ শ্রীবাস্তবকে নিয়ে বালিগঞ্জ প্লেসে সিবিআইয়ের আইনজীবী ওয়াই জে দস্তুরের বাড়িতে যান তাঁরা। বৈঠক সেরে ফেরার সময়ে পঙ্কজ শুধু বলেন, ‘‘আমরা কী করব, তা প্রকাশ্যে বলে করি না।’’ সূত্রের দাবি, রাজীবকে ফের তলবি চিঠি পাঠাতে পারে সিবিআই।